৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্মেনিয়া থেকে প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে স্বাগত জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
আর্মেনিয়া থেকে প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে স্বাগত জানাল কাতার

কাতারে ইনবাউন্ড লেজার ট্যুরিজম বা বিনোদনমূলক পর্যটনের পরিধি বাড়াতে এবং নতুন পর্যটন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান থেকে আসা প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইটকে শনিবার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

রুস্তার ট্যুর অপারেটর এর অংশীদারিত্বে ফ্লাইওয়ান এয়ারলাইন্স এই ফ্লাইটটি পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে ইয়েরেভান ও দোহার মধ্যে এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের বিমান দিয়ে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হবে। আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মে পর্যন্ত এই চার্টার প্রোগ্রাম চলবে। এর ফলে নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে আর্মেনিয়া থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পর্যটক কাতার ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অপারেশনাল ব্যাঘাতের পর কাতারে আসা এটিই প্রথম লেজার চার্টার ফ্লাইট। এটি প্রমাণ করে যে পর্যটক, ট্রাভেল পার্টনার এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন কমিউনিটির কাছে কাতার এখন আগের মতো পুরোপুরি নিরাপদ এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

বিশ্বমানের পর্যটন পরিকাঠামো, অতিথি আপ্যায়ন এবং এভিয়েশন খাতের ওপর ভিত্তি করে কাতার যে একটি নিরাপদ ও দারুণ গন্তব্য, এই ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো। এছাড়া এই উদ্যোগের ফলে কাতার ও আর্মেনিয়ার মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পথও প্রশস্ত হবে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণ/

চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে দেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়বে। কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসছে—নতুন যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে চীনের আরও বড় একটি সামরিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে?

বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। একটি খসড়া প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, পুরো প্যাকেজে আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহনের হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন আকাশযানও থাকার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই কেনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তা না হলে সেটি চলে যেতে পারে পরবর্তী বাজেট চক্রে।

বাংলাদেশ ২০ থেকে ২৪টি জে-১০সিই কেনার কথা ভাবছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল দাম প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু দামই শেষ কথা নয়। প্রশিক্ষণ, রসদ, অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের পেছনে মোট ব্যয় প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জে-১০সিই নিয়ে এত আগ্রহ কেন
জে-১০সিই নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের পেছনে ২০২৫ সালের মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের প্রভাব থাকতে পারে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০সিই ভারতীয় কয়েকটি যুদ্ধবিমান, এমনকি রাফালও ভূপাতিত করেছে। তবে পাকিস্তানের দাবিটি এখনো বিতর্কিত এবং স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারপরও সংঘর্ষে জে-১০সিই-এর ব্যবহার এই যুদ্ধবিমানটির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে। পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত এই রপ্তানি সংস্করণের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। পাকিস্তানের জে-১০সিই যে সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার পুরোটা হয়তো শুধু যুদ্ধবিমানটির নিজের ক্ষমতা নয়।

পাকিস্তান এসব যুদ্ধবিমান একা ব্যবহার করেনি। এর পেছনে ছিল চীনা প্রযুক্তিনির্ভর একটি বড় সামরিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে নজরদারি ও নির্দেশনা দেওয়ার বিমান—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।

তাই বাংলাদেশ শুধু জে-১০সিই কিনলেই পাকিস্তানের মতো একই ধরনের সক্ষমতা পেয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

জে-১০সিই আর জেএফ-১৭
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের আলোচনায় এর আগে চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩-এর নামও এসেছে। এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুরোনো এফ-৭ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বদলে জেএফ-১৭ কেনার পরিকল্পনা করছে। এসব বিমানে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত এভিওনিকস থাকার কথা।

জে-১০ এবং জেএফ-১৭কে একই ধরনের বিমান হিসেবে দেখলে বিষয়টি বোঝা কঠিন হবে। দুটির কাজ অনেকটা আলাদা।

জে-১০ তুলনামূলক ভারী এবং এর মূল শক্তি আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, উন্নত রাডার ও বেশি গতিশীলতা। অন্যদিকে জেএফ-১৭ হালকা, তুলনামূলক কম খরচে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা সম্ভব।

দুটি বিমান একসঙ্গে থাকলে বাংলাদেশ একটি ‘হাই-লো’ ধরনের যুদ্ধবিমান কাঠামো পেতে পারে। সহজ করে বললে, বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ আকাশপ্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকতে পারে জে-১০। আর নিয়মিত আকাশ টহল ও আঘাত হানার মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে জেএফ-১৭।

চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে চীনের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। ফলে এসব সরঞ্জাম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক এবং তুলনামূলক কম দাম—সব মিলিয়ে চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে স্বাভাবিক একটি বিকল্প।

আসল বিষয় যুদ্ধবিমান নয়
২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে পাকিস্তানের জে-১০সিই-এর কথিত সাফল্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধবিমানগুলোর সঙ্গে চীনা প্রযুক্তির আরও অনেক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করেছিল।

সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের চীনা তৈরি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় বিমান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার কাজে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের চীনা তৈরি যুদ্ধবিমানগুলো চীনা প্রযুক্তিনির্ভর আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণের বিমান বা এ-ডব্লিউ অ্যান্ড সি-এর সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন কেন ভারতচীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিমান যত আধুনিকই হোক, তার পুরো সক্ষমতা পেতে হলে সেটিকে রাডার, নজরদারি, যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং কমান্ড ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে চালাতে হয়।

এখানেই বাংলাদেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। জে-১০সিই কেনার পর যদি এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আরও চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশের চীনা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কও আরও গভীর হতে পারে।

যুদ্ধবিমান কিনলেই কাজ শেষ নয়
একটি যুদ্ধবিমান কেনার পর সেটিকে বছরের পর বছর সচল রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। উন্নত যুদ্ধবিমানের জন্য নিয়মিত খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয়। ফলে অস্ত্র কেনার চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ও সহায়তা সম্পর্কও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ২০ বছরে কেনা মোট অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। চীন বাংলাদেশকে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে আটকে নেই। এসব সরঞ্জাম সচল রাখতে যে খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার, সেগুলোর সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক তৈরি হয়।

দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা চীনের প্রভাবকে অস্ত্রের বাজারের বাইরেও নিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত বেশি একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে, তার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থও তত বেশি সেই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মিয়ানমারের জেএফ-১৭ এর সতর্কবার্তা
চীনা সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি বোঝাতে মিয়ানমারে থাকা জেএফ-১৭গুলোর উদাহরণ সামনে আসে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলোতে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। উচ্চমাত্রার জি-ফোর্সে চালানোর সময় বিমানগুলোর কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া জেএফ-১৭-এর কেএলজে-৭এল রাডারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ভুলতা নিয়েও সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থার কম্পিউটারে ত্রুটির অভিযোগও আছে। এসব সমস্যা বিমানের দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আরেকটি সমস্যা খুচরা যন্ত্রাংশ নিয়ে। মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জেএফ-১৭তে ব্যবহৃত পশ্চিমা এভিওনিকস ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধবিমানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এর মানে এই নয় যে একই সমস্যা বাংলাদেশের জে-১০সিইতে হবেই। তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে বিমানটির দাম বা সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হিসাবেও বদল আসতে পারে
বাংলাদেশ জে-১০সিই বা জেএফ-১৭ কিনলে ভারতের সামগ্রিক আকাশ-আধিপত্য অবশ্যই পাল্টে যাবে না। ২০২৬ সালের আইআইএসএসের হিসাবে ভারতের ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের হাতে আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান এলে দুই দেশের কৌশলগত সক্ষমতার ব্যবধান কিছুটা কমবে। বাংলাদেশের আকাশসীমায় টহল ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতাও বাড়বে। এর প্রভাব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে। প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই স্থলপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

বাংলাদেশের বিমান সক্ষমতা বাড়লে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এই এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বড় কোনো আঞ্চলিক সংকটের সময় ভারতকে পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও পরিকল্পনা ও কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিতে হতে পারে।

এখানে অবশ্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো সক্রিয় ভূখণ্ডগত বিরোধ নেই। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের তার বিরোধীদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষের কারণ ছিল। এরই মধ্যে ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের আশপাশে সামরিক অবকাঠামোও শক্তিশালী করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতির পেছনে করিডোরটির ভঙ্গুরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।

চীনের সীমান্তবর্তী চুম্বি উপত্যকার কাছাকাছি অবস্থান করায় শিলিগুড়ি করিডোর এমনিতেই ভারতের জন্য স্পর্শকাতর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি ভারতীয় সামরিক উপস্থিতি বাড়লে সেটিকে বাংলাদেশেও উত্তর সীমান্তে ভারতের চাপ বাড়ার দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে, বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন আগের মতো স্বস্তিদায়ক নয়।

চীনের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে—এমন পরিস্থিতি চীনের জন্যও বাংলাদেশে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের প্রভাবের ভারসাম্য তৈরির একটি উপায়। কিন্তু ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি অন্যরকম। তাদের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় চীনের প্রভাবের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে। এখানেই বাংলাদেশের জন্য মূল কৌশলগত প্রশ্নটি আসে।

ভারতের অতিরিক্ত প্রভাব এড়াতে গিয়ে যদি বাংলাদেশ চীনের সামরিক ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এক ধরনের নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আরেক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বাংলাদেশের কয়েক দশকের চীনা অস্ত্রনির্ভরতা একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়িয়ে এই নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।

এরই মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এগিয়েছে। দুই দেশ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার সম্পর্ক না রেখে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির উচ্চপর্যায়েও সম্পর্ককে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এছাড়াও তুরস্কের বাইরে জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তরের সুযোগ তৈরির জন্য একটি চুক্তি করেছে। ফলে জে-১০সিই ও জেএফ-১৭ বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান বহরকে আধুনিক করার বড় সুযোগ দিতে পারে। এগুলো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ব্যবধানও কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা শুধু বিমানের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যে রাডার, অস্ত্র, যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের পুরো ব্যবস্থাই যদি ক্রমশ চীনকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ যে সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে, তা একদিকে তার বিকল্প বাড়াবে, আবার অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত স্বাধীনতার জায়গাটিও সংকুচিত করতে পারে।

(এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি দুই দেশের সুসম্পর্ক ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আপনার চিঠি আমি মাত্র পেয়েছি এবং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না এবং আমি এই বিষয়টি মনে রাখব। এই বিষয়ে আপনার বিশেষ মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। নিকট ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠিতে আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পৌঁছে দেবেন। তারা অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তবে আপনার নেতৃত্বে তারা এবং আপনার দেশ নিজেই একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী হবে বলে আমি নিশ্চিত।’

চিঠির শেষাংশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সর্বোত্তম শুভেচ্ছাসহ’ নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক বার্তা দেন।

২০০ টাকায় রাতযাপন, তবুও প্রবাসীরা যান না ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
২০০ টাকায় রাতযাপন, তবুও প্রবাসীরা যান না ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী ঢাকায় আসেন। আবার মধ্যরাতে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেও অনেকে ঢাকায় অবস্থান করেন। কম খরচে নিরাপদ আবাসনের অভাবে তাদের কেউ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের ব্যয়বহুল হোটেলে ওঠেন, আবার অনেকে বিমানবন্দরের টার্মিনালেই রাত কাটান।

অথচ এসব প্রবাসী কর্মীর জন্য মাত্র ২০০ টাকায় থাকা ও বিমানবন্দরে বিনা খরচে যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’। কিন্তু উদ্বোধনের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রচারণার অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেন্টারটি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে খিলক্ষেত থানাধীন বরুয়া এলাকার লঞ্জনীপাড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতে স্বাভাবিক সময়ে সড়কপথে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতেই এটি নির্মাণ করা হয়। এখানে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ৫০ জন একসঙ্গে অবস্থান করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিমানবন্দর থেকে এ সেন্টারে যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণে প্রায় দুই বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে সেন্টারে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাস্তার এ অবস্থার কারণে সেন্টারে প্রবাসীদের ফ্রিতে যাতায়াতের জন্য যে বাসটি রয়েছে, সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।—মো. সাইদুর রহমান

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর থেকে অধিকাংশ সময় সেন্টারের ৯৯ শতাংশ শয্যাই ফাঁকা থাকে। সবশেষ গত জুনে ৮৪, জুলাইয়ে ৮০ জন প্রবাসী সেখানে অবস্থান করেন। অথচ প্রতিদিন যেখানে কয়েক হাজার বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মী ঢাকায় অবস্থান করছেন, সেখানে এ সংখ্যা ‘অত্যন্ত কম’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীদের অভিযোগ, সেন্টারটি সম্পর্কে অধিকাংশ প্রবাসীই জানেন না। ফলে তারা বিমানবন্দরের আশপাশের হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকছেন অথবা টার্মিনালে বসেই দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। সেন্টারটির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর দাবি তাদের।

আরও পড়ুন

মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান!

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকে তারা নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু সে অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আশার দিক হচ্ছে, আগের তুলনায় সেন্টারে প্রবাসীর যাতায়াত বাড়ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেন্টারটি নিরিবিলি পরিবেশে নির্মিত। আবাসনের কক্ষগুলো পরিচ্ছন্ন, প্রতিটি কক্ষে তিন থেকে চারটি শয্যা রয়েছে। রয়েছে নিরাপদ লাগেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ইন্টারনেট, টেলিফোন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, প্রাথমিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান। এছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত তথ্যও দেওয়া হয় এখানে।

জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্যই এ সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে খুবই কম খরচে তারা থাকতে পারবেন। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় প্রবাসীরা কম আসছেন। এজন্য বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবাসী লাউঞ্জে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে এ সেন্টারে যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণে প্রায় দুই বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে সেন্টারে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাস্তার এ অবস্থার কারণে সেন্টারে প্রবাসীদের ফ্রিতে যাতায়াতের জন্য যে বাসটি রয়েছে, সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

দূরত্ব বড় বাধা

ওয়েজ আর্নার্স বোড সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়ার দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। এ কারণে অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না।

তবে প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো বিনামূল্যে যাতায়াত। কিন্তু সেন্টারের সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় দেড় বছর ধরে সে সেবাও পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। ফলে বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত যাত্রীরা বিনা খরচে বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে এবং সেন্টার থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারছেন না।

অনেক সময় সড়কে যানজটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকায় আসতে দেরি হয়। এতে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগেভাগেই বিমানবন্দরে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বিপদে পড়লাম। এখানে তো ঠিকমতো বসারও ব্যবস্থা নেই।—তোফাজ্জল হোসেন

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি অথবা অনলাইনে সিট বুকিং করা যায়। প্রতি রাতের ভাড়া ২০০ টাকা এবং একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করতে পারেন। বুকিংয়ের সময় পাসপোর্ট ও ফ্লাইটের টিকিটের কপি জমা দিতে হয়।

আরও পড়ুন

বিদায়ী আগস্ট মাসে ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকার সড়কে তীব্র যানজট, ফ্লাইটের কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চাপ এবং উচ্চমূল্যের হোটেল ভাড়া—এসব বিবেচনায় ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। কিন্তু যথাযথ প্রচারণার অভাবে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অধিকাংশ প্রবাসী।

গত ২৮ আগস্ট ভোর ৪টার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৌদি আরব যান চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন। ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি বিমানবন্দরে চলে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে তাকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে বহির্গমন টার্মিনালের ক্যানপি-২ এর সামনে হাঁটাচলার পথে লাগেজ রেখে বাকি সময় পার করতে হয় তাকে।

আরও পড়ুন

কাতারে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

আলাপকালে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অনেক সময় সড়কে যানজটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকায় আসতে দেরি হয়। এতে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগেভাগেই বিমানবন্দরে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বিপদে পড়লাম। এখানে তো ঠিকমতো বসারও ব্যবস্থা নেই।

ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার সম্পর্কে জানেন কি না, এমন প্রশ্নে এই প্রবাসী বলেন, এটা কী? কখনো নাম শুনিনি। তবে শুনেছি, ঢাকায় কোথায় যেন প্রবাসীদের থাকার জন্য সরকার ব্যবস্থা রাখছে। কিন্তু সেটা কোথায়, কীভাবে যেতে হয়, তা তো জানি না।

ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ওয়েজ আর্নাস সেন্টারে যান রাজশাহীর পবা উপজেলার মোজাম্মেল হক। তিনি ৯ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। গত ১৯ আগস্ট মধ্যরাতে তার ফ্লাইট ছিল।

আরও পড়ুন

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী


সেন্টারের পরিবেশ ভালো। কিন্তু সেন্টারটির কথা অনেক প্রবাসী জানেন না। আবার বিমানবন্দর থেকে সেন্টারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না।—মোজাম্মেল হক

মোজাম্মেল হক বলেন, ফ্লাইটের একদিন আগেই ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে চলে এসেছি। দুই বছর আগে ছুটিতে যখন দেশে আসি, ফেরার সময়ও ওই সেন্টারে একদিন অবস্থান করেছিলাম।

তিনি বলেন, সেন্টারের পরিবেশ ভালো। কিন্তু সেন্টারটির কথা অনেক প্রবাসী জানেন না। আবার বিমানবন্দর থেকে সেন্টারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না। এ সেন্টারটি বিমানবন্দর সংলগ্ন কোথাও স্থাপন করা দরকার ছিল। তাহলে শতভাগ সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতেন প্রবাসীরা।

‘এরমধ্যে বিমানবন্দর সংলগ্ন হাজি ক্যাম্প এলাকা থেকে খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়া পর্যন্ত সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে ঠিকমতো অটোরিকশা দিয়েও যাতায়াত করা যায় না’—যোগ করেন এ প্রবাসী।

খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়া সাবেক দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ছিল। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড ও সীমানা বিন্যাসের পর এই এলাকাটি ডিএনসিসির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের (অঞ্চল-৭) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

২০২২ সালে এমন নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নং ৩৭ থেকে ৫৪) জনদুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ওই কাজের মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সামনের রাস্তাটিও রয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

শাহজালালে দুর্ঘটনায় নিহত ৩ বিমান বাহিনীর সদস্যকে শেষ শ্রদ্ধা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিন সদস্যের জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হয়।

জানাজায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান নিহতদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কিউআরএফ (কুইক রেসপন্স ফোর্স)-এর দায়িত্ব পালনের সময় বিমান বাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরও চার সদস্য সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আহত সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আগস্টে রেমিট্যান্সে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে জব্দ করা পণ্য। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিদেশি সিগারেট, মোবাইল ফোন, মোবাইলের এলসিডি ও ডিসপ্লেসহ মাদারবোর্ড, বিদেশি মদ, ওষুধ ও স্বর্ণালংকার।

গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব অভিযান চালানো হয়। সিআইআইডি সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ৩১ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের (এসভি৮০৪) একটি ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মনসুর আলম কাছ থেকে ২৩১ কার্টুন ও নওয়াজ শরিফের কাছ থেকে ২৫০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

একই দিন ব্যাংকক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের (টিজি৩৩৯) একটি ফ্লাইটের যাত্রী টিপু আল ইমরানের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৩৬টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি রেডমি টার্বো ৪ প্রো এবং ১৭টি অনর ২০০। এসব ফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

ইমরানের ব্যাগেজ থেকে আরও ৫৫০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল এলসিডি এবং ৯৫০টি বাটন মোবাইলের ডিসপ্লেসহ মাদারবোর্ড জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য যথাক্রমে ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া বিমানবন্দর এলাকায় টহলের সময় ব্যাগেজ বেল্টের পাশে একটি পরিত্যক্ত হাতব্যাগ পাওয়া যায়। সেটি থেকে আনুমানিক ৩ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

১ সেপ্টেম্বর বাহরাইন থেকে আসা গালফ এয়ারের (জিএফ২৪৮) একটি ফ্লাইটের যাত্রী আল আমিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে প্রায় ১৮ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের (বিজি১৪৮) একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কার্টন বিদেশি সিগারেট, রোয়াটিনেক্স ও সাবরিল নামের ওষুধ এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারির মাধ্যমে চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।