২৫ আগস্ট ২০২৬

কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার থেকে অর্ধেক এলএনজি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ!

চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হওয়ার ওপর এই সরবরাহ নির্ভর করবে।

এই পরিস্থিতি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সরবরাহ আবার কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে সুস্পষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

কাতার এনার্জির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর কাতার এনার্জি থেকে বাংলাদেশ এলএনজি কার্গো পাবে ২০টি, যেখানে পাওয়ার কথা ছিল ৪০টি।

এর ফলে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, যে ২০টি কার্গো কম পাওয়া যাবে, সেগুলো ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট পরিকল্পিত ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির ৩৪.৮ শতাংশ।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কাতার এনার্জির উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি 'ফোর্স ম্যাজিউর' ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়, যখন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী হিসেবে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

গত বুধবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "২০২৬ সালের জন্য কাতার এনার্জির এলএনজি কার্গো সরবরাহ কমানোর বিষয়ে আমরা একটি ই-মেইল পেয়েছি। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা আগের নির্ধারিত কার্গোর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে।"

ঢাকা এ বিষয়ে দোহার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমরা কাতার এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কম সরবরাহের এই পরিস্থিতি ২০২৭ সাল এমনকি এর পরেও অব্যাহত থাকতে পারে।''

সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি বিভাগ একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সরবরাহের উৎস খুঁজতে জ্বালানি বিভাগ জোরালোভাবে কাজ করছে।

এদিকে কাতার এনার্জির পর ৫ মার্চ ওমানভিত্তিক ওকিউটি এবং ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জিও ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জির ঘোষিত ফোর্স ম্যাজিউর আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, কাতার এনার্জি আরপিজিসিএলকে এও জানিয়েছে, উৎপাদন আবার স্বাভাবিক হওয়ার পরেও ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি থেকে আগে যে পরিমাণ এলএনজি কার্গো পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার অন্তত ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, "কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করতে পারে। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী পুরো সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।"

এলএনজিতে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার কোটি টাকার মূল বরাদ্দের প্রায় তিন গুণ। মূলত বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্যই ভর্তুকি বেড়েছে।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, "ইরান যুদ্ধের কারণে আমাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মার্চ থেকে অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী ফোর্স ম্যাজিউর বজায় রেখেছে। ফলে আমাদের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হয়েছে।"

এছাড়া কিছু স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, সেসব চালানের লোডিং বন্দর ও জাহাজ চলাচলের পথ কাতার এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে

২০২৬ সালের বার্ষিক সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরে বাংলাদেশের মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে ৪০টি, ওকিউটি থেকে ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং থেকে ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি থেকে ৪টি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং থেকে ১৪টি কার্গো সরবরাহের কথা ছিল।

এছাড়া স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১২টি এবং স্পট মার্কেট থেকে আরও ১৭টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার এনার্জি মাত্র ৮টি কার্গো সরবরাহ করেছে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

সংঘাতের পর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নির্ধারিত ৯টি কার্গো কাতার এনার্জি ফোর্স ম্যাজিউরের আওতায় স্থগিত করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগস্ট থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ আবার শুরু হয়, তবুও কাতার এনার্জির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮টি কার্গোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১২টি কার্গো পেতে পারে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ২২ জুন কাতার এনার্জির রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও বহু মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার কারণে এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

কাতার এনার্জির সম্ভাব্য সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, এলএনজি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল থাকাও নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম এসব প্রতিষ্ঠানের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, "এসব প্রতিষ্ঠান মূলত পুনঃবিক্রেতা (রিসেলার)। তারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবার চালু হওয়ার পরও এটি বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, তাদের নিজস্ব কোনো উৎপাদন স্থাপনায় হামলা হয়নি।"

কমিটি গঠন

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা গত সপ্তাহে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হায়াত মো. ফিরোজকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

কমিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ধরনের এলএনজি চুক্তিতে থাকা ফোর্স ম্যাজিউর সংক্রান্ত ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সরবরাহকারী বর্তমানে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তাদের সঙ্গে করা চুক্তি সংশোধন বা বাতিল করা যায় কি না, তা কমিটি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উপায়ে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোর্স ম্যাজিউর বহাল

বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ শুধু কাতার এনার্জিকে ঘিরেই নয়। ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড ও এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখনো ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাকালীন ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা যৌক্তিক ছিল। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানকে ওই সময় কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি সংগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হতো।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের বিকল্প লোডিং বন্দর থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরপিজিসিএলকে শেষবার যোগাযোগে এক্সিলারেট জানিয়েছে, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না।

অন্যদিকে, ওকিউ ট্রেডিংও তাদের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ কবে আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে সম্মত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানায়, এক্সিলারেট ও ওকিউ ট্রেডিং এই দুই প্রতিষ্ঠানই তাদের সরবরাহ পরিকল্পনায় রাস লাফানকেই নির্ধারিত লোডিং বন্দর হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যেহেতু রাস লাফানকে লোডিং পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই ওই বন্দর থেকে তাদের কাছে আবার সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিজেদের সরবরাহ স্থগিত রাখার অধিকার রয়েছে।

তবে আরেক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে রাস লাফানের বাইরে অন্য স্থান থেকেও এলএনজি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। ফলে ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রাখার দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বল্পমেয়াদি এলএনজি চুক্তির পথে বাংলাদেশ

সম্ভাব্য এলএনজি ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের নতুন বাজার থেকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এজন্য যেসব দেশ বিবেচনায় রয়েছে, সেগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া।

জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, "সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে শুধু স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর না করে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির কথা বিবেচনা করছি। স্পট মার্কেটের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কম থাকে।"

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি সহজ হতে পারে।

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া ঢাকায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে সৌদি রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাশে থেকে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সুগম করা এবং হাজিদের দুর্ভোগ লাঘবে, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেওয়ার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের নেতৃত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

সৌদি রাষ্ট্রদূত এ সময় জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। ফলে এ সাক্ষাৎকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট নিয়ে কোনও ডেভেলপমেন্ট আছে কি না– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট নিয়ে তো আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ এখন ইজ অ্যা কান্ট্রি অব রেকগনিশন এবং একটা আগ্রহ আছে, যারা মিডল ইস্টের (মধ্যপ্রাচ্যের) স্টেকহোল্ডার আছেন, গ্লোবালি যারা মুসলিম ওয়ার্ল্ডে... বিভিন্ন কী স্টেকহোল্ডারস... এখন বাংলাদেশের লিডারশিপ, পার্টিকুলারলি অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমানের লিডারশিপে, তারা অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন টু কাম অ্যান্ড পার্টিসিপেট (আসতে ও অংশগ্রহণ করতে)।”

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, “আর মক্কা নিয়ে তো সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আছে। সেখানে মিডল ইস্টে একটা মানে যদি হয়... এমনও হয় যে ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে সেখানে তো আর যাওয়া অস্বাভাবিক না। সো, লেটস সি, ইটস বিং ভিউড পজিটিভলি (এটিকে সুদৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।”

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ন্যাটোর আদলে করা এ চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কর্মী পাঠাতে পারবে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সি, তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
কর্মী পাঠাতে পারবে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সি, তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত তালিকাটি নিয়ে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও কবে থেকে এবং কী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি মালয়েশিয়া সরকার।

এফডব্লিউসিএমএসের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১ জুন থেকে নতুন করে বিদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দেয় দেশটি। এতে টিকিট থাকার পরও অনেক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। অনেকে টিকিট না পেয়ে বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ওই সময় প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া সরকার। তবে তাদেরও বড় একটি অংশ এখনো দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে এটি পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তবে তাতেও বাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়। সফরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়।

তবে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পরও বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। কবে থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে, কীভাবে কর্মী বাছাই করা হবে এবং তালিকাভুক্ত ২৫টি এজেন্সি কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছে- এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বর্তমান রিজার্ভ ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য জীবনছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য জীবন
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটার তালিকাভুক্ত ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনকে বিদায়ী সংবর্ধনাভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনকে বিদায়ী সংবর্ধনা
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

আজ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।