১ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ইউরোপের সব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের ওপর

সম্প্রতি ফ্রান্সে বিক্ষোভ যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন সেখানকার উগ্র ডানপন্থীরা এর জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করতে শুরু করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী স্পেনের সিউটা শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে স্প্যানিশ ডানপন্থীরা একে মরক্কানদের ‘আগ্রাসন’ বলে দাবি করে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে বলেছেন, ‘ইসলাম সবকিছু দখল করে নিতে চাইছে।’

উগ্র ডানপন্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে যেকোনো সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) ছড়াবে—এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো, এই প্রবণতা এখন আর শুধু চরমপন্থীদের মধ্যেই আটকে নেই। ইউরোপের যেকোনো বড় সংকটের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের দোষী বানানোর এই মানসিকতা এখন ইউরোপীয় রাজনীতির মূলধারায় ঢুকে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে যখন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক তখনই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নীরবে একটি প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবটির বিষয় ছিল—‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল।’ পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় মধ্য-ডানপন্থী দল ‘ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি)’ এটি উত্থাপন করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নিজেও এই দলের একজন সদস্য।

উগ্র ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের মিলিত ভোটে (৩৮১-১৬৭) প্রস্তাবটি পাস হয়। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থী এবং গ্রিন পার্টি এর বিরোধিতা করলেও তারা এটি আটকাতে ব্যর্থ হয়।

ফরাসি সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বিষয়ক একটি অত্যন্ত বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এখানে এমন কিছু ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ বলতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলকে বোঝানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের আড়ালে ইসলামপন্থীরা নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

সহজ কথায়, তাদের অভিযোগ হলো—সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছদ্মবেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনগুলো ইউরোপীয় সমাজে ঢুকে পড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাব মানতে আইনত বাধ্য নয়। তবে এটি এমন একটি ধারণাকে আইনি বৈধতা দিচ্ছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে রাষ্ট্রের বাইরে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো অযথাই সন্দেহের মুখে পড়বে। এমনকি মুসলিম নাগরিকদের যেকোনো স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও রাষ্ট্রের ভেতর ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে দেখা হতে পারে।

এই অস্পষ্ট ধারণাকে কাজে লাগিয়ে যে কাউকেই ফাঁসানো সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে, বর্ণবাদবিরোধী সংস্থা ‘ইএনএআর’-কেও এই প্রস্তাবে ইসলামপন্থী আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে তাদের ইইউ তহবিল বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাইরের দেশগুলোও এই সুযোগ নিচ্ছে। যেমন—সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরোপে মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় প্রচুর টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবে কাতার বা তুরস্কের মতো দেশগুলোর আর্থিক সাহায্যকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে, যা এর পেছনের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে পরিষ্কার করে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, মুসলিমদের বর্ণবাদ থেকে বাঁচানোর চেষ্টাকেও এই প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র’ বলা হয়েছে। এটি ইউরোপের ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষীদের জন্য বড় জয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, ইউরোপের মধ্য-ডানপন্থীরা এখন উগ্র ডানপন্থীদের চিন্তাধারা পুরোপুরি লুফে নিয়েছে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাতে সেগুলোকে বৈধতা দিচ্ছে।

এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে ইসলামভীতির একটি নতুন রূপও সামনে আসছে। আগে তাদের ভয় ছিল ওইসব অভিবাসীদের নিয়ে, যারা সমাজের সাথে ঠিকমতো মিশতে পারে না। আর এখন তাদের ভয় সেই সব শিক্ষিত ও সচেতন মুসলিমদের নিয়ে, যারা নিজেদের কথা গুছিয়ে বলতে পারে এবং নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার।

এই ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান থেকে মধ্য-ডানপন্থীরা রাজনৈতিক সুবিধাও পাচ্ছে। তারা একদিকে মুসলিমভীতি ছড়িয়ে নির্বাচনে ভোট টানছে, অন্যদিকে বামপন্থীদের ওপরও আক্রমণ করতে পারছে (কারণ বামপন্থীরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ও মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে)।

ফ্রান্সে এখন ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ইসলামি-বামপন্থা নামের একটি তত্ত্বের খুব প্রচার চলছে। জনপ্রিয় বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলাঁশঁকে এখন ‘দাঙ্গাকারীদের’ (মূলত মুসলিমদের ইঙ্গিত করে) উসকে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। বামপন্থী ও মুসলিমদের ওপর এই যৌথ আক্রমণ পুরোনো সেই ‘জুডিও-বলশেভিক’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ইহুদিদের দায়ী করা হতো।

আজ এই ‘ইসলামো-লেফটিজম’-এর ধুয়া তুলে রক্ষণশীল, উদারপন্থী ও উগ্র ডানপন্থীরা একজোট হয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে বর্ণবাদ ও বৈষম্য দূর করতে পশ্চিমা বিশ্ব যেটুকু এগিয়েছিল, এরা মূলত সেই অর্জনটুকুও মুছে ফেলতে চায়। তাদের আসল লক্ষ্য হলো একটি ‘মুসলিমমুক্ত ইউরোপ’ গড়ে তোলা।

‘ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশ’ নামের এই প্রস্তাবটির ভিত্তি যতই দুর্বল হোক না কেন, ভবিষ্যতে রক্ষণশীল জোটগুলোর কাছ থেকে এমন আরও আইনি পদক্ষেপ আসার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মুসলিমদের স্বাধীন নাগরিক অধিকার চর্চার পথ আরও ছোট করে আনার চেষ্টা করবে। যেকোনো যৌক্তিক বিক্ষোভের দায় তারা ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেবে। রাজনীতিকরা নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের রাগ ও ক্ষোভ সুকৌশলে মুসলিমদের দিকে ঘুরিয়ে দেবেন।

এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার একটিমাত্র পথ রয়েছে। সেটি হলো, সবার নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য আওয়াজ তোলা এবং রক্ষণশীলদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

ফরিদ হাফেজ: সিনিয়র গবেষক, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি এবং সহকারী অধ্যাপক, লিমেরিক ইউনিভার্সিটি, আয়ারল্যান্ড।
(আল-জাজিরা থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।