১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে গিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করছে উত্তর কোরিয়া। এর ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রানসন।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রানসন বলেন, রাশিয়াকে সহায়তা করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়া কীভাবে নিজ ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ায় সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে হয়, সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দূরত্বে সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সামরিক সম্পদ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এর ফলে দেশটির সক্ষমতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সামরিক অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

মার্কিন এই জেনারেল সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া তার সামরিক কার্যক্রমে কাজে লাগাতে পারলে ওয়াশিংটন ও সিউলের জন্য দেশটিকে প্রতিহত করার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ব্রানসনের দাবি, রাশিয়াও উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্যামারও রয়েছে। রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সহায়তার বিনিময়ে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুদ্ধকালীন সামরিক বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন ব্রানসন।

তিনি শর্তসাপেক্ষে এই নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন ব্রানসন। এর মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে জুলাইয়ে রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার আরও সেনা মোতায়েনের খবর পর্যবেক্ষণ করছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একই সময়ে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার নিন্দা জানায় জাপান।

২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় অজ্ঞাত হামলার শিকার হয়ে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইরান হামলা বাড়ানোর মধ্যে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটির বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি ডুবে যায়। জাহাজের সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিএনএন যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় তা থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্রে পানিতে ছড়িয়ে থাকা পণ্য এবং তেলের একটি ছোট স্তর দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, জাহাজটি অনুমোদনহীন পথে চলতে গিয়ে সমুদ্রের মাইনে আঘাত করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা এ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ড্রোন হামলার কারণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ কেপ দাও ডুবে গেছে বলে গত বুধবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও)। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটি প্রথমবারের মতো অজ্ঞাত বস্তু থেকে হামলার শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় ভারতের একজন নাবিক নিহত হন।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ হামলার শিকার হলেও, ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের মধ্যে এগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

অকার্যকর পুরোনো মিত্রতা ও সংকটের নতুন যুগে মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
অকার্যকর পুরোনো মিত্রতা ও সংকটের নতুন যুগে মধ্যপ্রাচ্য

শনিবার হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এই নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত জানা গেছে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে এক নতুন মোড় নিল।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই ছিল কোনো উপসাগরীয় দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা। এ ধরনের মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় সৌদি আরব অভ্যস্ত নয়। হতবিহ্বলজনক এই বিপুল মৃত্যু সেখানে এক রক্তাক্ত প্রতিশোধের আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

গত এক বছরে উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন এক অস্থিরতার যুগে ঢুকে পড়েছে, যা সাময়িক নয় এবং কোনোভাবেই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রথম দর্শনে এটি কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। গাজা ও ইরানের তুলনায় এখানে হতাহতের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। তবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তার এই ধারাবাহিক অবক্ষয় পুরো অঞ্চলকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা সেখানকার শাসকদের পক্ষে হজম করা কঠিন।

প্রথম অভাবনীয় ও দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটেছিল ঠিক এক বছর আগে। তার পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। দোহারের আকাশ আর চারদিকে ছড়ানো স্প্লিন্টারের সেই দৃশ্য ছিল কাতারিদের জন্য এক তীব্র হতাশার মুহূর্ত। কারণ তারা এতদিন ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে।

তবে তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা সতর্কবার্তা ও সমন্বয় ছিল, যা নির্দেশ করছিল– এটি কেবল মুখ রক্ষার একটি পদক্ষেপ। কিন্তু ২০২৫ সালে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা সমন্বয় ছাড়াই দোহায় আঘাত হানে ইসরায়েল। হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি ও একজন কাতারি নাগরিক নিহত হন।

এর মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী রীতি ও বিশ্বাসের অন্তিম যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ধারণা ছিল যে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবন ও সার্বভৌমত্বের পবিত্রতা নিশ্চিত রাখা সম্ভব।

এরপর এলো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধ, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে পুরোপুরি এই সংঘাতের দাবানলে টেনে আনে। ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে রাজনৈতিক, সামরিক ও লজিস্টিকস সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানে।

ইরান একযোগে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি কেন্দ্র ও পানি শোধন প্লান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, যেসব অবকাঠামো মূলত এসব দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তবে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়া, মাসের পর মাস স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং বিমানবন্দর ও আকাশসীমা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয় বহু গুণ।

উপসাগরীয় শাসকদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে অন্য জায়গায়। পর্যটন, উদ্যোক্তা, খেলাধুলা ও বিনোদনের এক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, এসব হামলা সেই ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। ফর্মুলা ওয়ান, গলফ ও বক্সিংয়ের বিশ্বমানের আয়োজন টানতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। কিন্তু কয়েকটি সস্তা ড্রোন এসে এক নিমেষে তাদের সব বিনিয়োগ ঝুঁকিতে ফেলে দিল।

এর পরিণতিতে শুরু হলো এক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা, যা এতদিন সুপ্ত থাকা পুরোনো শত্রুতাগুলোকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। সংখ্যালঘু শিয়া অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নিলে ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোট হুতিদের উৎখাত করতে এক নির্মম সামরিক অভিযান শুরু করে।

এটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এতে সৃষ্টি হয় এক চরম মানবিক বিপর্যয়। ২০২২ সালে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়; হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি না হলেও দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যেও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল।

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারছেন না। গাজার ক্ষত এখনও তাজা। অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে। এ অঞ্চলে হুতি বিদ্রোহীদের এই পুনরুত্থান এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। যে অঞ্চল আজ সম্পদ ও প্রাণ হারাচ্ছে এবং আটকে গেছে এমন এক পুরোনো মিত্রতার মাঝে, যা আর কাজ করছে না। অঞ্চলটি এখন এমন এক নতুন শত্রুতার মুখে, যা মোকাবিলা করা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর।

নাসরিন মালিক: গার্ডিয়ানের কলাম লেখক

ভোটের আগেই কি ইরানে নতুন আঘাত? ট্রাম্পের দ্বিধা ও নেতানিয়াহুর সামরিক প্রস্তুতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ভোটের আগেই কি ইরানে নতুন আঘাত? ট্রাম্পের দ্বিধা ও নেতানিয়াহুর সামরিক প্রস্তুতি

নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো যায় কি না তা নিয়ে গত সপ্তাহেই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাষ্ট্রনেতা ফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

সামনেই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেই নির্বাচন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ পদ ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভাগ্যও নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতা আবার ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর ছক কষেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং ওয়াকিবহাল এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আবার তাদের পারমাণবিক কাঠামোগুলো পুনর্গঠনের জন্য কাজ করছে- এমন গোয়েন্দা তথ্য জানতে পেরে নেতানিয়াহু উদ্বিগ্ন।

ট্রাম্পের কাছে সেই উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে নভেম্বরে নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নিতে চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ভোটের আগে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযান নয়।

তবে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন—এমন ভাবনার কারণে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানে যেতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ট্রাম্পকে সেকথা জানিয়েছেনও তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে ‘প্রস্তুত’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কবে আবার ইরানে হামলা করা হবে, তা নিয়ে কোনও সময়সীমা দেননি ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসে মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, “মনে হচ্ছে বিবি (নেতানিয়াহু) আবার (সামরিক অভিযান নিয়ে ভেতরে) যেতে চান।

“তিনি এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছেন, এবং প্রেসিডেন্ট বলেছেন, শুনুন, বিবি (নেতানিয়াহু) এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন। তবে এ নিয়ে আসলে কোনও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি নেই।এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া" কথাটির অর্থ হতে পারে— এখনই, অথবা পরে, অথবা কখনও না।”

তবে হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা অস্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের নেতারা ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ওদিকে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য করেন না।”

ইসরায়েলের এক কর্তার দাবি, প্রাথমিক ভাবে যখন আবার যুদ্ধ শুরুর বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল, তখন ট্রাম্পের কথা শুনে মনে হয়েছিল তিনি আগ্রহী। তবে এখন মনে হচ্ছে, তিনি দ্বিধাগ্রস্ত।

ট্রাম্পের এই মতিগতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মর্তাও। তিনিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরু করবেন কিনা, তা নিয়ে দোটানায় ভুগছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীন আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) নেতৃত্ব-সহ বেশ কয়েকজন আবার যুদ্ধ শুরুর প্রস্তাব সমর্থন করেছেন।

তবে ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা যুদ্ধের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একযোগে হামলা চালায় ইরানে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে, সেই সন্দেহ থেকেই হামলা চালায় তারা।

হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সেই থেকেই যুদ্ধ শুরু। পাল্টা হামলা করে ইরানও। তার পর থেকে হামলা পাল্টা হামলায় প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে থাকছে পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি।

ইসরায়েলে সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ইসরায়েলে সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ

ইসরায়েলের কিরিয়াত গাত শহরে ইনটেলের একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের ধারণা, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অথরিটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। রাসায়নিকের উৎস শনাক্ত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় নাইট্রোজেন ট্রাইফ্লুরাইড নামের একটি গ্যাস জড়িত থাকতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত এ গ্যাসের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষায়িত বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলা দল ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছে।

ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, দমকলকর্মীরা ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের আটটি ইউনিট এবং আশপাশের স্টেশন থেকে বিশেষায়িত রাসায়নিক মোকাবিলা ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

কিরিয়াত গাতের এ কারখানায় সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদন করা হয়। বিস্ফোরণের কারণ এবং রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।

বিমান হামলায় দুই শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত ও আহত হওয়ার দাবি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিমান হামলায় দুই শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত ও আহত হওয়ার দাবি

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত কিংবা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। তাইজ মিলিটারি এক্সিসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় ধুবাব ফ্রন্ট এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আকরুদ ও আল-শাকাব এ বুধবার দিনভর তীব্র লড়াই অব্যাহত থাকে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দুপুরের দিকে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ সময় তাইজের আল-মিসরাখ জেলার রাস আল-নাজদ এলাকায় হুথিদের একটি ট্যাংক ও সামরিক যানের বহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

এছাড়া তাইজ শহরের পূর্বাঞ্চলীয় সোফিতেল পাহাড়ের কাছে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয় এবং ধুবাব ফ্রন্টেও বেশ কয়েকটি বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, বুধবারের এসব সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় দুই শতাধিক হুথি হতাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের একটি সামরিক যান সম্পূর্ণ ধ্বংস, দুটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত, একটি ড্রোন ভূপাতিত এবং একটি সশস্ত্র গাড়ির বহর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এই হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এবং এ বিষয়ে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানী সানাসহ হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য চলতি মাসের শুরুতে ‘ডন অব ইয়েমেন’ বা ইয়েমেনের ভোর নামক সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই দেশটিতে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের জোরালো সমর্থনে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে বিশেষ করে তাইজ অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান ও যোগাযোগের রুটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চরমে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে দেশটিতে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং এর পরের বছরই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

পাহাড় দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মুখোমুখি সংঘর্ষ