২১ জুলাই ২০২৬

ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে

প্রকাশ: শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।

এই বৈঠক ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

পেন্টাগনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কলবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, আজ পেন্টাগনে আমি ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার জন্য আয়োজন করেছি, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফলপ্রসূ সামরিক-পর্যায়ের আলোচনা করেছি, যা আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক আলোচনায় সহায়ক হবে।’

এই বৈঠকটি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠক বলে জানা গেছে।

কলবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই আবারও এই নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

তবে তিনি ইসরাইল ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধবিরতির যে চুক্তিটি গত ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যা কখনোই মানা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি কোনো কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে আরও গভীরে অগ্রসর হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের তিনটি এলাকায় ইসরাইলি হামলায় এক উদ্ধারকর্মীসহ ১১ জন নিহত ও আট জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, তারা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে সেনা, সেনা ছাউনি ও একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতির জন্য প্রথম ও অপরিহার্য ধাপ হিসেবে যুদ্ধবিরতি অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।

হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন খলিল আল-হাইয়া।

সোমবার ফিলিস্তিনের ইসলামি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে।

গত বছর তেহরানে শীর্ষ হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ, গাজায় সিনওয়ার এবং সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর আল-হাইয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণকারী আল-হাইয়া ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত রয়েছেন।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের চালানো একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার বিবৃতিতে জানায়, ইরান সমর্থিত এই ভয়াবহ হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত অপর চার সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে জর্ডানের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা পুনরায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

নিহত ও নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতভর তাদের আকাশসীমায় অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এক সপ্তাহে মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

জর্ডানের এই ঘটনার পর চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘ভেস্তে গেছে’ বলে ঘোষণা করার পর থেকেই দুই পক্ষের সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, বাড়ছে উত্তেজনা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরো জোরদার হয়েছে। ইরানের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো তীব্র বিমান ও সামরিক হামলা সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে শুক্রবার দিবাগত রাতে ইরানে টানা সপ্তম রাতের হামলা চালানো হয়। এ দফায় ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, মাটির নিচের অস্ত্রাগার ও নৌ-সক্ষমতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ জারি করেছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি আমেরিকান সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস ও দারাবে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো কেঁপে উঠেছে কেশম দ্বীপ।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, শনিবার প্রথম প্রহরে মার্কিন হামলায় প্রদেশের দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছে।

কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে ইরানের হামলা

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো—কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরির একটি গোলাবারুদ ডিপো, আলি আল সালেম ঘাঁটির প্রধান কার্যালয় ও সংযোগকারী সেতু এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটির সামরিক জ্বালানি ট্যাংক।

এর পাশাপাশি জর্ডানে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানের ‘মুওয়াফফাক সালতি’ ঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

আরব সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ দূরবর্তী অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকেও শোনা গেছে।

হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো শক্তি ইরানি জাতির ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করতে এলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর লৌহকঠিন সংকল্পের মুখোমুখি হতে হবে।

কুয়েতের প্রতিরোধ ও বাহরাইনে সাইরেন

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ইরানি ড্রোনগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত বা ইন্টারসেপ্ট করেছে। ড্রোন ধ্বংসের কারণেই দেশজুড়ে বিকট শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে বাহরাইনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো তীব্র শব্দে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন বেজে উঠেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও পাল্টা আঘাত

আইআরজিসি দাবি করেছে, বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ ৯ ড্রোন শনাক্তের পর তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

একই সাথে ইরানি নৌবাহিনী উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে উপকূল থেকে সাগরে নিক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের মার্কিন সামরিক সম্পদেও হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে আইআরজিসি।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে মার্কিন সহায়তাপুষ্ট চারটি জাহাজকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে আটকে দিয়েছে ইরান।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পুঁতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার দাবি করেছে আইআরজিসি।

বন্দর আব্বাসসহ ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
বন্দর আব্বাসসহ ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সর্বশেষ তরঙ্গ সমাপ্ত করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই নতুন ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে পারস্য উপসাগরে চলমান এই সংঘাতের বিবরণ জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তাদের এই বিশেষ অভিযানে ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি চৌকিগুলোকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত ইরানের সর্ববৃহৎ বন্দর এবং দেশটির নৌবাহিনী ও এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান ঘাঁটি সংবলিত বন্দর আব্বাস শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অবস্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে সামরিক অভিযানের আরও কিছু বিবরণ তুলে ধরে জানিয়েছে যে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন বিমান বাহিনী গ্রেটার তুনব দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে টানা নব্বই মিনিট ধরে তীব্র বোমাবর্ষণ সম্পন্ন করেছে।

এই নতুন হামলার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ক্ষেত্রগুলোতে আঘাত হানার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একই সঙ্গে তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুগুলোতেও হামলা চালানোর নতুন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

এদিকে যুদ্ধের মানবিক আচরণ সংক্রান্ত ১৯৪৯ সালের ঐতিহাসিক জেনেভা কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য বা অত্যাবশ্যকীয় কোনো স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের এই ধরনের বেসামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুমকির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছিলেন যে এই ধরনের আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও ইরানের সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিলেন, যার পরপরই তেহরানের সঙ্গে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের এই বিধ্বংসী যুদ্ধের ইতিহাস টেনে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি পরিচালনাকারী পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় এবং লেবাননে চালানো ইসরায়েলের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

ইরানি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ধ্বংস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
ইরানি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ধ্বংস

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিমেস্ক শহরের আকাশসীমায় একটি শত্রুভাবাপন্ন ‘এমকিউ-৯’ মডেলের চালকবিহীন ড্রোনকে সফলভাবে বাধা প্রদান এবং তা ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।

ইরানের আকাশসীমা সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এই দূরনিয়ন্ত্রিত মার্কিন ড্রোনটিকে গুলি করে মাটিতে নামিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

আইআরজিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে আন্দিমেস্ক শহরের ওপর দিয়ে অনধিকার প্রবেশ করা ওই শত্রু বিমানটিকে তাদের অ্যারোস্পেস বা মহাকাশ বাহিনীর সদস্যরা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

বিবৃতিতে ড্রোনটি ধ্বংস করার কৌশলগত দিক উল্লেখ করে আইআরজিসি জানিয়েছে যে তাদের বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির একটি দেশীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল ব্যবহারের মাধ্যমে এই আক্রমণাত্মক ড্রোনটিকে আকাশেই নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই ড্রোনটি তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ বলে তারা দাবি করেছে।