২৫ জুলাই ২০২৬

গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

কুয়েতে বাসস্থান হারিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিকের দিন-রাত কাটছে রাস্তা কিংবা খোলা জায়গায়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে গতকাল দেশটির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র এ গরমে অনেক প্রবাসী অসুস্থ হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা মিলছে না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

কুয়েতের সরকারি পরিসংখ্যানের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বসবাস করছেন। এসব শ্রমিকের অনেকেই এখন বাসস্থান সংকটের মুখে। গত ১৫ জুলাই রাতে আকস্মিকভাবে দেশটির জিলিব আল-শুয়ুখ, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ এবং অবৈধ অভিবাসীবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

কুয়েতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অংশ নেয়। অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারী ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) কুয়েত প্রবাসীরা ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কুয়েত থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৬৩ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে কুয়েতের অবস্থান অষ্টম স্থানে রয়েছে।

টানা তিনদিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘বুধবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। ওই সময় থেকে রাস্তায় রাত-দিন কাটছে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। টানা তিনদিন ঘুমহীন, গোসল ও পানিছাড়া। এ পরিস্থিতির মধ্যে আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’ আবদুল কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ একজন এ এলাকায় এসেছিল। কিন্তু এখানে থাকা শত শত বাংলাদেশীর কেউ তাদের দেখেনি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে মূলত অনিরাপদ ও অবৈধ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধ দখলদারত্ব, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আকামা (বসবাসের অনুমতি) লঙ্ঘনকারী, পলাতক ব্যক্তি এবং আবাসিক এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অভিযানের পর অনেক বাড়িওয়ালা রাতারাতি ঘর ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে অনেক প্রবাসী আশ্রয় হারিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বাসা ভাড়াও বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে। এসব এলাকায় আগে যেখানে কুয়েতি ২০০ দিনার (৮০ হাজার টাকা) থেকে ২৫০ দিনার (প্রায় ১ লাখ টাকা) এর মধ্যে বাসা ভাড়া পাওয়া যেত, এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০-৫০০ দিনার। বাংলাদেশী টাকায় দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থে বাসা ভাড়া নেয়া অনেক প্রবাসীরই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উচ্ছেদের শিকার এসব এলাকার প্রবাসীরা জানান, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া—এ দুই এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী থাকেন। আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী থাকেন এখানে। গত বুধবার মাঝরাতে হঠাৎ পুলিশ এসে প্রায় সবাইকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তাঘাটে। কেউ কেউ নতুন বাসা খোঁজার চেষ্টা করছেন, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বেশির ভাগ প্রবাসীই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

উচ্ছেদ করা আব্বাসিয়া এলাকায় দুই বছর ধরে বসবাস করছিলেন নড়াইলের রিয়াজুল ইসলাম। এখন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। রিয়াজুল বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দরজায় লাথির শব্দ শুনে খুলে দেখি পুলিশ। তারা সবাইকে পাসপোর্ট, মোবাইল আর আকামা নিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কে বৈধ বা অবৈধ সেটা দেখার জন্য সবার আইডিও চেক করে। ভোর ৬টা পর্যন্ত সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে রাখে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পারেনি। তাই পরদিন আবার এসব ভবনে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেন। এ সময় অনেকে কোথাও যাওয়ার উপায় না পেয়ে ভবনের ছাদে রাতে আশ্রয় নেন। তবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সবাইকে বের করে দিয়েছে।’

বাড়ি ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আগে যেখানে আমরা ২০০-২৫০ দিনার খরচ করে বাসায় থাকতাম, এখন খোঁজ নিয়ে দেখলাম দুই-তিন রুমের একই ফ্ল্যাটের ভাড়া ৪০০-৫০০ দিনার। এটা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।’

উচ্ছেদের পরদিন ১৬ জুলাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উচ্ছেদের শিকার প্রবাসীদের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শেল্টার হাউজে থাকার ব্যবস্থা করেছে দেশটির সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অভিযানের ফলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও পরিবারগুলো তাদের বৈধ অবস্থানের প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থান করতে পারবে। তবে সেখানে অবস্থানকালে তারা কর্মস্থলে যোগদান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করতে পারবেন না।’

এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সেলর (শ্রম) শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারসহ একটি প্রতিনিধি দল ওই শেল্টার হাউজে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক অবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থানকালে কর্মস্থলে যোগদান বা কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করার সুযোগ না থাকায় অনেক প্রবাসীই এ আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রবাসী এখানে থাকতাম তারা কম খরচে থাকতে পারতাম। যেহেতু ভবনগুলো পুরনো, তাই ভাড়াও কম ছিল। উচ্ছেদের বিষয়ে আমাদের মালিক পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তারা হয়তো ভাড়ার জন্য আমাদের উচ্ছেদের তথ্য গোপন রেখেছে। দূতাবাস থেকেও কিছু জানতে পারিনি। তাহলে বাসা ছাড়ার একটা প্রস্তুতি থাকত। এসব ভবনে আমাদের মতো সাধারণ কর্মজীবী লোকজন থাকে। হঠাৎ করে রাতের মধ্যে সবাইকে বাসা থেকে বের করে দেয়। এত পরিমাণ বাংলাদেশীর জন্য দূতাবাসের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা শুধু শেল্টারে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন কিন্তু যারা ভবঘুরের মতো রাস্তায় থাকছেন তাদের খবর কেউ নিচ্ছে না।’

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীরা যেসব ভবনে থাকতেন সেখানে উচ্ছেদের বিষয়টি অনেক পুরনো। যেহেতু সরকার বাড়ির মালিকের কাছে নোটিস পাঠায়, তাই মালিকরা ভাড়া হারানোর ভয়ে হয়তো ভাড়াটিয়াদের কোনো তথ্য জানায়নি। তাই হঠাৎ উচ্ছেদে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা।

সরকারিভাবে যে শেল্টারে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখান থেকে বের হওয়া বা কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ নেই। শেল্টার থেকে বের হতে হলে উচ্ছেদ করা এলাকার ভবনের বাইরে থাকার জায়গা আছে মর্মে মুচলেকা দিয়ে বের হতে হবে প্রবাসীদের। তাই অনেকেই শেল্টারে আসেননি। আবার শেল্টারে না আসা উদ্বাস্তু অবস্থায় থাকা প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করার মতোও পরিস্থিতিও নেই বলে জানায় দূতাবাস সূত্রটি।

কুয়েতের বর্তমান এ পরিস্থিতির বিষয়ে ভালোভাবে অবগত নন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

কুয়েত সরকার যদি কোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা দেয়, সেটি তাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অনেক সময় সরকার সিলগালা করে দেয়। কুয়েতেও যদি এমন কোনো বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত জেনে আমাদের পক্ষ থেকে যা করণীয়, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব, আমরা তা করব।’

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তার কার্যকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের ইতিহাস তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে আলাদা সময়ে ৩ জন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

বাংলাদেশে বি‌নি‌য়োগ চে‌য়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চি‌ঠি

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বাংলাদেশে বি‌নি‌য়োগ চে‌য়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চি‌ঠি

কাতারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল জানায়, ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

বৈঠককালে খালিলুর রহমান কাতারের আমিরের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে বাংলাদেশে কাতারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসীর বাড়ির খাটের নিচ থেকে স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়ির খাটের নিচ থেকে স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিককে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগে লিজা বেগম নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মারুফ মাতুব্বর (২৬) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের হায়দার মাতুব্বরের ছেলে এবং অভিযুক্ত লিজা নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে ও কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের স্ত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মারুফের সঙ্গে লিজার ৬ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে ৪ বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে কুয়েত প্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর স্বামী কামরুল মাতুব্বর কুয়েত চলে যায়। এর মধ্যে প্রেমিক মারুফ মাতুব্বরও ইতালি উদ্দেশে যাওয়া লিবিয়ায় অবস্থান থেকে প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরত আসেন। এরপর থেকে মারুফ ও লিজার মধ্যে আবারও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে প্রেমিক মারুফকে প্রেমিকা লিজা ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন এবং আসার পর দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় প্রেমিকা লিজা প্রেমিক মারুফের মাথায় আয়রন মেশিন (ইস্ত্রি) দিয়ে আঘাত করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মারুফ।

পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো উপায় না দেখে গলায় ক্যাবল পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিরে রাখে। কিন্তু ঘরের ভেতরের হট্টগোল ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি টের পান আশপাশের লোকজন। পরে তারা সন্দেহের জেরে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে লিজার খাটের নিচ থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং লিজাকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত মারুফের বাবা হায়দার মাতুব্বর বলেন, ‘আমার ছেলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

রাজৈর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের মরদেহ মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত লিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের শাটল বাস সার্ভিস। বয়স্ক, শিশু নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার, শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চালুর পর বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। লাগেজ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, বাসের দীর্ঘ বিরতি এবং প্রচারণার ঘাটতির কারণে অধিকাংশ যাত্রী এখনও হেঁটেই বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন।

গত ৮ জুলাই বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এই সেবার উদ্বোধন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি বাস টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বিমানবন্দর বাসস্টেশন, জসিম উদ্দীন সড়ক, বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও কাওলা হয়ে পুনরায় বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পুরো সেবাই বিনামূল্যে।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের নকশা বিমানবন্দরের যাত্রীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদেশফেরত ও বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সাধারণত বড় বড় লাগেজ থাকে। কিন্তু বাসে লাগেজ রাখার আলাদা কোনো র্যাক বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো কোলে বা চলাচলের পথেই রাখতে হয়। এতে যাত্রীদের ওঠানামা যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক সময় বাসে মাত্র একজন বা দু-একজন যাত্রী থাকছে। আবার বাসের জন্য আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না চেয়ে বেশিরভাগ যাত্রী ভারী লাগেজ কাঁধে নিয়েই বিমানবন্দর সড়ক বা রেলস্টেশনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

অনেক যাত্রী জানান, তারা শাটল বাস সেবা চালুর বিষয়টিই জানতেন না। বিদেশফেরত এক প্রবাসী বলেন, পাঁচ মিনিট হেঁটেই বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছানো যায়, তাই আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। তার মতে, ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর বাস চললে যাত্রী বাড়বে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বাস চালু করলেই হবে না, যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনাও নিশ্চিত করতে হবে। বাসে লাগেজ রাখার আলাদা ব্যবস্থা, কম সময়ের ব্যবধানে সার্ভিস পরিচালনা এবং বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় কার্যকর প্রচারণা চালানো হলে এই সেবা প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সত্যিকারের স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও সেবাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রচারণা ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে সপ্তাহের প্রতিদিন (৭ দিন) নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনটি। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটন এবং পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে AI 237 নম্বর ফ্লাইটটি প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে এবং দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অন্যদিকে, ঢাকার AI 238 নম্বর ফিরতি ফ্লাইটটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছাবে। এই নতুন সূচির ফলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতের চাহিদা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারত এখনও বাংলাদেশি যাত্রীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। এছাড়া উচ্চশিক্ষা, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে ভ্রমণ করেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও যাত্রীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা। অনেকের মতে, পর্যাপ্ত ফ্লাইট থাকলেও ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাই ভ্রমণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ভারতীয় ভিসা পরিষেবা দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে। তবে ট্রাভেল এজেন্ট ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও বিস্তৃত করা গেলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শুধু আকাশপথ নয়, স্থলপথেও ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিদিনের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত ঢাকা-দিল্লি রুটে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণ সুবিধা বাড়াবে এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে এই রুটে ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।