১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

গত বছর প্রতিরক্ষায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রও কিনেছে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যার একটি সৌদির বিশাল ভূখণ্ড ও তিন দিকের হুমকি। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে। বহু স্থাপনা রক্ষায় সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। নিচু দিয়ে ওড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। অনেক হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগেই ইয়েমেনে ইরানি অস্ত্রের প্রমাণ পেয়েছিলেন। হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গেও ইরানি অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

তবে তেহরানের মিত্র হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের যুদ্ধের পরও তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ চলেছে। জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এরপর শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সোমবার ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, মধ্যস্থতায় রিয়াদ রাজি হলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরে তা চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

স্থল অভিযানে হুথিদের হারানোর সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের অভিযানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেও গোষ্ঠীটিকে সরাতে পারেনি। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ ঘিরে ফেলেছে।

সৌদি এখন আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চাইছে। পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসর প্রয়োজনমতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাসরঞ্জামেও ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নতুন সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প। সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতেই ফিরতে হতে পারে।

বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

গত বছর প্রতিরক্ষায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রও কিনেছে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যার একটি সৌদির বিশাল ভূখণ্ড ও তিন দিকের হুমকি। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে। বহু স্থাপনা রক্ষায় সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। নিচু দিয়ে ওড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। অনেক হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগেই ইয়েমেনে ইরানি অস্ত্রের প্রমাণ পেয়েছিলেন। হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গেও ইরানি অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

তবে তেহরানের মিত্র হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের যুদ্ধের পরও তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ চলেছে। জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এরপর শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সোমবার ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, মধ্যস্থতায় রিয়াদ রাজি হলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরে তা চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

স্থল অভিযানে হুথিদের হারানোর সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের অভিযানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেও গোষ্ঠীটিকে সরাতে পারেনি। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ ঘিরে ফেলেছে।

সৌদি এখন আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চাইছে। পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসর প্রয়োজনমতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাসরঞ্জামেও ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নতুন সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প। সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতেই ফিরতে হতে পারে।

হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে আসার পথে প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার এ ঘটনার পর রিয়াদ ও কাছের আল-খারজ এলাকায় সতর্কসংকেত জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানায় সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি বলেন, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছিল।

এর আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল খারজের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করে। পরে দুই এলাকাতেই বিপদ কেটে গেছে বলে জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সতর্কসংকেত জারির পর রিয়াদে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সৌদি আরব একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার প্রতিহত করা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের বিভিন্ন স্থানে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এতে ১৫টি বাড়িও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও জানায়, আল খারজে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর সামান্য আগুন লাগে।

মঙ্গলবার হুতিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তাদের অবস্থানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালালে তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দাম্মামে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে কোম্পানিটির তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করবে।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা ও দেশটির আরও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাইয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সৌদি জোটের হামলার জবাব: আরামকোতে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদি জোটের হামলার জবাব: আরামকোতে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনে তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা। হামলার পর সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীরা। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে অবস্থানরত কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয় হুতিরা। গোষ্ঠীটি এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে।

হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির ওই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

জোটের নির্দেশের জবাবে সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সানায় যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এর পরপরই সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোতে হামলা, ইয়েমেনে তেল স্থাপনা ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আলটিমেটাম দিয়েই সানার তেল স্থাপনায় সৌদির বিমান হামলা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
আলটিমেটাম দিয়েই সানার তেল স্থাপনায় সৌদির বিমান হামলা

হুথি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সানার একটি তেল স্থাপনা থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি। এর এক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে হামলা হয়।

ইয়েমেনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সানার পশ্চিমাঞ্চলের একটি তেল স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে যখন হামলার হুমকি দেওয়া হয় তখন হুথিরা পাল্টা হামলার হুমকি দেয়। এখন সৌদির বিমানবাহিনী সানায় হামলা চালাচ্ছে। আর নিজেদের ঘোষণা অনুযায়ী, হুথিরাও পাল্টা হামলা চালায় কি না সেটি এখন দেখার বিষয়।

হুথিরা তাদের হুমকিতে বলেছিল, যদি সৌদি আরব পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সানায় বিমান হামলা চালায় তাহলে সৌদির দাম্মামের আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের আরামকোর তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালানো হবে। এ সময় সেখানে থাকা সব সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বানও জানায় তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই হুথি ও সৌদির মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলছে। এরমধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এরপর থেকেই সৌদি হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

সেই হুমকির পর সানার তেল স্থাপনাকে টার্গেট করল তারা। এরফলে হুথিদের সঙ্গে সৌদির উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলো।

আরও পড়ুন

ওমরাহযাত্রীদের ওপর হুতি হামলা জঘন্যতম অপরাধ: সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ সালেহ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ওমরাহযাত্রীদের ওপর হুতি হামলা জঘন্যতম অপরাধ: সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ সালেহ

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ সালেহ আল-ফাওজান ওমরাহযাত্রীদের ওপর হুথিদের হামলাকে জঘন্যতম অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ওলামা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং গবেষণা ও ইফতা বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সির প্রধান শায়খ সালেহ আল-ফাওজান এক বিবৃতিতে বলেছেন, সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়া বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া মুসল্লিসহ নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধগুলোর অন্যতম। এ ধরনের অপরাধের জন্য আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী পবিত্র স্থান ও আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানুষদের ওপর হামলা চালানো কোনো অপরাধী চক্রই ধ্বংস ও ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা পায়নি।

গ্র্যান্ড মুফতি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন এই অপরাধীদের ধ্বংস করা হয় এবং সৌদি আরবসহ সব মুসলিম দেশকে সুরক্ষা দেওয়া হয়।

সূত্র: সৌদি গেজেট