৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ০৫, ২০২৬
পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ

আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি ক্রয়ে কোনো ধরনের অফলাইন বা ম্যানুয়াল (কাগজে-কলমে) দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। দেশের ক্রয় খাত সংস্কারের যাত্রায় এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ১ জুলাই, ২০২৬ এর আগে ম্যানুয়ালি শুরু হলে সেই প্রক্রিয়ার বাকি ধাপগুলো ম্যানুয়ালি চলতে পারে। তবে ওই তারিখের পর নতুন কোনো অফলাইন টেন্ডারিং প্রক্রিয়া অনুমোদিত হবে না। ই-জিপি ব্যবহার থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনও ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর আর অনুমোদিত হবে না।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সরকারি ক্রয়: একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সুশাসনে সরকারি ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ সরকারি ক্রয়ে ব্যয় হয়। তাই জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সেবা প্রদানের মান বাড়াতে এই খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

ক্রয় ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে, যা ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হয়। এর পাশাপাশি, পিপিআর-২০০৮-এর পরিবর্তে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ প্রবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ক্রয় ব্যবস্থায় একটি ব্যাপক সংস্কার হয়েছে।

ই-জিপি: ক্রয় খাত সংস্কারের মেরুদণ্ড
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের অধীনে সবচেয়ে যুগান্তকারী সংস্কারগুলোর অন্যতম হলো সব ধরনের ক্রয় কার্যক্রমে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রবর্তিত এই ই-জিপি ব্যবস্থা দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে চুক্তি সম্পাদন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া—অর্থাৎ সম্পূর্ণ ক্রয় চক্রকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ক্রয় ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়নের এই পদক্ষেপের ফলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতির দরপত্রের সাথে জড়িত দীর্ঘদিনের বহু সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কাজের দীর্ঘসূত্রতা, স্বচ্ছতার অভাব, মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং অনিয়মের সুযোগ।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংস্কারের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি:
দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের গড় সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিআর, ২০২৫ বাস্তবায়নের আগে যেখানে দরপত্র প্রতি গড় দরদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ২.২ জন, সেখানে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪ জনে।

ই-জিপি নিবন্ধনের জোয়ার:
নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর দৈনিক ই-জিপি নিবন্ধনের আবেদন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি আবেদন জমা পড়ত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টিতে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তারাও এখন সরকারি ক্রয়ে ক্রমবর্ধমান হারে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে ই-জিপি সিস্টেমে ৭ হাজার ৪০৮ জন নারী দরদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন, যার মধ্যে পিপিআর, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭ জন।

মূল্যের যৌক্তিকতা বৃদ্ধি:
নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কাজের ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের সাথে দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্যের গড় পার্থক্যের হার ঋণাত্মক ১০ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। মূল্যের এই উন্নতি অস্বাভাবিক কম মূল্যে দরপত্র দাখিলের আশঙ্কা বা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করেছে।

‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫’ এ ১৫৪টি বিধি এবং ২১টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাজের পরিবর্তে কৌশলগত সুশাসনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সংস্কারগুলো হলো: জাতীয় কাজের ক্রয়ে ১০ শতাংশ মূল্যসীমা বাতিল করে বাজারভিত্তিক মূল্য নিশ্চিতকরণ; সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি ব্যবহার; চুক্তি সম্পাদনকারী বা কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার তথ্য প্রকাশ; টেকসই সরকারি ক্রয় (এসপিপি) প্রবর্তন; ক্রয় কৌশল ও প্রাথমিক বাজার সম্পৃক্ততা; ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ও দর-কষাকষি প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ; নারী, ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালন ক্রয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ; প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ‘ক্রয় ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ই-জিপির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি
২০১১ সালে দেশে ই-জিপি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সরকারি ক্রয়ে অভূতপূর্ব দক্ষতা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ক্রয়ের গড় সময়সীমা কমে ৫৪ দিনে নেমে এসেছে। মূল দরপত্রের বৈধতার মেয়াদের মধ্যেই ৯৯ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি এবং কার্যাদেশ বা চুক্তি অনুমোদনের তথ্য শতভাগ অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই অর্জনগুলো দেশের ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ
ক্রয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দরদাতাদের দক্ষতার অভাব, দুর্বল চুক্তি ব্যবস্থাপনা, নৈতিক দুর্বলতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত যোগাযোগ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

আগামীর পথচলা
বিপিপিএ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, নীতি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্রয় ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (আইপিপি) জাতীয় পর্যায়ে ক্রয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সার্বিকভাবে যেভাবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ক্রয় ব্যবস্থায় রূপান্তর হচ্ছে, তা কেবল একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, বরং স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক শাসনতান্ত্রিক সংস্কার।

বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শতভাগ ই-জিপি বাধ্যতামূলক এবং সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে ডিজিটাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রূপান্তরের অন্যতম অগ্রগণ্য দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ক্রয় সংস্কারের বিভিন্ন অর্জন টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের আগে তাদের জন্য ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিপিপিএ সিইও আরও জানান, প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (আইপিপি)-কে ভবিষ্যতে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারি ক্রয় এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সকল অংশীজনদের সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, সোমবার আল-জাওফ প্রদেশের ‘সেন্ট্রাল কারেকটিভ ফ্যাসিলিটি’ নামে ওই কারাগারে হামলা চালানো হয়। হামলায় এক নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

হুথি নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ হামলার পরের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজনকে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায় বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে।

তবে সৌদি আরব এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল মাসিরাহ টিভি আরও কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী সরবরাহ ট্রাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করে বলেন, আল-জাওফে সৌদি আরব ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হামলার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে এবং এর পরিণতি সৌদি আরবকেই বহন করতে হবে।’

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোন ছিল বলে জানান ইয়াহিয়া সারি।

তার দাবি, ড্রোনটি আল-জাওফে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ ধরনের দ্বিতীয় এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগেরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)।

এনসিএম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে টানা বজ্রঝড় এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

জাজান এবং আসিরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ এবং সামতাহ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাজান শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জেও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ এবং বলকারন এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না।এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেওয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া একদম অনুচিত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড এল্যার্ট’ জারি করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

লাল সতর্কতা হলো দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়ে থাকে। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।