গত বছর প্রতিরক্ষায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রও কিনেছে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যার একটি সৌদির বিশাল ভূখণ্ড ও তিন দিকের হুমকি। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে। বহু স্থাপনা রক্ষায় সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। নিচু দিয়ে ওড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। অনেক হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগেই ইয়েমেনে ইরানি অস্ত্রের প্রমাণ পেয়েছিলেন। হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গেও ইরানি অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
তবে তেহরানের মিত্র হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের যুদ্ধের পরও তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ চলেছে। জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এরপর শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সোমবার ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, মধ্যস্থতায় রিয়াদ রাজি হলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরে তা চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।
স্থল অভিযানে হুথিদের হারানোর সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের অভিযানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেও গোষ্ঠীটিকে সরাতে পারেনি। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ ঘিরে ফেলেছে।
সৌদি এখন আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চাইছে। পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসর প্রয়োজনমতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাসরঞ্জামেও ঘাটতি রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নতুন সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প। সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনির মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতেই ফিরতে হতে পারে।