২০ অক্টোবর ২০২৬

টানা ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে এভিয়েশন খাত

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
টানা ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে এভিয়েশন খাত
টপ স্টোরিজ

নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম। প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসবাস করছেন। দুই বছর পরপর এক মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। এবারও যথারীতি প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে আসেন গত ১২ সেপ্টেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার ফিরতি ফ্লাইট।

নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে জেনেও তিনি ঢাকায় এসেছেন বিকল্প পথের সন্ধানে। দাম্মাম বা জেদ্দার ফ্লাইটেরও নিশ্চয়তা নেই। বাধ্য হয়ে দুদিন পরে মদিনার একটি ফ্লাইটে টিকিট ট্রান্সফার করেছেন। এতে বাড়তি খরচ পড়ছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অতিরিক্ত দুদিন ঢাকায় হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ আরো ১০ থেকে ১২ হাজার।

বাড়তি এ খরচ বহন করার সক্ষমতা নূরুল ইসলামের থাকলেও রিয়াদগামী অধিকাংশ প্রবাসীরই নেই। এদের অনেকেই বাড়তি খরচ দিয়ে বিকল্প পথে যাত্রা নিশ্চিত করতে গিয়ে ধারদেনায় পড়েছেন। অনেকে যেতে না পারলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। আবার কারো কারো ভিসার মেয়াদই শেষ হওয়ার পথে। এমনই একজন চাঁদপুরের আবু তালেব।

তিনি জানান, ২০ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে ঢুকতে না পারলে আর যাওয়াই হবে না। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বিকল্প পথে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি সরাসরি ও ৬১টি ট্রানজিট। এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট।

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় নিয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অন্যদিকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

এদিকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে পড়ছে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতেই ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে এভিয়েশন ব্যবসায় চরম মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। যুদ্ধের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী অপর বেসরকারি বাংলাদেশি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের আয় অনেক কমে গেছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় তারা বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে রিয়াদগামী শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের রেভিনিউ সংগ্রহে আরো ভাটা পড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক চাপে পড়েছে বিমান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথে যাত্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাতেও আর্থিক ক্ষতি থেকে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন সংস্থাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নানামুখী চাপে এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

হুথি যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের জের ধরে সৌদিগামী বিভিন্ন বিমান সংস্থার ফ্লাইট একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি।

বিমানের বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীরা গতকালও নিজেদের যাত্রার টিকিটের তারিখ ও যাত্রার স্থান পরিবর্তন করতে বলাকা ভববে ভিড় করতে দেখা যায়। কারো ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে, কারো আবার ছুটির শেষ দিন ঘনিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় বিমানবন্দরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট সময় সৌদিতে প্রবেশ করতে না পারলে হারাতে হতে পারে স্বপ্নের চাকরি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চলমান পরিস্থিতি এক বিশাল আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইকামা ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের ভয়, অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি ও কফিল বা নিয়োগকর্তার চাপে তারা এখন অতিষ্ঠ। সেইসঙ্গে ঢাকা এসে হোটেল ভাড়া, নতুন টিকিট কেনা কিংবা বর্তমান টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের বাড়তি খরচ বহন করতে গিয়ে প্রবাসীদের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ধার-দেনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

এদিকে বেবিচকের পক্ষ থেকে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তার সামান্যই বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস, ফোন কল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে। টিকিটের নতুন সময়, তারিখ পরিবর্তন, টিকিট ফেরত ও ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কোনো অবস্থাতেই যেন যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ না দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর ভিসা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো তাদেরকে সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি এম্বাসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব সেবা থেকে যাত্রীরা পুরোপুরি বঞ্চিত।

আট সদস্যের কমিটি

এদিকে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করতে পারবে। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ থাকবে। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা আরো উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে ।

তীব্র হচ্ছে হুথি-সরকারি বাহিনীর লড়াই

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। হুথিদের গোলাবর্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় শহরটিতে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটির প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এছাড়া সরকারি বাহিনী হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশেও সংঘর্ষ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গতকাল আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী সৌদি আরবের মদিনার দিকে যাওয়া একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, তাইজের দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে হতাহত ও দখল করা এলাকার বিষয়ে দুই পক্ষের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি—পহেলা অক্টোবর থেকে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ২০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি
টপ স্টোরিজ

পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্বাসনের মুখে। পর্তুগালের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক এবং সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, তাকে জরিমানা করা হলে তিনি সেটা মেনে নেবেন।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সিআরসেভেন। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনও ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ বা দলের কোনও কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আলমেইদা ফিফার বিচারকও। তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আলমেইদা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। রোনালদোকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে রোনালদোর জন্য স্বস্তির জায়গাও রয়েছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুটবলার তদন্তের আওতায় থাকা ঘটনার কথা স্বীকার করলে, শাস্তির সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হল, স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে। তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা চলবে না।

আলমেইদার মতে, রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুলের কথা কোনওরকম শর্ত ছাড়াই স্বীকার করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নির্বাসন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শাস্তি কার্যকর হলে, সেটা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন
শেষ ম্যাচে মেসিকে ঘিরে ধরেছেন বেনিনের ডিফেন্ডাররা
টপ স্টোরিজ

জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেও জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, বেনিনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে সক্রিয় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম কয়েক মিনিটেই বেনিনের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২ ও ৩ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।

তবে ৪ মিনিটে উল্টো আক্রমণ থেকে ফাউলের শিকার হয় বেনিন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলে ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকার দলটি। ৫ম মিনিটেই বেনিনকে আক্রমণে দেখা যায়। জুনিয়র ওলাইতানের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। একই মিনিটে মোহামেদ তিজানির পাস থেকে ইয়োহান রোশের বক্সের মাঝামাঝি থেকে নেওয়া শটও ব্লক হয়ে যায়।

৭ম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় সুযোগটি আসে মেসির কাছ থেকে। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে বাম পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু নিচের বাঁ দিকে যাওয়া শটটি বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ঠেকিয়ে দেন।

একই মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ডান পায়ের শটও বেনিন গোলরক্ষক রক্ষা করেন।

১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বেনিন। কর্নার থেকে জুনিয়র ওলাইতানের ক্রসে তসিন আইয়েগুনের হেড লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। রোদলফো আলোকোর ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সের ডান দিকে রদ্রিগো দে পল শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে মেসি আবারও গোলের খুব কাছে চলে যান। ডি পলের থ্রু বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট সামান্য বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মেসির ওপর বেনিনের রক্ষণও বেশ চাপ তৈরি করছিল। ২৫ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি। এক মিনিট পর আবারও মেসির শট। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও নিচের বাঁ দিকে যাওয়া বলটি দান্দজিনু অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৯ মিনিটে ডি পলের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড বেনিনের রক্ষণে আটকে যায়। একই সময়ে কর্নারও পায় আর্জেন্টিনা। ৩২ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের সহায়তায় বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শট নেন তিনি। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ অফসাইডে ধরা পড়েন। ৩৭ মিনিটে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান হ্যান্ডবলের কারণে ফাউল করেন।

৪৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। বক্সের ডান দিক থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট গোলের বাঁদিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু দান্দজিনু আবারও দুর্দান্তভাবে সেই বল ঠেকিয়ে দেন।

এরমাত্র কিছুক্ষণ পরই বেনিনের পাল্টা আক্রমণ। ইয়ামিরু ওউরুর বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট নিচের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন। ৪৩ মিনিটেই বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেটিও নিচের বাঁ দিকে যাচ্ছিল, তবে মার্তিনেজ আবারও সেটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি কর্নার পায়। প্রথমার্ধে কয়েক দফা ভালো সুযোগ তৈরি করেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। মেসি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু ওউরুও আর্জেন্টিনার গোলমুখে বিপদ তৈরি করেছেন।

তবে দুই দলের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাই দ্বিতীয়ার্ধেই এখন নির্ধারিত হবে ম্যাচের ভাগ্য।