৬ জুলাই ২০২৬

প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছেড়ে দিতে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়ে ও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।"

শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ০৫, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের উৎপাত বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৮২ জনকে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

শনিবার (০৪ জুলাই) ভোর অনুমান ৫টা থেকে বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পুলিশ বক্সের আশপাশ, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, ভিভিআইপি ও ভিআইপি রোডসহ আশপাশের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ৫৮ জন মাদকাসক্ত পথশিশু এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ২৪ জন সহ সর্বমোট ৮২ জনকে আটক করা হয়।

বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে ও মাদকসক্তদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষরা— সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। এরপরই অভিযান চালালো পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) নিয়াজ মেহেদী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই এলাকায় কোনো অবস্থাতেই ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে পুলিশের টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আটককৃত শিশুদের সুরক্ষায় ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার’ মাধ্যমে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার।

খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ০৪, ২০২৬
খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার

বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান পার্লামেন্ট স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানের ইসলামিক কনসাল্টেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সৌজন্য ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন।

বৈঠকে স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের স্পিকার ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের সরকার এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানানো হচ্ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

বৈঠকে স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকারের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকারসহ দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্যরা এবং তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিশার চালান জব্দ করেছে ডিএনসি

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিশার চালান জব্দ করেছে ডিএনসি

মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সরকার ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা অনলাইন মাদক ব্যবসা প্রতিরোধেও ডিএনসি’র গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপারেশনাল কার্যক্রম দিন দিন জোরদার করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় পরিচালিত এক সমন্বিত বিশেষ অভিযানে দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে সর্বাধিক পরিমাণ শিশা উদ্ধারসহ একটি আন্তঃজেলা অনলাইন মাদক চক্রের মূলহোতা দুই সহোদরসহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের কাছে গোপন সংবাদ ছিল যে, আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪) নামে দুই সহোদরের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ শিশা ও শিশা সেবনের উপকরণ বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে।

ওই সংবাদের সূত্র ধরে আরও জানা যায়, উক্ত পেজের মাধ্যমে অর্ডারকৃত শিশার দু’টি চালান দেশীয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট প্রেরণ করা হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম গত ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে ওই ফেসবুক পেজের নামে প্রেরিত ১ কেজি শিশাসহ একটি পার্সেল জব্দ করা হয়।

একই দিনে রমনা থানাধীন মালিবাগ থেকে একই পেজের নামে প্রেরিত আরও ১ কেজি শিশাসহ দ্বিতীয় পার্সেলটি জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত পার্সেল দু’টির প্রেরক-ঠিকানা যাচাই করে অভিযানিক দল একই দিনে গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয়, যা মূল অভিযুক্ত দুই সহোদর আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফির ভাড়াকৃত বাসা ছিল। এসময় উভয়কে হাতেনাতে আটক করা হয়।

ডিএনসি জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
আটক দুই সহোদরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাদের সরবরাহকৃত শিশার একটি বড় অংশ আসত মোঃ মাকসুদ আলম (৪০) নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকায় বসবাস করেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ঐদিন রাতে অভিযানিক দলটি নূরেরচালাস্থ তার ভাড়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি শিশা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।

চার স্থানে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে সর্বমোট ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি শিশা সেবনের কয়লা এবং মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানিয়েছে, এটি দেশে এ পর্যন্ত এক অভিযানে জব্দকৃত সর্ববৃহৎ শিশার চালান, যা অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যবসা:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, গ্রেফতারকৃত দুই সহোদর আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি দীর্ঘ সময় ইরানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা শিশা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে শিশা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন বলে তদন্তে জানা গেছে। তারা একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যা বাংলাদেশে অনলাইনে শিশা বিক্রয়কারী প্রথম দিকের পেজগুলোর অন্যতম বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার গ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ এবং ডেলিভারির সমন্বয় করা হতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠানো হতো।


মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ: চক্রটি মূলত বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য গ্রহণ করত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত একাধিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা অর্থ সংগ্রহ করত, যাতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের প্রবাহ যাচাই করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরো জানায়, অভিযানে জব্দকৃত মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে আমরা একটি বিস্তৃত গ্রাহক (Client) ডাটাবেস উদ্ধার করেছি। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকৃত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।

জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে এই চক্রের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অবৈধ শিশা বিক্রির পাশাপাশি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আরও বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা ব্যবহার করে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে।

বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-কমার্স, কুরিয়ার সেবা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে নতুন কৌশলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। এসব অপরাধ দমনে ডিএনসি তার সাইবার নজরদারি, আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করেছে।

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা : বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা : বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থারই প্রতিফলন।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে প্রবেশ করতে চাইছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই আগ্রহ দেখা গেছে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রীসেবা সম্পর্কিত গ্রাউন্ড সার্ভিসের জন্য দ্বিতীয় একজন অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর দায়িত্ব এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতেই থাকবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় হ্যান্ডলারের কাজ শুধু যাত্রী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব এককভাবে বিমানের কাছেই থাকছে।’

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই অগ্রগতিকে বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। ক্রমাগত যাত্রী বৃদ্ধি, বড় ধরনের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগই এই খাতের মূল চালিকাশক্তি।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এমিরেটস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডনাটা এবং সিঙ্গাপুরের স্যাটস। এই সবগুলোই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বিমানবন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কোম্পানির আগ্রহ দেখানোর ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।

কূটনৈতিক তৎপরতায় আস্থার প্রতিফলন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা নিজ নিজ দেশের কোম্পানির আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

মাফিদুর রহমান বলেন, ‘এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন বাজারকে বিশ্ব কতটা বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কতটা আস্থা রয়েছে।’

একটি যুগান্তকারী সংস্কার
তৃতীয় টার্মিনালের এই সিদ্ধান্তটি একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। কারণ, গত কয়েক দশক ধরে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের একক দায়িত্ব ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। এখন সেখানে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী চেক-ইন, র‌্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুনরায় ওড়ার উপযোগী করার প্রক্রিয়া (টার্নঅ্যারাউন্ড সার্ভিস)। এসব সেবা সরাসরি বিমানবন্দরের পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রী সেবার মানের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, এর ফলে সেবার মান উন্নত হবে, উড়োজাহাজ প্রস্তুত করার সময় কমবে এবং বাংলাদেশের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার, এমনকি এটি পরের ধাপে করা হলেও চলতো। তবে আপাতত যাত্রী সেবা হ্যান্ডলিংয়ে অন্তত প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত।’
বিশিষ্ট এভিয়েশন উদ্যোক্তা এবং টাস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকও এই বৈশ্বিক আগ্রহকে একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘কার্গো ভিলেজ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-উভয় কার্যক্রমই আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালিকানা সরকারের কাছেই থাকতে পারে, তবে পরিচালনার দায়িত্ব অভিজ্ঞ ও দক্ষ বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। পেশাদার অপারেটররা দক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং সেবার মান বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে তারা স্থানীয় জনশক্তিকেও এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবে।’

যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানালেও, তৃতীয় টার্মিনালের স্বয়ংক্রিয় কার্গো ভিলেজে বিমানকে একমাত্র কার্গো হ্যান্ডলার হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং আন্তর্জাতিক মানের কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এর সক্ষমতা এবং সততা-উভয় বিষয়েই গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মাফিদুর রহমানও মনে করেন, টার্মিনালের উন্নত কার্গো সিস্টেমের সর্বোচ্চ সুফল পেতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত আধুনিক এবং এগুলো পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ অপারেটরের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতেই বিমানের পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটর কাজ করলে ভালো হতো। এতে করে পুরোপুরি স্থানীয়ভাবে পরিচালনার আগে আমাদের জনবল কাজগুলো শিখে নিতে পারত।’
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দক্ষ পেশাদারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এভিয়েশন খাত নতুন গতি পাবে।’

বিমানের আত্মবিশ্বাস
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বাসস’কে জানান, বিমান ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে এবং তৃতীয় টার্মিনালের জন্য আরও ১ হাজারের বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, বিমান কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কাজ করছে। তবে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পাননি।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে-মেয়েরই আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।

তিনি বলেন, আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। আর ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

তিনি বলেন, এ আইন শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, সন্তানদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন।