৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলার মধ্যেই অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইসরায়েলের। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। এ সময়ে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানির বড় একটি অংশ গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিশেষ করে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো ও বাহরাইন গত পাঁচ বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে।

এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ইসরায়েলের কাছ থেকে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা বিমান সংগ্রহ করেছে।

দুই দেশের সহযোগিতা অবশ্য শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দুই দেশ যৌথভাবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে আব্রাহাম চুক্তির অপর দুই অংশীদার মরক্কো ও বাহরাইনও। দেশ দুটি ইসরায়েলের কাছ থেকে স্যাটেলাইট, রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের তুলনামূলক সীমাবদ্ধতার কারণে আমিরাতের মতো বড় পরিসরে শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি তারা।

আইআইএসএসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশটির অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলার মধ্যেই অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইসরায়েলের। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। এ সময়ে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানির বড় একটি অংশ গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিশেষ করে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো ও বাহরাইন গত পাঁচ বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে।

এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ইসরায়েলের কাছ থেকে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা বিমান সংগ্রহ করেছে।

দুই দেশের সহযোগিতা অবশ্য শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দুই দেশ যৌথভাবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে আব্রাহাম চুক্তির অপর দুই অংশীদার মরক্কো ও বাহরাইনও। দেশ দুটি ইসরায়েলের কাছ থেকে স্যাটেলাইট, রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের তুলনামূলক সীমাবদ্ধতার কারণে আমিরাতের মতো বড় পরিসরে শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি তারা।

আইআইএসএসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশটির অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২৬
ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরাইলে চলাচলকারী তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে দুবাইভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাই দুবাই। বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে একই দিন দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর বিমানটি জরুরি অবতরণ করে।

ফ্লাই দুবাইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চলাকালে ইসরাইলগামী ও ইসরাইল থেকে আসা ফ্লাইট স্থগিত রাখা হবে।

এয়ারলাইনটি জানায়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও পরিস্থিতি নির্ধারণের সুযোগ করে দিতেই সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের যাত্রী, ক্রু এবং কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও কল্যাণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

এর আগে বুধবার ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত হন প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর। এরপর সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

ফের আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফের আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহের সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া, বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

চ্যানেল–১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের সোমবারে স্থানীয় সময় দুপুরের কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত বিমানে করে নেতানিয়াহু আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হন। তিনি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সেখানে অবতরণ করেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ইসরায়েলে অবস্থিত আমিরাতের দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এই বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

ইসরায়েলে চলমান এক বিতর্কের মধ্যেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিতর্কের মূল বিষয় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতার—যিনি এমবিজেড নামে পরিচিত—তরফ থেকে নেতানিয়াহুকে দেওয়া একটি কথিত সতর্কবার্তা। দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই তিনি নেতানিয়াহুকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

চলতি মাসে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এমবিজেড নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে—ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সতর্কবার্তা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি। নেতানিয়াহু ওই প্রতিবেদন অস্বীকার করেন এবং সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। একই সময়ে তিনি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন। বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ছিল, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন।

হারেৎজের ওই প্রতিবেদন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, ২০২০ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘খোলামেলা ও সরাসরি যোগাযোগের পথ’ বজায় রয়েছে। এর আগে আমিরাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট ‘উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর’ মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তবে তা ‘জাতীয় নেতাদের পর্যায়ে’ হয় না।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্বীকার করেছিল যে এমবিজেড নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় মে মাসে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ‘গোপনে’ উপসাগরীয় দেশটিতে সফর করেছেন এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, ২৬ মার্চ আবুধাবির ওমান সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেড বৈঠক করেছিলেন। চ্যানেল–১২ তখন জানিয়েছিল, আমিরাতের কর্মকর্তারা বৈঠকটি গোপন রাখার জন্য স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছিলেন এবং নেতানিয়াহুর সেটি প্রকাশ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার মধ্যেই একটি কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের ওই সফরের কথা প্রকাশ করার নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্বেগ কাজ করেছিল। কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন, নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আগামী মাসের নেসেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত পরদিন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। সেখানে এমবিজেড এবং আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা ছিল।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হামলার মুখে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ফলে দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে এই সম্পর্ক আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি অনন্য যোগাযোগের চ্যানেল দিয়েছে।

আমিরাতে সপ্তাহে সাড়ে ৪ দিনের কর্মদিবস চালু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
আমিরাতে সপ্তাহে সাড়ে ৪ দিনের কর্মদিবস চালু

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া সাড়ে চার দিনের কর্মদিবস বা সংক্ষিপ্ত কর্মসপ্তাহ দেশটির কর্মীদের মনোবল এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বাকি কর্মদিবসগুলোতে কাজের চাপ এবং মানসিক চাপও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল সায়েন্স জার্নালে’ প্রকাশিত এক পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার মূল বিষয়বস্তু ও ফলাফল নিচে তুলে ধরা হলো:

গবেষণার মূল ফলাফল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাড়ে চার দিনের সময়সূচির অধীনে কাজ করা ১৫৫ জন কর্মীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে—

৭.৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত বোধ করছেন। ৭৩.৬ শতাংশ কর্মী উন্নত জীবন-যাত্রার মান এবং কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এর বিপরীতে ৩৬.৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, কম সময়ে কাজের চাপ আসায় সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে তাদের কাজের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুস্থতা সূচকে গড় স্কোর পাওয়া গেছে ৬৭.৫ এবং প্রায় ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তোষজনক সুস্থতার থ্রেশহোল্ড বা ৫০-এর উপরে স্কোর করেছেন।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনেরও বেশি কর্মী ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের সপ্তাহের চেয়ে এ নতুন ব্যবস্থাকে বেশি পছন্দ করেছেন।

গবেষণার পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই ফলাফল পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে না। মূলত সুবিধাভিত্তিক এবং স্নোবল স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত এই নমুনার একটি বড় অংশই ছিল সরকারি খাতের শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত। উত্তরদাতাদের ৭১.৬ শতাংশ সরকারি খাতের এবং ৭৮.৭ শতাংশ শিক্ষার সাথে যুক্ত ছিলেন।

বেসরকারি খাতের কর্মীরা উৎপাদনে বেশি উন্নতির কথা জানালেও সেই উপদলে মাত্র ২২ জন লোক থাকায় সামগ্রিক মডেলটি পরিসংখ্যানগতভাবে পূর্ণাঙ্গ তাৎপর্য বহন করেনি। গবেষক লিন্ডা স্মাইল ‘দ্য ন্যাশনাল’কে জানিয়েছেন যে এই সংস্কার কাজের দাবিগুলোকে কেবল কমায় না, বরং সেগুলোকে পুনর্বণ্টন করে।

তিনি বলেন, মানুষ কেবল কম সময়ই কাজ করছে না, বরং তারা ছুটির দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা

গবেষকরা স্বায়ত্তন্যাস তত্ত্ব এবং জব ডিমান্ডস-রিসোর্সেস মডেলের আলোকে এই ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটি কেবল একটি বাড়তি সুযোগ বা পার্ক নয়; এটি কর্মীদের নিজেদের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করে দেয়—তবে শর্ত থাকে যে কাজের চাপ যেন গ্যাপ পূরণের নামে অতিরিক্ত বেড়ে না যায়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের বিমান চলাচল খাত আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও আমিরাত থেকে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন সংকট তৈরি করেছে। দুবাই ইরানি এয়ারলাইনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। সেখানে ইরানের বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ যোগাযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে দুবাইগামী ইরান এয়ারট্যুরের একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে বাতিল করা হয়। যাত্রীদের টিকিট ইতোমধ্যে ইস্যু করা হয়েছিল বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখাভান জানিয়েছেন, আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বিমান চলাচল–সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আবার ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। একই সময়ে তুর্কমেনিস্তানও তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ইরানি ফ্লাইটকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ফলে বিমানটি তেহরানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

একের পর এক দেশের নিষেধাজ্ঞা

আমিরাতের আগে ওমান, ইরাক, আজারবাইজান, জর্জিয়া ও তুর্কমেনিস্তানও ইরানি বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বা ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরাকের বাগদাদ ও নাজাফের পর শুক্রবার এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট স্থগিত করে। ফলে ইরানের সঙ্গে যেসব চারটি ইরাকি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলত, সবগুলোতেই এখন তা বন্ধ রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি। চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন এবং তাদের সহায়তাকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ছিল, ইরানি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এয়ারলাইনকে বিমানবন্দর, জ্বালানি, স্থলসেবা বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা না করা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সক্ষমতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কমে যায়। নতুন বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের একটি অংশকে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মতো দেশের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পাল্টা হুমকি তেহরানের

ইরানি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে, তাদের বিমানবন্দরও ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি উড়তে এবং বিমানবন্দরসেবা পেতে না পারে, তাহলে অঞ্চলটির অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চীন ও আর্মেনিয়ার কিছু বিমান যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গেও কিছু রুট সচল আছে। তবে এসব রুটেও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান যোগাযোগে এই চাপ দেশটির অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও ভ্রমণ খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।