২০ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ
টপ স্টোরিজ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন।

তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুবরাজ নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন। রিয়াদে একের পর এক হামলায় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের সর্বশেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল মঙ্গলবার। সেদিন তিনি একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করেন।

শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালাও ছিলেন। হামলায় তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারও হামলা অব্যাহত ছিল। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া যায়। এতে টার্মিনাল ৪-এ আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। শহরের আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আকাশে প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেসামরিক স্থাপনা যে ঝুঁকিমুক্ত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকায় রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিও চাপে পড়েছে। পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওমের মতো ভবিষ্যৎনির্ভর নগর প্রকল্প এবং রিয়াদে একাধিক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে সৌদি আরব। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হুমকি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। হামলার কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হয়েছে অথবা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপদেষ্টা দিলেও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি সহায়তার সৌদি অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। বিমানবন্দরে হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে, তা খুবই খারাপ।’

এদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছেও সহায়তা চেয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানও খতিয়ে দেখছে দেশটি।

সব মিলিয়ে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানো, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সূত্র: ওয়াইনেট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি
টপ স্টোরিজ

পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্বাসনের মুখে। পর্তুগালের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক এবং সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, তাকে জরিমানা করা হলে তিনি সেটা মেনে নেবেন।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সিআরসেভেন। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনও ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ বা দলের কোনও কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আলমেইদা ফিফার বিচারকও। তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আলমেইদা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। রোনালদোকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে রোনালদোর জন্য স্বস্তির জায়গাও রয়েছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুটবলার তদন্তের আওতায় থাকা ঘটনার কথা স্বীকার করলে, শাস্তির সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হল, স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে। তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা চলবে না।

আলমেইদার মতে, রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুলের কথা কোনওরকম শর্ত ছাড়াই স্বীকার করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নির্বাসন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শাস্তি কার্যকর হলে, সেটা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন
শেষ ম্যাচে মেসিকে ঘিরে ধরেছেন বেনিনের ডিফেন্ডাররা
টপ স্টোরিজ

জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেও জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, বেনিনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে সক্রিয় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম কয়েক মিনিটেই বেনিনের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২ ও ৩ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।

তবে ৪ মিনিটে উল্টো আক্রমণ থেকে ফাউলের শিকার হয় বেনিন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলে ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকার দলটি। ৫ম মিনিটেই বেনিনকে আক্রমণে দেখা যায়। জুনিয়র ওলাইতানের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। একই মিনিটে মোহামেদ তিজানির পাস থেকে ইয়োহান রোশের বক্সের মাঝামাঝি থেকে নেওয়া শটও ব্লক হয়ে যায়।

৭ম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় সুযোগটি আসে মেসির কাছ থেকে। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে বাম পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু নিচের বাঁ দিকে যাওয়া শটটি বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ঠেকিয়ে দেন।

একই মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ডান পায়ের শটও বেনিন গোলরক্ষক রক্ষা করেন।

১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বেনিন। কর্নার থেকে জুনিয়র ওলাইতানের ক্রসে তসিন আইয়েগুনের হেড লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। রোদলফো আলোকোর ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সের ডান দিকে রদ্রিগো দে পল শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে মেসি আবারও গোলের খুব কাছে চলে যান। ডি পলের থ্রু বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট সামান্য বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মেসির ওপর বেনিনের রক্ষণও বেশ চাপ তৈরি করছিল। ২৫ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি। এক মিনিট পর আবারও মেসির শট। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও নিচের বাঁ দিকে যাওয়া বলটি দান্দজিনু অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৯ মিনিটে ডি পলের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড বেনিনের রক্ষণে আটকে যায়। একই সময়ে কর্নারও পায় আর্জেন্টিনা। ৩২ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের সহায়তায় বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শট নেন তিনি। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ অফসাইডে ধরা পড়েন। ৩৭ মিনিটে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান হ্যান্ডবলের কারণে ফাউল করেন।

৪৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। বক্সের ডান দিক থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট গোলের বাঁদিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু দান্দজিনু আবারও দুর্দান্তভাবে সেই বল ঠেকিয়ে দেন।

এরমাত্র কিছুক্ষণ পরই বেনিনের পাল্টা আক্রমণ। ইয়ামিরু ওউরুর বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট নিচের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন। ৪৩ মিনিটেই বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেটিও নিচের বাঁ দিকে যাচ্ছিল, তবে মার্তিনেজ আবারও সেটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি কর্নার পায়। প্রথমার্ধে কয়েক দফা ভালো সুযোগ তৈরি করেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। মেসি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু ওউরুও আর্জেন্টিনার গোলমুখে বিপদ তৈরি করেছেন।

তবে দুই দলের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাই দ্বিতীয়ার্ধেই এখন নির্ধারিত হবে ম্যাচের ভাগ্য।