১ নভেম্বর ২০২৬

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।