ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে আসার পথে প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার এ ঘটনার পর রিয়াদ ও কাছের আল-খারজ এলাকায় সতর্কসংকেত জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানায় সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি বলেন, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছিল।
এর আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল খারজের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করে। পরে দুই এলাকাতেই বিপদ কেটে গেছে বলে জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সতর্কসংকেত জারির পর রিয়াদে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সৌদি আরব একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার প্রতিহত করা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের বিভিন্ন স্থানে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এতে ১৫টি বাড়িও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও জানায়, আল খারজে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর সামান্য আগুন লাগে।
মঙ্গলবার হুতিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তাদের অবস্থানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালালে তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দাম্মামে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে কোম্পানিটির তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করবে।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা ও দেশটির আরও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাইয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি