১ নভেম্বর ২০২৬

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।