৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক মুসলিম গণিতবিদের নাম যেভাবে বদলে দিল আধুনিক প্রযুক্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
এক মুসলিম গণিতবিদের নাম যেভাবে বদলে দিল আধুনিক প্রযুক্তি

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি হলো অ্যালগরিদম শব্দের ইতিহাস। আমরা প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি, তথ্য অনুসন্ধান করি, ভিডিও দেখি কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করি। এসব ক্ষেত্রেই অদৃশ্যভাবে কাজ করে অ্যালগরিদম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বহুল ব্যবহৃত শব্দটির শিকড় লুকিয়ে আছে এক মুসলিম গণিতবিদের নামের মধ্যে। অ্যালগরিদম শব্দের ইতিহাস জানতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় বারোশ বছর আগের ইসলামি জ্ঞানচর্চার স্বর্ণযুগে, যেখানে একজন অসাধারণ মনীষীর অবদান আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তিগত ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

বর্তমান সময়ে অ্যালগরিদম শব্দটি শুধু প্রযুক্তি নয়, সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কোন সংবাদ দেখব, কোন ভিডিও আমাদের সামনে আসবে কিংবা কোন বিষয়ে আগ্রহী হব—এসব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অ্যালগরিদম। অনেকের কাছে অ্যালগরিদম এখন রহস্যময় একটি ধারণা। কেউ কেউ এটিকে মানুষের চিন্তা ও মতামত নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হিসেবেও দেখেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অ্যালগরিদম মূলত কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে সাজানো নির্দেশনার সমষ্টি।

এই ধারণার পেছনে যিনি সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন, তিনি হলেন মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি। তার নাম থেকেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ভাষাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে অ্যালগরিদম শব্দটি।

কে ছিলেন আল-খাওয়ারিজমি?
মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি ছিলেন নবম শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট মুসলিম বিজ্ঞানী। তিনি শুধু গণিতবিদই ছিলেন না; একই সঙ্গে ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভূগোলবিদ এবং গবেষক। তার জন্ম বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত খাওয়ারিজম অঞ্চলে। তার নামের শেষাংশ “আল-খাওয়ারিজমি” এসেছে জন্মস্থানের নাম থেকে। সে সময় ইসলামি সভ্যতার জ্ঞানচর্চা বিশ্বে সবচেয়ে সমৃদ্ধ অবস্থানে ছিল। বাগদাদের জ্ঞানকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা চলত, আর আল-খাওয়ারিজমি ছিলেন সেই জ্ঞানবিপ্লবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

গণিতশাস্ত্রে তার অবদান এতটাই গভীর ছিল যে, আধুনিক গণিত ও গণনাবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণে তার কাজ আজও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

অ্যালগরিদম শব্দের জন্ম কীভাবে?
আল-খাওয়ারিজমির লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ পরবর্তীকালে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। তার নামের ল্যাটিন রূপ ছিল “আলগোরিতমি”। ইউরোপের পণ্ডিতরা তার গণনা পদ্ধতি ও গাণিতিক নিয়ম বোঝাতে এই নাম ব্যবহার করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে শব্দটি ভাষাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ পেতে থাকে। ল্যাটিন থেকে ফরাসি এবং পরে অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় প্রবেশ করে এটি বর্তমান অ্যালগরিদম শব্দে পরিণত হয়।অর্থাৎ আজ আমরা যে শব্দটি প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছি, সেটি আসলে একজন মুসলিম বিজ্ঞানীর নামের বিবর্তিত রূপ।

আল-খাওয়ারিজমির বিপ্লব
আল-খাওয়ারিজমির সবচেয়ে বিখ্যাত অবদান তার গণিতবিষয়ক গ্রন্থ। সেখানে তিনি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানকে সহজ ধাপে ভাগ করে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, কোনো সমস্যাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করলে সমাধান পাওয়া সম্ভব। এই ধারণাই পরবর্তীকালে অ্যালগরিদমিক চিন্তার ভিত্তি হয়ে ওঠে। বর্তমান কম্পিউটার যেভাবে ধাপে ধাপে নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করে, তার মূল দর্শনের সঙ্গে আল-খাওয়ারিজমির চিন্তার বিস্ময়কর মিল রয়েছে।

বীজগণিতের জনক হিসেবে পরিচিতি
বিশ্ব ইতিহাসে আল-খাওয়ারিজমিকে প্রায়ই বীজগণিতের জনক বলা হয়। তার গবেষণা বীজগণিতকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।তিনি সমীকরণ সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং গাণিতিক যুক্তিকে আরও সংগঠিত রূপ দেন। আধুনিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বীজগণিত পড়ানো হয়, তার শিকড়ও অনেকাংশে তার কাজের মধ্যে নিহিত। বিজ্ঞান ইতিহাসবিদদের মতে, তার কাজ ছাড়া আধুনিক গণিতের বিকাশ কল্পনা করা কঠিন।

শূন্য ও সংখ্যা পদ্ধতির প্রসারে ভূমিকা
আল-খাওয়ারিজমির আরেকটি বড় অবদান হলো হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির প্রসার। তিনি এমন এক সংখ্যা পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করেন, যেখানে শূন্যের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশ যে সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করে, তার বিস্তারে আল-খাওয়ারিজমির ভূমিকা ছিল অনন্য। শূন্য ছাড়া আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রায় অসম্ভব হতো। এই কারণে তাকে শুধু একজন গণিতবিদ নয়, বরং মানবসভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

অ্যালগরিদম আসলে কী?
সহজ ভাষায় অ্যালগরিদম হলো কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট ধাপের সমষ্টি। একটি সমস্যা সমাধানের জন্য কী করতে হবে, কোন কাজের পরে কোন কাজ হবে—এসব নির্দেশনা অ্যালগরিদমের অংশ। উদাহরণ হিসেবে রান্নার একটি রেসিপির কথা ভাবা যেতে পারে। প্রথমে উপকরণ প্রস্তুত করা, এরপর নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো, তারপর নির্দিষ্ট সময় রান্না করা—সবই ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। অ্যালগরিদমও ঠিক একইভাবে কাজ করে। পার্থক্য হলো, এটি মানুষ বা যন্ত্রকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দেয়।

আধুনিক প্রযুক্তিতে অ্যালগরিদমের ব্যবহার
আজকের পৃথিবীতে অ্যালগরিদম ছাড়া প্রযুক্তির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। অনুসন্ধান ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা প্রযুক্তি—সবখানেই অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হচ্ছে। আপনি যখন কোনো তথ্য খোঁজেন, তখন অ্যালগরিদম সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল খুঁজে দেয়। আপনি যখন ভিডিও দেখেন, তখন আপনার আগ্রহ অনুযায়ী নতুন ভিডিও সাজিয়ে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে হাজার হাজার অ্যালগরিদমিক নিয়ম।

পথনির্দেশনা থেকে মহাকাশ অভিযান
অ্যালগরিদম শুধু তথ্যপ্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি নৌপরিবহন, ব্যবসা, জরিপ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ নির্ণয়, যানবাহনের দিকনির্দেশনা এবং মহাকাশযানের পথ নির্ধারণেও অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের চাঁদে যাত্রার পেছনেও বিভিন্ন অ্যালগরিদমিক গণনা কাজ করেছে। ফলে এটি মানবসভ্যতার অগ্রগতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অ্যালগরিদম নিয়ে বিতর্ক কেন?
যদিও অ্যালগরিদম মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তবুও এটি নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত অ্যালগরিদম অনেক সময় ব্যবহারকারীদের একই ধরনের মতামত ও তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। এর ফলে মানুষ ভিন্নমত সম্পর্কে কম জানে এবং নিজস্ব বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি সমাজে বিভাজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। তবে সমস্যা অ্যালগরিদমে নয়, বরং এর ব্যবহারের পদ্ধতিতে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি মানবকল্যাণে বিশাল অবদান রাখতে পারে।

উপসংহার
অ্যালগরিদম শব্দের ইতিহাস আমাদের শুধু একটি শব্দের উৎপত্তির গল্প শোনায় না, বরং মানবসভ্যতার জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে। নবম শতাব্দীর মুসলিম বিজ্ঞানী আল-খাওয়ারিজমির গবেষণা আজকের ডিজিটাল বিশ্বের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে আমরা যে প্রযুক্তিনির্ভর যুগে বাস করছি, তার পেছনে রয়েছে শত শত বছরের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন।

অ্যালগরিদম সেই দীর্ঘ যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই যখনই আমরা অ্যালগরিদম শব্দটি উচ্চারণ করি, তখন অজান্তেই স্মরণ করি একজন মহান মুসলিম গণিতবিদের অসাধারণ অবদানকে, যিনি তার সময়কে অতিক্রম করে আজও বিশ্বকে পথ দেখিয়ে চলেছেন।

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, সোমবার আল-জাওফ প্রদেশের ‘সেন্ট্রাল কারেকটিভ ফ্যাসিলিটি’ নামে ওই কারাগারে হামলা চালানো হয়। হামলায় এক নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

হুথি নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ হামলার পরের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজনকে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায় বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে।

তবে সৌদি আরব এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল মাসিরাহ টিভি আরও কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী সরবরাহ ট্রাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করে বলেন, আল-জাওফে সৌদি আরব ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হামলার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে এবং এর পরিণতি সৌদি আরবকেই বহন করতে হবে।’

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোন ছিল বলে জানান ইয়াহিয়া সারি।

তার দাবি, ড্রোনটি আল-জাওফে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ ধরনের দ্বিতীয় এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগেরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)।

এনসিএম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে টানা বজ্রঝড় এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

জাজান এবং আসিরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ এবং সামতাহ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাজান শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জেও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ এবং বলকারন এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না।এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেওয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া একদম অনুচিত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড এল্যার্ট’ জারি করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

লাল সতর্কতা হলো দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়ে থাকে। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।