২০ অক্টোবর ২০২৬
সিএনএন এক্সপ্লেইনার

হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ
টপ স্টোরিজ

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল সৌদি আরব। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেই এখন বড় ধাক্কা দিচ্ছে ইয়েমেনের নতুন সংঘাত। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে জোটে ফাটল, হুতিদের মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থান রিয়াদকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বড় ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইয়েমেন থেকে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই পরিকল্পনার জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রায় ১১ বছর ধরে ইয়েমেনের সংঘাত সামরিক অভিযান ও কূটনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। ইরানের মিত্র হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে রিয়াদ তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যায় এবং তেহরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের ধারাবাহিক কিছু ভুল হিসাব-নিকাশ বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইয়েমেনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বছরের শেষ দিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ফাটল দেখা দেয়। পাশাপাশি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে, তা নিয়েও রিয়াদের মূল্যায়নে ভুল ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ এবং লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলজুড়ে অভিযান শুরু করে তারা। কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২০২২ সালের পর এটিই ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও পাইপলাইনে হামলা চালায়। এতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনীও হুতিদের লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি সিএনএনকে বলেন, হুতিদের আকস্মিক হামলার জন্য সৌদি আরব প্রস্তুত ছিল না। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গেও যথাযথ সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, কয়েকটি অঞ্চল হারানোর কারণে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের হাতে এখন এমন উন্নত অস্ত্র রয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার খেসারত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভর করে আসাও সৌদি আরবের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা পাওয়ার পরও নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়েছে রিয়াদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলেন। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বরং ওয়াশিংটন ওমানে হুতিদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করে।

হুতিরাও স্পষ্ট করে জানায়, তাদের মূল লড়াই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এর ফলে লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজগুলো বাধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ পায়।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, সৌদি সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বকে ভিত্তি করে নিজেদের সামরিক কৌশল সাজিয়েছে। ফলে এককভাবে যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

বিকল্প মিত্র খুঁজছে সৌদি

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন অন্য দেশগুলোর সহযোগিতাও চাইছে রিয়াদ। গত মাসে সৌদি যুবরাজ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেন। পরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে ফ্রান্স সৌদি আরবে সামরিক কর্মী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য উড়োজাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদি আরবে কাজ করছেন।

রিয়াদে জরুরি বৈঠকের পর গত সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়। এ বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো।

অন্যদিকে ইউএই-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুতিবিরোধী অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামরিক সাফল্য কি আনবে স্থায়ী সমাধান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দেশগুলোর সামরিক সহায়তা কিংবা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সাময়িক সাফল্য দিয়ে ইয়েমেন সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো বড় বাধা। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিণতিও এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমাইসি সিএনএনকে বলেন, জোটের বিভিন্ন অংশের কমান্ড সেন্টারগুলোকে একীভূত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধও মেটাতে হবে। তাঁর মতে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে সামরিক অর্জনগুলো শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবকে চাপে রাখতে হুতিদের সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ ইরানের আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলাদা কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে পারে। অন্যদিকে হুতি নেতৃত্বকে দুর্বল করতে সামরিক অভিযানও আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, নিকট ভবিষ্যতে এই দুই পথের কোনোটিই ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে না।

ফলে সৌদি আরবের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—নিজেদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে ইয়েমেনের নতুন যুদ্ধের মোকাবিলা করবে রিয়াদ। মিত্রদের বিভক্তি, হুতিদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত ভূমিকার মধ্যে সৌদি আরবকে আপাতত আরও জটিল ও অনিশ্চিত পথেই এগোতে হচ্ছে।

ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি
টপ স্টোরিজ

পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্বাসনের মুখে। পর্তুগালের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক এবং সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, তাকে জরিমানা করা হলে তিনি সেটা মেনে নেবেন।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সিআরসেভেন। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনও ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ বা দলের কোনও কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আলমেইদা ফিফার বিচারকও। তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আলমেইদা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। রোনালদোকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে রোনালদোর জন্য স্বস্তির জায়গাও রয়েছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুটবলার তদন্তের আওতায় থাকা ঘটনার কথা স্বীকার করলে, শাস্তির সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হল, স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে। তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা চলবে না।

আলমেইদার মতে, রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুলের কথা কোনওরকম শর্ত ছাড়াই স্বীকার করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নির্বাসন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শাস্তি কার্যকর হলে, সেটা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন
শেষ ম্যাচে মেসিকে ঘিরে ধরেছেন বেনিনের ডিফেন্ডাররা
টপ স্টোরিজ

জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেও জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, বেনিনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে সক্রিয় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম কয়েক মিনিটেই বেনিনের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২ ও ৩ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।

তবে ৪ মিনিটে উল্টো আক্রমণ থেকে ফাউলের শিকার হয় বেনিন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলে ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকার দলটি। ৫ম মিনিটেই বেনিনকে আক্রমণে দেখা যায়। জুনিয়র ওলাইতানের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। একই মিনিটে মোহামেদ তিজানির পাস থেকে ইয়োহান রোশের বক্সের মাঝামাঝি থেকে নেওয়া শটও ব্লক হয়ে যায়।

৭ম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় সুযোগটি আসে মেসির কাছ থেকে। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে বাম পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু নিচের বাঁ দিকে যাওয়া শটটি বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ঠেকিয়ে দেন।

একই মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ডান পায়ের শটও বেনিন গোলরক্ষক রক্ষা করেন।

১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বেনিন। কর্নার থেকে জুনিয়র ওলাইতানের ক্রসে তসিন আইয়েগুনের হেড লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। রোদলফো আলোকোর ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সের ডান দিকে রদ্রিগো দে পল শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে মেসি আবারও গোলের খুব কাছে চলে যান। ডি পলের থ্রু বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট সামান্য বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মেসির ওপর বেনিনের রক্ষণও বেশ চাপ তৈরি করছিল। ২৫ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি। এক মিনিট পর আবারও মেসির শট। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও নিচের বাঁ দিকে যাওয়া বলটি দান্দজিনু অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৯ মিনিটে ডি পলের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড বেনিনের রক্ষণে আটকে যায়। একই সময়ে কর্নারও পায় আর্জেন্টিনা। ৩২ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের সহায়তায় বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শট নেন তিনি। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ অফসাইডে ধরা পড়েন। ৩৭ মিনিটে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান হ্যান্ডবলের কারণে ফাউল করেন।

৪৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। বক্সের ডান দিক থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট গোলের বাঁদিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু দান্দজিনু আবারও দুর্দান্তভাবে সেই বল ঠেকিয়ে দেন।

এরমাত্র কিছুক্ষণ পরই বেনিনের পাল্টা আক্রমণ। ইয়ামিরু ওউরুর বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট নিচের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন। ৪৩ মিনিটেই বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেটিও নিচের বাঁ দিকে যাচ্ছিল, তবে মার্তিনেজ আবারও সেটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি কর্নার পায়। প্রথমার্ধে কয়েক দফা ভালো সুযোগ তৈরি করেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। মেসি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু ওউরুও আর্জেন্টিনার গোলমুখে বিপদ তৈরি করেছেন।

তবে দুই দলের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাই দ্বিতীয়ার্ধেই এখন নির্ধারিত হবে ম্যাচের ভাগ্য।