১১ অক্টোবর ২০২৬

কাতারের ঐতিহাসিক স্থান আল জুবারাহ: অতীতের সমৃদ্ধ এক জনপদ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের ঐতিহাসিক স্থান আল জুবারাহ: অতীতের সমৃদ্ধ এক জনপদ
টপ স্টোরিজ

কাতারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল শামালের উপকূলে অবস্থিত 'আল জুবারাহ' (Al Zubarah) দেশটির অন্যতম প্রাচীন, সমৃদ্ধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঐতিহাসিক স্থান।

রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার (৬৫ মাইল) দূরে অবস্থিত এই ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদটি বিংশ শতাব্দীতে তেল ও গ্যাস আবিষ্কারের আগের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নগর জীবনের এক জীবন্ত দলিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কুয়েত থেকে আগত বনি উতবাহ (Bani Utbah) গোত্রীয় কনফেডারেশনের হাত ধরে শহরটির পত্তন ঘটে। দীর্ঘ ইতিহাসের নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্থান-পতন পেরিয়ে ২০১৩ সালে ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটিকে ইউনেস্কো (UNESCO) মর্যাদাপূর্ণ 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ভৌগোলিক অবস্থান ও নামকরণের নেপথ্য

আরবি শব্দ 'জুবারাহ' এর অর্থ দাঁড়ায় উঁচুতে অবস্থিত বালুর ঢিবি বা ছোট আকারের পাহাড়ি টিলা। সমুদ্র সমতল থেকে সামান্য উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারেই এলাকাটির নাম রাখা হয় 'আল জুবারাহ'। উপকূলীয় এলাকায় এই উঁচু অবস্থান তৎকালীন সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দূর থেকে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও চমৎকার কৌশলগত সুবিধা দিতে সহায়তা করত।

পারস্য উপসাগরের পশ্চিম বাহু ও হরমুজ প্রণালীর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত হওয়ায় আল জুবারাহ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং মুক্তা আহরণের এক বিশ্বখ্যাত মূলকেন্দ্রে পরিণত হয়।

বাণিজ্যিক বিস্তার ও উন্নত নগর জীবন

অষ্টাদশ শতাব্দীর ষাটের দশকে বনি উতবাহ গোত্রের স্থায়ী বসতি স্থাপনের পর প্রাকৃতিক বন্দরের সুবাদে শহরটি পারস্য উপসাগরের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে ওঠে। ভারত, ওমান, ইরাক ও কুয়েতের সাথে এর সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। মুক্তা ও খেজুর রপ্তানির পাশাপাশি মশলা এবং বিভিন্ন ধাতু আমদানির প্রধান কেন্দ্র ছিল এই বন্দর। পরবর্তী সময়ে বাহরাইন জয়ের মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে দেখা যায়, আল জুবারাহর রাস্তাঘাট সুনির্দিষ্ট 'গ্রিড প্যাটার্নে' সমকোণে বিন্যস্ত ছিল, যা তৎকালীন সময়ে উন্নত নগর পরিকল্পনার এক অনন্য নিদর্শন। শহরের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ সময়ে ৬,০০০ থেকে ৯,০০০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অধিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন আবর্তিত হতো কেন্দ্রীয় 'সউক' বা বাজারকে কেন্দ্র করে। খননকাজে প্রাপ্ত তামাকের পাইপ এবং চীন থেকে আমদানিকৃত কফি পটের অবশিষ্টাংশ সেকালের ধনাঢ্য ও মার্জিত সংস্কৃতি প্রকাশ করে।

সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বিপুল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সম্পদ সুরক্ষায় শহরটির চারপাশে জোড়া প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর, সমুদ্র খাল এবং দুর্গ গড়ে তোলা হয়। এদের মধ্যে 'কালাত মুরাইর' (Qal'at Murair) এবং ১৯৩৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক 'আল জুবারাহ দুর্গ' (Al Zubara Fort) এই অঞ্চলের সামরিক স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম সেরা উদাহরণ হিসেবে আজ অব্দি টিকে আছে।

ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ও ৩টি বিশেষ মানদণ্ড (Selection Criteria)

১৮১১ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পর শহরটির সিংহভাগ এলাকা মরুভূমির বালুর নিচে ঢাকা পড়ে অটুট অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ইউনেস্কো প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

  1. মানদণ্ড (iii) - মুক্তা বাণিজ্যের বিরল স্মারক: সমগ্র আরব বিশ্বে অক্ষত অবস্থায় টিকে থাকা প্রাচীন মুক্তা-বণিক শহরের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ নগর রূপরেখা হলো আল জুবারাহ। এটি আদি ইসলামিক যুগ থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত গড়ে ওঠা সামুদ্রিক ও মুক্তা ব্যবসার চূড়ান্ত রূপ ফুটিয়ে তোলে।
  2. মানদণ্ড (iv) - রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্র পুনর্লিখন: অটোমান, ইউরোপীয় ও পারস্য সাম্রাজ্যের আওতার বাইরে গিয়ে যেসব ছোট স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল এবং যার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে আধুনিক উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, জুবারাহ তারই এক ঐতিহাসিক সাক্ষী।
  3. মানদণ্ড (v) - মরুর প্রতিকূলতায় জীবনসংগ্রাম: ডুবুরিদের সীসার ওজন, সিরামিক, প্রাচীন কাঠের জাহাজের (Dhow) চিত্রকর্ম, মাছের ফাঁদ ও কূপ থেকে প্রমাণিত হয় যে—অধিবাসীরা কীভাবে মরুর প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সমুদ্রের রূপালী সম্পদকে সমন্বিত করেছিল।

বর্তমান স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণ আইনি ব্যবস্থা

প্রায় ৪০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সাইটটি সুরক্ষায় কাতার সরকার ১৯৮০ সালের ২ নম্বর এবং ২০১০ সালের ২৩ নম্বর সংশোধিত পুরাকীর্তি আইনের অধীনে আইনি প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে।

কাতার ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, জুবারাহর আশপাশের 'বাফার জোনে' কোনো প্রকার বাণিজ্যিক বা রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন প্রকল্প পুরোপুরি নিষিদ্ধ। 'আল রিম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ'-এর অন্তর্ভুক্ত এই এলাকাটির প্রাচীরগুলোর ক্ষয় রোধ ও প্রাকৃতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে 'কাতার মিউজিয়ামস অথরিটি' এবং কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে 'কাতার ইসলামিক আর্কিওলজি অ্যান্ড হেরিটেজ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বমানের সংরক্ষণমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে।

আল জুবারাহ কেবল কাতারের অতীত ইতিহাস নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হওয়ার এক জীবন্ত ইতিহাস।

আরও পড়ুন

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক
টপ স্টোরিজ

মরুময় আবহাওয়া ও তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের শহরাঞ্চলকে আরও বসবাস উপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে কাতার। দেশজুড়ে পার্ক, উদ্যান এবং গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাতারের মোট সবুজ এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ বর্গমিটারে, যেখানে মাথাপিছু সবুজ জায়গার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬.৮ বর্গমিটার।

পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার পার্ক নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণে এই বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ন্যাশনাল প্ল্যানিং কাউন্সিলের উন্মুক্ত উপাত্তেও চাষযোগ্য সবুজ ভূমি, গাছপালা, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, খেজুর বাগান এবং রাস্তার ডিভাইডারে থাকা উদ্ভিদের বার্ষিক অগ্রগতির চিত্র নিয়মিত তুলে ধরা হয়।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় জমা দেওয়া কাতারের ‘ন্যাশনাল্লি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন ৩.০’ (NDC 3.0)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশের সবুজ এলাকা ছিল ৩.৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৭ বর্গকিলোমিটারে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এবং ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া ‘এক মিলিয়ন গাছ রোপণ কর্মসূচি’-র পাশাপাশি সড়ক, শিল্পাঞ্চল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের সফলতার পর কাতার ২০২২ সালে ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’ শুরু করে, যা বর্তমানেও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে জমাকৃত কাতারের ২০২৫ সালের স্বেচ্ছামূলক জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫৯টি পার্ক এবং প্রায় ৩০ লাখ বর্গমিটারের উন্নত সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’-এর আওতায় ইতোমধ্যেই ৩ লাখ ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। দেশের মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বা ১২টি সুরক্ষিত এলাকার প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার অংশকে প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট স্থল ও সামুদ্রিক এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার।

কাতারের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই সবুজায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। গ্রীষ্মকালে এখানকার চরম তাপমাত্রা এবং প্রখর রোদ প্রায়ই মানুষের বহিরাঙ্গন চলাচল ও বিনোদনকে কঠিন করে তোলে। তবে গাছপালা ও সবুজ বেষ্টনী ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

দোহা ও আল দাইয়েন এলাকার ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা রাস্তা বা কংক্রিটের কাঠামোর তুলনায় সবুজ এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। কাতারের উপযোগিতা বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় গাছপালা ও বড় আকারের সবুজ পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কাতার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, খোলা বালি বা শিল্পাঞ্চলের তুলনায় গাছপালা সমৃদ্ধ নিম্নমানের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেশ সহনীয় থাকে।

সবুজায়নের এই প্রচেষ্টার পেছনে ঐতিহাসিক কিছু পটভূমিও রয়েছে। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাতারের মোট সবুজ এলাকা বৃদ্ধিতে ৭৩ শতাংশেরও বেশি ভূমিকা রেখেছিল। এই আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের ন্যূনতম সুযোগ প্রায় ৯ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের ভূমিকা শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা ও সংযুক্ত সবুজ করিডোর পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান দেয়। কাতার তার জাতীয় কৌশলের আওতায় বড় পরিসরে বনায়ন, ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন পুনরুদ্ধার এবং নগর উন্নয়নে প্রকৃতির সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ
টপ স্টোরিজ

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের বাজপাখি বা ফ্যালকন মার্কেটে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় বাজার বেশ জমে উঠেছে। গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মূলত কাতারসহ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি কিনতে শুরু করেছেন। সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি অনেক উপসাগরীয় ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেও অর্ডার করছেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে আসা বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম মূলত সেগুলোর ধরন ও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। শাহিন ফ্যালকনের দাম শুরু হয় ৩০ হাজার রিয়াল থেকে এবং গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে। সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন মিলছে ১০ হাজার রিয়াল থেকে। তবে ভালো মানের ও বিশেষ জাতের বাজপাখির দাম আরও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণের চাহিদাও এখন অনেক বেশি। হাতমোজা, হুড, বহন করার বাক্স, পাখির স্ট্যান্ড, ছুরি, জাল, শিকারের পোশাক এবং বাইনোকুলারসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের তাকে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির ভালো মানের বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করতে সাধারণত ১৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। নতুন মালিকের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং শিকারের সময় সঠিকভাবে পারফর্ম করতে এই প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। এছাড়া আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও বাজারে পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের কাজ আরও সহজ করে দেয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক
টপ স্টোরিজ

আল উকাইর এলাকায় সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা, খেলাধুলা ও অবসরে সময় কাটানোর জন্য নতুন তিনটি পার্কের উদ্বোধন করেছে পৌর মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মানের এই পার্কগুলো তৈরি করেছে পাবলিক পার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং পাবলিক ওয়ার্কস অথরিটি (আশগাল)।

উদ্বোধন হওয়া নতুন পার্কগুলোর নাম রাখা হয়েছে স্থানীয় পরিবেশের সাথে মিলিয়ে—আল ওয়াকরাহ এলাকায় ‘আল মাশমুম’ ও ‘আল খুজামা’ এবং আল উকাইর এলাকায় ‘আল আরাক’। জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং স্থানীয় পরিচয় তুলে ধরতে এই নামকরণ করা হয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২০৩০ কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কাতার জাতীয় ভিশন ২০৩০ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল মিউনিসিপাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিন আলী আল-আতবে এবং পৌর মন্ত্রণালয়ের পাবলিক সার্ভিস অ্যাফেয়ার্সের সহকারী আন্ডারসেক্রেটারি আবদুল্লাহ আহমেদ আল-করানিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পৌর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পার্কগুলোতে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পথ, দৌড়ানোর ট্র্যাক, শিশুদের খেলার জায়গা এবং ব্যায়ামের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন পার্কগুলোর বিবরণ:

আল মাশমুম পার্ক: মোট আয়তন ৪,৩৯৪ বর্গমিটার, যার মধ্যে প্রায় ২,৩৯৬ বর্গমিটারে গাছপালা ও সবুজায়ন করা হয়েছে। এখানে ৬৮টি গাছ, ২০৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং শিশুদের খেলার আলাদা জায়গা রয়েছে।

আল খুজামা পার্ক: ৩,২৮৪ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৯টি গাছ এবং ১,৩৬৭ বর্গমিটার সবুজ এলাকা রয়েছে। এখানে ১৭৮ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক ও আধুনিক ফিটনেস সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।

আল আরাক পার্ক: ৩,৯৩৬ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৬টি গাছ ও ২,১২৬ বর্গমিটার সবুজ জায়গা রয়েছে। এছাড়া ১৬৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং খেলাধুলার নানা সুবিধা রাখা হয়েছে।

মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ"

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ
টপ স্টোরিজ

বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন নামের একটি নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র।

সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।

কাতারের এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বা অতীত থেকে চলে আসা কাজের ধারাগুলোকে নথিবদ্ধ করা। এ উদ্যোগের আওতায় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একটি যৌথ বিশ্বকোষ তৈরিতে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে “ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন”—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। এর বিপরীতে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব, রাজনীতি, অর্থনৈতিক জীবন ও পরিবারে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি এবিষয়ে বলেন, আজকালকার তরুণীদের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়—এ নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই এই উদ্যোগের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আলফু মুসলিমাহ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসব ইতিহাসকে আরো সহজলভ্য করে তোলা এবং ‘রিআয়া’ (رعاية) বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা।”

এছাড়াও বলেন, “মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও জ্ঞান হস্তান্তর, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনৈতিক জীবন এবং পরিবারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ করে আসছে।”

মুসলিম নারীদের এসব অবদান নথিবদ্ধ করা ইসলামের আরও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অর্ধেকই নারী।

ইতিহাসের যেসব অংশ এতদিন উপেক্ষিত ছিল, এই উদ্যোগ সেসব অংশকে সামনে আনতে, নতুন প্রজন্মকে মুসলিম নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের চিনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বিস্তৃত ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব অঞ্চল ও সময়ের নারীদের, যারা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং যাদের নিয়ে একাডেমিক গবেষণা বা জনপরিসরে আলোচনা কম হয়েছে।

আলফু মুসলিমাহ ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্ব ও মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে—আরবি ভাষাভিত্তিক ও ফার্সি-প্রভাবিত বিশ্ব, তুর্কি অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশগুলো, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

ব্যক্তিবিশেষ নারীদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মুসলিম নারীদের কীভাবে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে নথিবদ্ধ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো ও বর্ণনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তাও এই প্রকল্পে পর্যালোচনা করা হবে।

আল মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ আরো বলেন, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।” তিনি জানান, মুসলিম নারীদের ইতিহাস কীভাবে সংরক্ষিত ও এর ব্যাখ্যা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্যোগটি সেটিও পর্যালোচনা করতে চায়।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাছে একটি উন্মুক্ত প্রস্তাবনাও চাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডির বাইরে গিয়ে প্রত্যেক মুসলিম নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, নেতৃত্বের ধরন ও উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সময়কাল এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে।

একই সময়ে, আকর্ষণীয় লেখা, গল্প বলা, মৌখিক ইতিহাস এবং ভিজ্যুয়াল উপকরণের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

আল মুজাদিলাহ জানায়, এই গবেষণায় ৫০০টির বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং বিপুলসংখ্যক ধ্রুপদি ও সমকালীন উৎস ব্যবহার করা হবে।

ড. নাজাহর মতে, এই বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের উদ্দেশ্য হলো ‘আলফু মুসলিমাহকে’ শুধু পৃথক নারীদের জীবনী সংকলনের উৎস হিসেবে নয়, মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বহু সংখ্যক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আর বৃহত্তর পাঠকসমাজের জন্য এর লক্ষ্য হলো, আরো বিস্তৃত পরিসরের নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সহজবোধ্য বিবরণ তুলে ধরা।

ড. নাজাহ বলেন, “কাতার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রস্তাবনা আরবি ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে যেকোনো নারীকে বেছে নিতে পারবেন অথবা নিজেদের অঞ্চল কিংবা গবেষণার ক্ষেত্র থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।” প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা জমা দিতে পারবেন।

উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ড. নাজাহ জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, মুসলিম নারীদের অবদানের আরো সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করা এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা।

সূত্র: দ্যা পেনিনসুলা

দোহা মেট্রোর আল সাদ্দ স্টেশনকে সাজিয়ে তোলা হলো দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রে

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
দোহা মেট্রোর আল সাদ্দ স্টেশনকে সাজিয়ে তোলা হলো দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রে
টপ স্টোরিজ

দোহা মেট্রোর 'আল সাদ্দ' (Al Sadd) স্টেশনটি পাবলিক আর্টের এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামসের (Qatar Museums) যৌথ উদ্যোগে তৈরি দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রগুলো (Murals) শিল্প, ঐতিহ্য এবং দৈনন্দিন যাত্রার চমৎকার সংযোগ ঘটিয়েছে।

কাতার রেলের (Qatar Rail) এক বার্তায় জানানো হয়, এই দেয়ালচিত্রগুলো যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় শিল্প ও সংস্কৃতির এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরো স্টেশন এলাকাটি একটি উন্মুক্ত গ্যালারির রূপ নিয়েছে, যা পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলের মাঝে শিল্পকর্মগুলো উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

কাতার মিউজিয়ামসের বৃহত্তর পাবলিক আর্ট উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি এই দেয়ালচিত্রগুলোতে কাতারি ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পের সংমিশ্রণ দেখা যায়:

ঐতিহ্যবাহী প্রতিকৃতি: একটি চিত্রে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরিহিত ব্যক্তিত্ব, উট এবং বাজপাখির (Falcon) সাথে গাঢ় জ্যামিতিক নকশার মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সৃজনশীল শিল্পকর্ম: আরেকটি প্রাণবন্ত চিত্রে চিত্রকর্মে মগ্ন বিভিন্ন স্টাইলাইজড চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সামাজিক আবহাওয়া: অন্য একটি দেয়ালচিত্রে প্রথাগত 'থোব' (Thobe) পরিহিত মানুষকে পাত্র থেকে তরল ঢালার দৃশ্য ঘিরে একত্রিত হতে দেখা যায়, যা কাতারি আতিথেয়তা ও সামাজিক ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করে।

দোহা জুড়ে গণপরিবহন ও শহুরে স্থানগুলোতে শিল্পকে যুক্ত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গোল্ড লাইনে (Gold Line) অবস্থিত ব্যস্ত আল সাদ্দ স্টেশনটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে চালু হয়। দোহার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এই দেয়ালচিত্রগুলো স্থানীয় অধিবাসী ও পর্যটক—উভয়ের কাছেই বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।