১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যের উদ্বৃত্ত আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে দেশে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬২৭ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবে কিছু ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক হয়েছে।

বৈদেশিক খাতের উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে। বৈদেশিক খাতের উন্নত অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

বাজার আরও শক্তিশালী করতে গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে।

আলী হোসেন প্রধানিয়ার মতে, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ছে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপ কমছে। এই ধারা বজায় রাখতে স্থিতিশীল বিনিময় হার, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

শ্রেণিকক্ষের পাঠ যখন বাস্তবতার স্পর্শে প্রাণ পায়, তখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, বাংলাদেশ স্কুলের দাতা সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে ছিল সৃজনশীলতার এক বিশাল সমারোহ। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পাশাপাশি তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার দক্ষতাও ফুটে ওঠে। দিবা শাখার প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মকাণ্ড, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একদিকে শিশুদের কোমল হাতে ফুটে ওঠা রঙিন শিল্পকর্ম, অন্যদিকে কিশোর শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। প্রতিটি প্রকল্প যেন ছিল—শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও নিজেদের অপার সম্ভাবনার এক বাস্তব পরিচয়।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, বৈজ্ঞানিক মননের অপূর্ব সৃষ্টি এবং নিজেদের কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টিশীলতা বৃহত্তর দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করার এক বিরল প্রয়াস। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যাহত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিজ্ঞান ও শিল্পের এ আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর চালানো নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। এই হামলায় হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দোহা এই হামলার ঘটনায় "কঠোরতম ভাষায়" নিন্দা জ্ঞাপন করছে। একই সাথে এই হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি এক প্রত্যক্ষ ও গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করে যে, কাতার সৌদি আরবের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরব সরকারের গৃহীত যেকোনো বিধিসম্মত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কাতারের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কাতার সরকার এই হামলায় নিহত শহীদদের পরিবার, সৌদি সরকার এবং দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেছে।

দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

কাতার এয়ারওয়েজ দোহা ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। পরিচালনাগত কারণে ২০২৬ সালের ৯ ও ১০ অক্টোবর এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে জারি করা এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় কাতার এয়ারওয়েজ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে যাত্রীদের অবহিত করে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

৯ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1168 / QR1169

  • QR1164 / QR1165

  • QR1238 / QR1239

  • QR1172 / QR1173

  • QR1166 / QR1167

১০ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1238 / QR1239

  • QR1164 / QR1165

যাত্রীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

দোহা থেকে রিয়াদ কিংবা রিয়াদ থেকে দোহাগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় টিকিট বুকিং বা বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরাসরি এয়ারলাইনটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এয়ারলাইনটির সূচি ও ভ্রমণসংক্রান্ত ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় বা পশ্চিমাংশে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটা এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করত। তবে যুদ্ধের পর ইরান প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, এসব হামলা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

কাতারে ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ: প্রবাসীদের জন্য ৩টি নতুন সুবিধা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬

গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (MoCI)। ২০০৮ সালের ৮ নম্বর ভোক্তা সুরক্ষা আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ড্রাইভিং স্কুল এবং প্রশিক্ষণার্থী বা গ্রাহকদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল করা।

নতুন নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

  • লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক: সেবা প্রদানের জন্য স্পষ্ট ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না ড্রাইভিং স্কুলগুলো।

  • প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ: চুক্তির মধ্যে অবশ্যই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরুর প্রকৃত তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পারমিট নম্বর প্রাপ্তির সুযোগ: সাধারণ ডাইরেক্টরেট অব ট্রাফিক (General Directorate of Traffic) কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট নম্বর যেন গ্রাহকরা সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়সীমা ও নজরদারি:

নিয়ম লঙ্ঘনকারী ড্রাইভিং স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থা সংশোধন এবং নতুন শর্তাবলী মেনে চলার জন্য নোটিশ জারির তারিখ থেকে এক মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কাতার জুড়ে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শণ অভিযান পরিচালনা করবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করা যায়।

কোনো ড্রাইভিং স্কুল নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্যের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬০০১ নম্বরে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অফিশিয়াল পেজে যোগাযোগ করা যাবে।