১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

কম্বোডিয়ার টাইলস কারখানায় কাজ করতেন পাবনার আল আমিন। কাজের সময় শতাধিক টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে তাঁর মরদেহ। তিনি মারা যান ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। মরদেহ দেশে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় এসে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে আল আমিনের শ্যালক মাসুম খান।

তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় দূতাবাস নেই। কল্যাণ বোর্ড থেকে আবেদনটি পাঠানো হয় থাইল্যান্ডে। মরদেহটি কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করতে পারেনি দূতাবাস। এটি জানতে পেরে তিনি প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশটির স্থানীয় পুলিশের নম্বর সংগ্রহ করে কল্যাণ বোর্ডকে সহায়তা করেন।

মরদেহ আনতে এমন হয়রানির ঘটনা অহরহ নয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি বলছে, বিদেশে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। সৌদি আরবে কিছু কর্মীকে দাফন করা হয় স্থানীয়ভাবে। তবে অধিকাংশ মরদেহ দেশে আনতে চায় পরিবার। নিয়মিত কর্মী হলে মরদেহ মোটামুটি সময়মতো দেশে আসে; কিন্তু কর্মী কোনো কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে (বৈধ কাগজ না থাকা) দীর্ঘ সময় লেগে যায় মরদেহ আনতে।

প্রবাসে কোনো কর্মী মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনার দায়িত্ব নেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরদেহ আনার আগে একাধিক দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এতে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে এটি আগের চেয়ে কমেছে; আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই, সেখান থেকে মরদেহ আনতে বেশি সময় লাগে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫১ প্রবাসীর মরদেহ আসে দেশে। ২০২০ সালে এটি কমে হয় ৩ হাজার ১৪০ জন। মূলত করোনা মহামারির সময় অনেকে মরদেহ দেশে না এনে স্থানীয়ভাবে দাফন করেন। ২০২১ সাল থেকে দেশে আসা মরদেহ বাড়তে থাকে। করোনাকাল বাদ দিয়ে সাধারণ সময় মৃতের ১ শতাংশের কম দাফন হয় গন্তব্য দেশগুলোতে।

এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে ৪ হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে। এ বছর দেশটিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার। যদিও বিদেশে বৃহত্তম কর্মসংস্থান হলো সৌদি আরব। এ বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন দেশটিতে। এরপর সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা গেছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে গত আড়াই বছর ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে আছে।

অভিবাসন খাত নিয়ে নিয়মিত কাজ করে, এমন বেসরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মী যে দেশে মারা যান, সেখান থেকে মৃত্যুর একটি কারণ লিখে পাঠানো হয়। রোগসহ স্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, খুন, আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগ আছে; কিন্তু বিদেশে কর্মীদের মৃত্যুর কোনো কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় না। এভাবে দায়সারাভাবে মৃত্যুর কারণ বলে দেওয়াটা পরিবারের জন্য অসম্মানজনক।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ১ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের চিকিৎসাসহায়তা বাড়ানো হয়েছে। মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনতে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যাঁরা অনিয়মিত কর্মী, তাঁদের মরদেহ আনতেও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিদেশে মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে করণীয় ঠিক করা হবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, মৃত্যুর পর কর্মীর পরিবার থেকে আবেদন করতে হয়। কর্মী যদি দেশ থেকে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন বা বিদেশে যাওয়ার পর দূতাবাস থেকে সদস্য নিবন্ধন নেন; তাহলে তাঁর মরদেহ আনার খরচ কল্যাণ বোর্ডের। এর কোনোটি না থাকলেও বোর্ডে আবেদন করতে পারে পরিবার। সে ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দেশে আনতে খরচ দেওয়া হয়, এটি প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ থাকে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৬ শতাংশের বেশি

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগে প্রায় ৭০ শতাংশ মরদেহের সঙ্গে আসা কাগজপত্রে কারণ হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা থাকত। এ বছর প্রথম ৯ মাসে ৬৬ শতাংশের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে; আর দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে বাকি ৩৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

মোট মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা, কাজের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পরে যাওয়া ও বিদ্যুতায়িত হয়ে এ বছর মারা গেছেন ১৬ শতাংশের বেশি।

এর আগে ২০২৩ সালে প্রবাসে মৃত কর্মীদের পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১৮ হাজার ১৬৬টি মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া ও বৈদ্যুতিক শকে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন।

সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৯ জন। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রবাসী মারা যান কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। কর্মক্ষেত্রে আসা–যাওয়া ও কাজের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নোয়াখালীর ফয়েজ আহম্মেদ ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করতেন। সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ছোট ভাই সুজন আহম্মেদ। দুজন মিলে একই গাড়িতে করে খেজুর পরিবহনের কাজ করতেন। গত ১৬ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দুই ভাই। ২৮ জুলাই দেশে আসে মরদেহ। তাঁদের বাবা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, হঠা সব শেষ হয়ে গেল। মরদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে কল্যাণ বোর্ড।

দেশে আসা প্রতিটি মৃতদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয় কল্যাণ বোর্ড। এরপর তিন লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এর বাইরে এখন জীবন বিমার সুবিধা পায় কর্মীর পরিবার; আর বিদেশে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি থাকলে তা দূতাবাসের মাধ্যমে আদায় করে দেওয়া হয়। মৃত কর্মীর বকেয়া থাকলে তা-ও আদায়ের উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর প্রথম ৬ মাসে মরদেহ দাফনে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; আর আর্থিক অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কর্মীদের বিমাসুবিধা দেওয়া হয়েছে ৪৪ কোটি টাকার বেশি। বিদেশ থেকে ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ও বিমা আদায় করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

কর্মীদের আর্থিক অনুদান, ক্ষতিপূরণ, বিমাসুবিধা আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবেদন করার পর দিনের পর দিন কল্যাণ বোর্ডে ঘুরতে হয়। কারও কারও সহায়তা পেতে পেতে পরিবারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়; আর বিদেশ থেকে সব হারিয়ে ফিরে আসা অনিয়মিত কর্মীরা সরকারের এসব সুবিধা পান না।

কারণ জানা গেলে কমতে পারে মৃত্যু

অভিবাসন খাতের গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে মূলত অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ। প্রচণ্ড তাপ ও সূর্যালোকে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। যে জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দিনে ও রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্‌রোগ, বহুমূত্র ও কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে অকালমৃত্যুও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মৃত্যুর কারণ জানা গেলে প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে বিএমইটি প্রশিক্ষণ দেয়। এতে গন্তব্য দেশের নিয়মকানুন, আচার-আচরণসহ নিরাপত্তা সচেতনতা বিষয়ে বিদেশগামী কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়। এটি মাত্র তিন দিনের কর্মশালা, যাতে কোনো কিছুই ভালো করে শেখানো হয় না। যে দেশে কাজে যাচ্ছেন, সে দেশের কাজের ধরন, পরিবেশ ও চাপ সামলানোর কৌশল, কর্মঘণ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাসহ কীভাবে ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, প্রতিবছর মৃত্যু বাড়ছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবকেরাও মারা যাচ্ছেন। ৭০ শতাংশের বেশি মরদেহ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, সৌদি থেকেই বেশি। প্রতিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ জানা গেলে মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার; আর জীবনযুদ্ধে লড়াই করা নারীরা বিদেশে যান।

তাঁদের আত্মহত্যার কারণগুলো অবশ্যই জোরালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনতে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না। অনিয়মিত কর্মী হলেও তাঁর মরদেহ আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

প্রথম আলো

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

শ্রেণিকক্ষের পাঠ যখন বাস্তবতার স্পর্শে প্রাণ পায়, তখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, বাংলাদেশ স্কুলের দাতা সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে ছিল সৃজনশীলতার এক বিশাল সমারোহ। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পাশাপাশি তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার দক্ষতাও ফুটে ওঠে। দিবা শাখার প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মকাণ্ড, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একদিকে শিশুদের কোমল হাতে ফুটে ওঠা রঙিন শিল্পকর্ম, অন্যদিকে কিশোর শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। প্রতিটি প্রকল্প যেন ছিল—শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও নিজেদের অপার সম্ভাবনার এক বাস্তব পরিচয়।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, বৈজ্ঞানিক মননের অপূর্ব সৃষ্টি এবং নিজেদের কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টিশীলতা বৃহত্তর দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করার এক বিরল প্রয়াস। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যাহত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিজ্ঞান ও শিল্পের এ আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর চালানো নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। এই হামলায় হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দোহা এই হামলার ঘটনায় "কঠোরতম ভাষায়" নিন্দা জ্ঞাপন করছে। একই সাথে এই হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি এক প্রত্যক্ষ ও গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করে যে, কাতার সৌদি আরবের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরব সরকারের গৃহীত যেকোনো বিধিসম্মত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কাতারের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কাতার সরকার এই হামলায় নিহত শহীদদের পরিবার, সৌদি সরকার এবং দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেছে।

দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

কাতার এয়ারওয়েজ দোহা ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। পরিচালনাগত কারণে ২০২৬ সালের ৯ ও ১০ অক্টোবর এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে জারি করা এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় কাতার এয়ারওয়েজ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে যাত্রীদের অবহিত করে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

৯ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1168 / QR1169

  • QR1164 / QR1165

  • QR1238 / QR1239

  • QR1172 / QR1173

  • QR1166 / QR1167

১০ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1238 / QR1239

  • QR1164 / QR1165

যাত্রীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

দোহা থেকে রিয়াদ কিংবা রিয়াদ থেকে দোহাগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় টিকিট বুকিং বা বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরাসরি এয়ারলাইনটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এয়ারলাইনটির সূচি ও ভ্রমণসংক্রান্ত ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় বা পশ্চিমাংশে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটা এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করত। তবে যুদ্ধের পর ইরান প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, এসব হামলা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

কাতারে ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ: প্রবাসীদের জন্য ৩টি নতুন সুবিধা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬

গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (MoCI)। ২০০৮ সালের ৮ নম্বর ভোক্তা সুরক্ষা আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ড্রাইভিং স্কুল এবং প্রশিক্ষণার্থী বা গ্রাহকদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল করা।

নতুন নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

  • লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক: সেবা প্রদানের জন্য স্পষ্ট ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না ড্রাইভিং স্কুলগুলো।

  • প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ: চুক্তির মধ্যে অবশ্যই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরুর প্রকৃত তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পারমিট নম্বর প্রাপ্তির সুযোগ: সাধারণ ডাইরেক্টরেট অব ট্রাফিক (General Directorate of Traffic) কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট নম্বর যেন গ্রাহকরা সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়সীমা ও নজরদারি:

নিয়ম লঙ্ঘনকারী ড্রাইভিং স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থা সংশোধন এবং নতুন শর্তাবলী মেনে চলার জন্য নোটিশ জারির তারিখ থেকে এক মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কাতার জুড়ে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শণ অভিযান পরিচালনা করবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করা যায়।

কোনো ড্রাইভিং স্কুল নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্যের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬০০১ নম্বরে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অফিশিয়াল পেজে যোগাযোগ করা যাবে।