১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এসসিও মঞ্চে বৈঠকে বসছেন পুতিন, জিনপিং ও পেজেশকিয়ান

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এসসিও মঞ্চে বৈঠকে বসছেন পুতিন, জিনপিং ও পেজেশকিয়ান

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে এসসিও সম্মেলনগুলোকে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি 'বহুমুখী বিশ্ব' গড়ার এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছর এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।


কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি জিনপিং, পেজেশকিয়ান ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেবেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা কবলিত দুই দেশ—রাশিয়া ও ইরান তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মস্কো ও বেইজিংকে ইরানের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে গেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের গুঞ্জন অনুযায়ী, র‍্যাটক্লিফ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ঐতিহাসিকভাবে এসসিও মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ১০টি স্থায়ী সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটের ১৫টি 'সংলাপ অংশীদার' রয়েছে; যার মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার অন্যতম। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া এই জোটের পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে।

এসসিও-র প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, এই গ্রুপটি 'অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়।' তবে পুতিন ও জিনপিং প্রায়শই এই মঞ্চ থেকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন। গত বছরের সম্মেলনেও পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছিলেন এবং শি জিনপিং মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বিশকেকের এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন জোটের দুই প্রধান সদস্য দেশ (রাশিয়া ও ইরান) সরাসরি সামরিক যুদ্ধে লড়ছে এবং অন্য সদস্যরা (চীন ও ভারত) মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের মুখোমুখি।

চলতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান ও সমুদ্র পরিবহন খাতের ওপর দ্বিতীয় স্তরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার লক্ষ্য মূলত ইরানি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। ওয়াশিংটন ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ 'দৃঢ়ভাবে রক্ষা' করবে। অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ইরানও জানিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না, যদিও তাদের দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরান মাত্র ২০২৩ সালে এই ব্লকের পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, 'তেহরান বিশ্বাস করে এসসিও-র মতো জোটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বড় সাহায্য করবে।' তবে এই জোট থেকে ইরান আসলে কতটা সুনির্দিষ্ট সুবিধা পাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'যেকোনো সংকটের সময়ে এই জোটগুলো ইরানের সমস্যা সমাধানে খুব কমই ভূমিকা রাখতে পেরেছে।'

যদিও এসসিও দাবি করে যে তারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে জোটের ভেতরের অভ্যন্তরীণ অমিল ও বিরোধও স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটির ওপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই রয়েছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যের প্রধান রুট। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘাত ও শীতল সম্পর্কও এই জোটের ঐক্যকে প্রায়শই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।

৬৮ বছর পর লা লিগায় বিরল কীর্তি বার্সোলোনার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৬৮ বছর পর লা লিগায় বিরল কীর্তি বার্সোলোনার

মৌসুমের শুরুতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়া, লামিন ইয়ামাল ও ফেরমিন লোপেজ মিলে করেছেন ১৬ গোল। এর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো স্পেনের শীর্ষ লিগে কোনো আক্রমণত্রয়ী প্রথম পাঁচ ম্যাচে এত গোল করার কীর্তি গড়েছে।

রবিবার রাতে লেভান্তের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচেই রেকর্ডটি স্পর্শ করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের পর আক্রমণভাগের তিন সদস্যের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ তে। নতুন মৌসুমে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে হানসি ফ্লিকের দল।

এই ১৬ গোলের মধ্যে রাফিনিয়া ও ইয়ামালের নামের পাশে রয়েছে ছয়টি করে গোল। বাকি চারটি করেছেন ফেরমিন লোপেজ। লেভান্তের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইয়ামালও দলের দুর্দান্ত শুরুর অন্যতম নায়ক হয়েছেন।

ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। রাফিনিয়ার পাস থেকে গোলটি আসে। এরপর ইয়ামালের প্রথম গোলেও অবদান রাখেন রাফিনিয়া। পরে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। তবে রক্ষণে দুটি ভুলের কারণে লেভান্তে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কারিম আদেয়েমির গোলে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের সাথে সাথেই ৬৮ বছর আগের একটি রেকর্ডের পাশে বসে বার্সার বর্তমান আক্রমণত্রয়ী। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ত্রয়ী আলফ্রেডো দি স্তেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস ও হেক্তর রিয়াল প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল।

তবে লা লিগার ইতিহাসে প্রথম পাঁচ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখনো সেভিয়ার। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে গিয়ের্মো কাম্পানাল, মিগেল তোরোনতেগুই ও হোসে লোপেজ মিলে করেছিলেন ২৪ গোল।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে ১৭ গোল করা দুটি আক্রমণত্রয়ী। একই মৌসুমে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের প্রুদেন সানচেজ, পাকো কাম্পোস ও কোসমে ভাসকেজ এবং সেলতা ভিগোর আগুস্তিন হারাবো, হুয়ান দেল পিনো ও রাইমুন্দো দিয়াজ এই কীর্তি গড়েছিলেন।

এ ছাড়া ১৯৪১-৪২ মৌসুমে সেভিয়ার রাইমুন্দো ব্লাঙ্কো, পেপিয়ো ও কাম্পানাল এবং ১৯৫০-৫১ মৌসুমে বার্সেলোনার সেসার রদ্রিগেজ, মার্কোস আউরেলিও ও এস্তানিসলাও বাসোরাও প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন। ফলে এবার নিজেদের ক্লাবের পুরোনো রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা।

মাঠে রেফারিদের হাতে এবার ‘কালো কার্ড’

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
মাঠে রেফারিদের হাতে এবার ‘কালো কার্ড’

শিশুদের ফুটবল ম্যাচে গ্যালারিতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ, গালাগালি কিংবা হাতাহাতির মতো বিশৃঙ্খলা রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন।

খুদে ফুটবলারদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘কালো কার্ড’। প্রথাসিদ্ধ লাল কিংবা হলুদ কার্ডের মতো খেলোয়াড়দের ওপর নয়, বরং গ্যালারির বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি অভিভাবকদের সতর্ক করতেই এটি ব্যবহার করবেন রেফারি।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। দেশটির অনূর্ধ্ব-৭ থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যন্ত সব যুব প্রতিযোগিতায় নিয়মটি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে দর্শকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে প্রথম দফায় খেলা সাময়িকভাবে থামিয়ে দেবেন রেফারি।

এ সময় দুই দলের কোচ গ্যালারিতে গিয়ে নিজেদের সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করবেন। তাতেও যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে দ্বিতীয় ধাপে খেলা ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হবে এবং ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও যদি অভিভাবকদের আপত্তিকর আচরণ অব্যাহত থাকে, তবে রেফারি তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘কালো কার্ড’ প্রদর্শন করবেন।

আর রেফারি এই কার্ড বের করা মাত্রই ম্যাচটি স্থায়ীভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই সেদিনের মতো আর মাঠে খেলা গড়াবে না।

এর আগে ২০২৪ সালে গ্যালারির অসদাচরণ বন্ধে জরিমানা কিংবা লাইসেন্স বাতিলের কঠোর বিধান রাখা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। ম্যাচ শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এবার সরাসরি খেলার চলাকালীন পরিস্থিতি সামলানোর মূল ক্ষমতা রেফারির হাতে তুলে দিলো রোমানিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করায় বয়কটের মুখে অ্যাডিডাস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করায় বয়কটের মুখে অ্যাডিডাস
অ্যাডিডাস বয়কটের আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন হাভিয়ের বারদেম ও ফাতিমা ভুট্টো/ ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সাবেক এক ইসরায়েলি সেনাকে বিজ্ঞাপনে দেখানোয় বয়কটের মুখে পড়েছে জার্মান ক্রীড়াপণ্য নির্মাতা অ্যাডিডাস। সম্প্রতি অ্যাম্পিউটি বা অঙ্গহানির শিকার ব্যক্তিদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির এক পায়ের জুতা সরবরাহ–সেবার প্রচারে সাবেক ইসরায়েলি সেনা শালেভ বিটনকে দেখানো হয়েছে।

ইসরায়েলের একটি দোকানে তাকে জুতা পরতে দেখা যায়। পরে বাইরে দৌড়াতেও দেখা যায় সাবেক এ সেনাকে।

বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অ্যাডিডাসকে বয়কটের আহ্বানও জানানো হচ্ছে।

‘ফিলিস্তিনিদের জন্য অপমানজনক’
ফিলিস্তিনপন্থি বয়কট আন্দোলনের সংগঠকেরা এই বিজ্ঞাপনকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ‘চরম অবমাননাকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্যালেস্টিনিয়ান ক্যাম্পেইন ফর দ্য একাডেমিক অ্যান্ড কালচারাল বয়কট অব ইসরায়েলের (পিএসিবিআই) স্পোর্টস বয়কট ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী স্টেফানি ওয়েস্টব্রুক অ্যাডিডাসের সমালোচনা করেছেন।

তার কথায়, এটি শুধু অ্যাডিডাসের অসংবেদনশীলতা বা পরিস্থিতি না বোঝার ঘটনা নয়। বরং গাজায় ইসরায়েলি হামলায় স্বজন ও অঙ্গ হারানো ফিলিস্তিনিদের জন্য অপমানজনক।

ওয়েস্টব্রুকের মতে, এ ধরনের প্রচারণা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনে থাকা শালেভ বিটন সাবেক ইসরায়েলি সেনা। ২০২১ সালে ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে সংঘাতের সময় আহত হয়ে তিনি একটি পা হারান।

ওই সময়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা ১১ দিনের হামলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল

ওয়েস্টব্রুক বলেন, বিজ্ঞাপনে এমন একজনকে তুলে ধরা হয়েছে যার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তার সেনাজীবন।

এ নিয়ে তিনি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও ফিলিস্তিনিদের ওপর এর প্রভাবের প্রসঙ্গও তুলেছেন।

গাজায় অঙ্গহানির চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত গাজায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা দুই বছরের সংঘাতে প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি জীবন বদলে দেওয়া ধরনের আঘাত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিস্থিতিও চরম সংকটপূর্ণ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ওষুধ ও কৃত্রিম অঙ্গসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলই প্রধান বাধা: সৌদি, কাতারসহ ৮ দেশের যৌথ বিবৃতি

নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদও
অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনে সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে দৌড়াতে দেখা গেলেও গাজায় যুদ্ধের কারণে ক্রীড়াঙ্গনেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিস্তিনের ১১ ফুটবলার ও ফিফা রেফারিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সময় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। অনেক ফুটবল খেলোয়াড়ও অঙ্গ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন

গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের

তাদের কেউ কেউ অ্যাম্পিউটি ফুটবল দল গঠন করেছেন। ধ্বংস, মৃত্যু ও অঙ্গহানির মধ্যেও খেলাধুলার মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

বয়কটের আহ্বানে তারকারাও
অ্যাডিডাস বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের প্রচারণাসংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন।

মার্কিন-ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়া, পাকিস্তানি লেখক ফাতিমা ভুট্টোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ফিলিস্তিনিও অ্যাডিডাসের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গাজায় গত দুই বছরে অঙ্গচ্ছেদের শিকার মানুষের প্রায় এক-চতুর্থাংশই শিশু।

আরও পড়ুন

গাজায় প্রতিদিন ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের

সংস্থাটির মতে, প্রতি ব্যক্তির হিসাবে গাজায় বিশ্বের অন্য যে কোনো স্থানের তুলনায় শিশু অ্যাম্পিউটির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ইউনিসেফের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি জীবন বদলে দেওয়া ধরনের আঘাত পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১১ হাজারই শিশু।

সূত্র: আল-জাজিরা

কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করল বাফুফে

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করল বাফুফে

উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দলের চরম ব্যর্থতা এবং টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের দায়ে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দলের বাজে পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক পর্যালোচনার পর জরুরি ভিত্তিতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে ই-মেইলের মাধ্যমে বরখাস্তের চূড়ান্ত বার্তা পাঠানো হয়। বাফুফের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত দুই ম্যাচে দলের কৌশলগত ভুল এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ঘাটতি দেখে ফেডারেশন কর্তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

বিশেষ করে সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশের ফুটবল অঙ্গনে যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়, তা সামাল দিতেই টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচকে সরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বাফুফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোন্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনিই প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।

সিরিয়ার কাছে হারের পর গত রাতেই জোন্সকে টিম হোটেল থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তাকে বর্তমানে দলের মূল আবাসন থেকে সরিয়ে অন্য একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আতিকুর রহমান মিশুকে এই পরিবর্তনের কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, জেরার্ড জোন্সকে নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই বাফুফে দফায় দফায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। কখনো বেতন নিয়ে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবার কখনো ঢাকায় টিম হোটেলে সহকারী কোচের সাথে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় পুলিশ ডাকার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। মাঠের বাইরের এতসব কেলেঙ্কারির পরেও তাকেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ করে উজবেকিস্তানে পাঠিয়েছিল বাফুফে, যা নিয়ে ফুটবল মহলে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল।

কিন্তু উজবেকিস্তানে গিয়ে মাঠের লড়াইয়েও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন জোন্স। দুই ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো গোল তো করতেই পারেনি, উল্টো হজম করেছে ৫টি গোল। দলের এমন ছন্নছাড়া দশা এবং কোচের অপেশাদার আচরণের কারণেই তাকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে ফেডারেশন।

আজ উজবেকিস্তানে রিকভারি সেশন করবেন নাজমুল-আব্বাসরা। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় আতিকুর রহমান মিশুর অধীনেই প্রথমবার অনুশীলনে নামবে বাংলাদেশ দল। এখন দেখার বিষয়, কোচ পরিবর্তনের পর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে টাইগাররা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।

মেসির ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
মেসির ১০ নম্বর জার্সি পাচ্ছেন কে?

যেই দিনটি কেউ চাইছিল না, সেটাই এসে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন লিওনেল মেসি। হাতে লেখা একটি বার্তা ও এক আবেগঘন ভিডিও দিয়ে রোজারিওর জাদুকর তার সাফল্যে ভরা অধ্যায়ের ইতি টানলেন। এখন আলবিসেলেস্তের ১০ নম্বর জার্সি উঠবে নতুন কারও গায়ে। আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে এই জার্সির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রহস্যই থেকে যাবে।

মেসি প্রথমবার এই আইকনিক জার্সি পরেছিলেন ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ, জাতীয় দলে যখন কোচ ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এই জার্সিতে অভিষেকেই তার ক্যারিয়ারের দারুণ সূচনা এনে দেন, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৪-০ গোলে ম্যাচটি জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তারপর থেকে এই জার্সি তার গায়েই শোভা পেয়েছে।

মেসি অবসর নেওয়ায় নতুন নাম্বার টেন খুঁজে বের করা এখন বাধ্যতামূলক। মেসি বাদে এই জার্সি শেষবার পরেছিলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। ১-০ গোলে হারের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে এই জার্সি পরে মাঠে নামেন তিনি। তারও আগে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেল কোরেয়া ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলে। পাওলো দিবালাও পেয়েছিলেন ১০ নম্বর জার্সি পরার সুযোগ, চিলির বিপক্ষে। কিন্তু এই তিনজনের কেউই শেষ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন না।

লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দলে নিয়মিত ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে নিজ ক্লাবের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। ইন্টার মিলানের হয়ে লাউতারো মার্টিনেজ, লিভারপুলে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোমার নিকোলাস পাজ। তাদের আগেও নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে একটা সময় এই জার্সি পরেছিলেন রদ্রিগো দি পল (রেসিং ও উদিনেসে), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা), থিয়াগো আলমাদা (ভেলেজ ও আতলান্তা ইউনাইটেড), জিওভানি লু সেলসো (রোজারিও সেন্ট্রাল) ও নিকোলাস গঞ্জালেজ (আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও ফিওরেন্তিনা)।

তবে মাঠে মেসির স্থলাভিষিক্ত হওয়া অনেক বেশি কঠিন। শুধু তিনি যা প্রতিনিধিত্ব করেন তার জন্যই নয়, বরং এই বয়সেও মাঠে তিনি যা কিছু অবদান রেখেছেন, তার জন্যও। গত দুটি বিশ্বকাপেই অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাকে ঘিরেই যেন দল আবর্তিত ছিল। যদিও শেষটা ভুলে যাওয়ার মতো হয়েছে উত্তর আমেরিকায়।

গত বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসি সেন্টার ফরোয়ার্ডের স্ট্রাইক পার্টনার হিসেবে খেলেছেন, যে ভূমিকায় শুরুতে ছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ, পরে হুলিয়ান আলভারেজ। জর্ডানের বিপক্ষে যে ম্যাচেই কেবল বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, সেই ম্যাচে লাউতারো ও আলভারেজ জুটি বেঁধে আক্রমণে খেলেছেন। সম্ভবত এই পজিশন থেকেই কেউ মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হবেন।

আরও পড়ুন

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিলেন ফিফা সভাপতি