১৩ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদের পর দাম্মাম বিমানবন্দরও বন্ধ: ঢাকাগামী ডাইভার্টেড ফ্লাইট নামল দোহায়

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিয়াদের পর দাম্মাম বিমানবন্দরও বন্ধ: ঢাকাগামী ডাইভার্টেড ফ্লাইট নামল দোহায়

সৌদি আরব ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরের পর এবার বন্ধ রয়েছে দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম।

দাম্মামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে কাতারের দোহায়। তবে জেদ্দা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে মদিনায় ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে বন্ধ রয়েছে ফ্লাইট ওঠানামা। দাম্মাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে কাতারের দোহা বিমানবন্দরে।

সেখানে কিছু সময় থাকার পর ফের দাম্মামের ফ্লাইটটি উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে সব রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়নি।

আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে জেদ্দা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি ৩৩৬।

এছাড়া ঢাকা থেকে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৫৩৭। এদিকে বিমান বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি আজ বেলা ১২টার মধ্যে জানানো হবে।

সিএনএন এক্সপ্লেইনার

হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল সৌদি আরব। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেই এখন বড় ধাক্কা দিচ্ছে ইয়েমেনের নতুন সংঘাত। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে জোটে ফাটল, হুতিদের মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থান রিয়াদকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বড় ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইয়েমেন থেকে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই পরিকল্পনার জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রায় ১১ বছর ধরে ইয়েমেনের সংঘাত সামরিক অভিযান ও কূটনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। ইরানের মিত্র হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে রিয়াদ তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যায় এবং তেহরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের ধারাবাহিক কিছু ভুল হিসাব-নিকাশ বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইয়েমেনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বছরের শেষ দিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ফাটল দেখা দেয়। পাশাপাশি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে, তা নিয়েও রিয়াদের মূল্যায়নে ভুল ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ এবং লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলজুড়ে অভিযান শুরু করে তারা। কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২০২২ সালের পর এটিই ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও পাইপলাইনে হামলা চালায়। এতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনীও হুতিদের লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি সিএনএনকে বলেন, হুতিদের আকস্মিক হামলার জন্য সৌদি আরব প্রস্তুত ছিল না। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গেও যথাযথ সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, কয়েকটি অঞ্চল হারানোর কারণে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের হাতে এখন এমন উন্নত অস্ত্র রয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার খেসারত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভর করে আসাও সৌদি আরবের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা পাওয়ার পরও নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়েছে রিয়াদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলেন। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বরং ওয়াশিংটন ওমানে হুতিদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করে।

হুতিরাও স্পষ্ট করে জানায়, তাদের মূল লড়াই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এর ফলে লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজগুলো বাধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ পায়।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, সৌদি সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বকে ভিত্তি করে নিজেদের সামরিক কৌশল সাজিয়েছে। ফলে এককভাবে যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

বিকল্প মিত্র খুঁজছে সৌদি

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন অন্য দেশগুলোর সহযোগিতাও চাইছে রিয়াদ। গত মাসে সৌদি যুবরাজ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেন। পরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে ফ্রান্স সৌদি আরবে সামরিক কর্মী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য উড়োজাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদি আরবে কাজ করছেন।

রিয়াদে জরুরি বৈঠকের পর গত সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়। এ বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো।

অন্যদিকে ইউএই-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুতিবিরোধী অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামরিক সাফল্য কি আনবে স্থায়ী সমাধান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দেশগুলোর সামরিক সহায়তা কিংবা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সাময়িক সাফল্য দিয়ে ইয়েমেন সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো বড় বাধা। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিণতিও এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমাইসি সিএনএনকে বলেন, জোটের বিভিন্ন অংশের কমান্ড সেন্টারগুলোকে একীভূত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধও মেটাতে হবে। তাঁর মতে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে সামরিক অর্জনগুলো শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবকে চাপে রাখতে হুতিদের সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ ইরানের আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলাদা কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে পারে। অন্যদিকে হুতি নেতৃত্বকে দুর্বল করতে সামরিক অভিযানও আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, নিকট ভবিষ্যতে এই দুই পথের কোনোটিই ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে না।

ফলে সৌদি আরবের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—নিজেদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে ইয়েমেনের নতুন যুদ্ধের মোকাবিলা করবে রিয়াদ। মিত্রদের বিভক্তি, হুতিদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত ভূমিকার মধ্যে সৌদি আরবকে আপাতত আরও জটিল ও অনিশ্চিত পথেই এগোতে হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে রিয়াদ বিমানবন্দর হামলার সচিত্র ভয়াবহতা: নিহত ১২, ফ্লাইট বাতিল ২৯১টি

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সিসিটিভি ফুটেজে রিয়াদ বিমানবন্দর হামলার সচিত্র ভয়াবহতা: নিহত ১২, ফ্লাইট বাতিল ২৯১টি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। শনিবারের (১০ অক্টোবর) ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।

সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়ার প্রকাশ করা ভিডিওতে হামলার সময় বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। হঠাৎ আগুনের ঝলক দেখা দেওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। হামলায় বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশি, একজন করে ফিলিস্তিনি, মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয় ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন।

ভিডিওতে আতঙ্কের দৃশ্য

আল-অ্যারাবিয়ার প্রকাশ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি ফটকের সামনে যাত্রীরা ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে ওমরাহযাত্রীরাও ছিলেন।

এ সময় হঠাৎ উজ্জ্বল আগুনের ঝলক দেখা যায়। এরপর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। ভিডিওতে বিমানবন্দরের ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল

হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

ফ্লাইট চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রিয়াদ বিমানবন্দরের অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া, ফ্লাইদুবাই, লুফথানসা গ্রুপ ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসসহ কয়েকটি বিমান সংস্থা রিয়াদ ও সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

পাঁচদিনে চারবার হামলা

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি চতুর্থ হামলা। এসব হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে।

শনিবারের হামলাটি সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এর পরদিন রোববারও বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় পাকিস্তানের এক নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন আরও ১১ জন।

রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। প্লেন চলাচল স্বাভাবিক করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আল-জাজিরা, আল-অ্যারাবিয়া

রিয়াদের পর দাম্মাম বিমানবন্দরও বন্ধ: ঢাকাগামী ডাইভার্টেড ফ্লাইট নামল দোহায়

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিয়াদের পর দাম্মাম বিমানবন্দরও বন্ধ: ঢাকাগামী ডাইভার্টেড ফ্লাইট নামল দোহায়

সৌদি আরব ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরের পর এবার বন্ধ রয়েছে দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম।

দাম্মামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে কাতারের দোহায়। তবে জেদ্দা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে মদিনায় ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে বন্ধ রয়েছে ফ্লাইট ওঠানামা। দাম্মাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে কাতারের দোহা বিমানবন্দরে।

সেখানে কিছু সময় থাকার পর ফের দাম্মামের ফ্লাইটটি উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে সব রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়নি।

আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে জেদ্দা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি ৩৩৬।

এছাড়া ঢাকা থেকে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৫৩৭। এদিকে বিমান বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি আজ বেলা ১২টার মধ্যে জানানো হবে।

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দরে অন্তত ৭টি পৃথক হামলা চালিয়েছে।

রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন সূত্রে এই এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমানবন্দর হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ হামলা চালানো হয়। এতে বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ অন্তত ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরেই পৃথক আরেকটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন বাসিন্দা আহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও হামলা জোরদার করে হুথিরা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা নিহত হন এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে সোমবার সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

পরপর রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচলের ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে হুথি গোষ্ঠী। হামলার তীব্রতায় সৌদি আরবে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করেছে।

আরও পড়ুন

সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মওলানা

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ

সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নতুন করে চালানো হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকালের ভয়াবহ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে, যখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান।

অন্যদেিকে, ইয়েমেনের রণক্ষেত্রে আনসারুল্লাহ হুথি বাহিনী এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ (Taiz) শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বর্তমানে রক্তক্ষয়ী ও তুমুল যুদ্ধ চলছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী হুথি হামলা ও প্রাণহানি

  • নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি: গত শনিবার ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বাহিনীর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইতোমধ্যে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। আজ রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। এই হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

  • নিহতদের পরিচয়: নিহতদের মধ্যে ৪ জন সৌদি নাগরিক, ২ জন বাংলাদেশি, ১ জন মার্কিন নাগরিক এবং জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।

  • নতুন হামলা ও আতঙ্ক: রোববার সন্ধ্যায় রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মী আহত হন। এর ফলে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্রতর: তাইজে তুমুল যুদ্ধ

  • কৌশলগত তাইজ শহরের লড়াই: ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথি বাহিনী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর 'তাইজ' (Taiz) এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদে প্রণালী এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে দু'পক্ষের মধ্যে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ চলছে।

  • জোটবন্ধনের বিমান হামলা: হুথিদের বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় আক্রমণের জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ ও দাম্মামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বেসামরিক বিমান চলাচল এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে।