১৪ অক্টোবর ২০২৬
কাতার প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ

কাতারে 999 এ কখন এবং কিভাবে কল করবেন?

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬

কাতারে যে কোনো বিপদ বা দুর্ঘটনা ঘটলে 999 নম্বরে ফোন করতে হয়। এই নম্বরটি যে কোনো সময়ে যে কোনো ধরণের জরুরি সাহায্যের জন্য নির্ধারিত।

ফলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতাল-অ্যাম্বুলেন্স সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে সাহায্যপ্রার্থীর জন্য একমাত্র উপায় 999। এই কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়ে থাকে দোহা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে দুহাইলে অবস্থিত ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টার বা এনসিসি থেকে। ২০০৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

“হ্যালো... পুলিশ বলছি, বলুন”— 999-এ ফোন করলে প্রত্যেক কলকারী প্রথমে এই কথাটি শুনতে পান। বর্তমানে এই নম্বরে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ একাধিক অনুবাদক রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ভাষায় কলকারীর সাথে কথা বলতে পারেন।

এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে: আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, উর্দু, ইতালীয়, ব্রাজিলীয়, বাংলা, ফারসি, হিন্দি, ফিলিপিনো, পশতু, চীনা, স্প্যানিশ, তুর্কি, বেলুচি এবং মালয়ালম।

999 এ ফোন করে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সেবা, অগ্নিকান্ড, যে কোনো অপরাধসহ জরুরি সব বিষয়ে সাহায্য চাওয়া যায়। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা একদল চৌকস ও তৎপর পুলিশ কর্মী ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টারে সদা কর্মরত।

তবে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি শ্রমিক এই নম্বরে ফোন করে সড়ক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকান্ড অথবা কোনো বিপদের খবর জানানোর সময় নিজের অবস্থান বা ঘটনাস্থল সঠিকভাবে জানাতে পারেন না। ফলে সাহায্যকারী দল আসতে যেমন দেরি হয়, তেমনিভাবে বিড়ম্বনায় পড়েন কল সেন্টারের কর্মীরাও।

এ ধরণের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে হলে সাহায্যপ্রার্থীকে বেশকিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, এর মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করার পর যখন ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে, তখন স্পষ্টভাবে এর বিবরণ জানাতে হবে। অস্পষ্ট বর্ণনা বা অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল তথ্য দেওয়ার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে জরুরি সেবা নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
  • তাই ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করার আগে অবশ্যই ঘটনাস্থলের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে সাহায্যকারী দল সেখানে এসে পৌঁছাতে পারে। যেমন, কোনো বাসায় যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে সেক্ষেত্রে বাসা যে এলাকায় অবস্থিত ওই এলাকার নাম, সড়ক নাম্বার এবং ভবনের নাম্বার সম্পর্কে সব সঠিক ও স্পষ্ট তথ্য জানাতে হবে।
  • আর যদি সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো উন্মুক্ত স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে, তবে ঘটনাস্থলের আশপাশে চোখে পড়ার মতো নির্দিষ্ট ভবন বা উঁচু আলামত থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

অনেকে সাধারণ তথ্য জানতে বা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে অভিযোগ জানাতে 999 এ ফোন করেন, এটি মোটেও উচিত নয়। কারণ, এটি কেবলমাত্র জরুরি অবস্থায় বা বিপদে জরুরি সাহায্য চাওয়ার জন্য নির্ধারিত। যেমন কাউকে টাকা ধার দিয়ে আর টাকা ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না- এ ধরণের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কখনো 999 এ ফোন করা উচিত নয়।

মনে রাখবেন, অপ্রয়োজনীয় বা জরুরি নয়, এমন বিষয়ে 999 নাম্বারে ফোন করলে অন্য কোনো জরুরি সাহায্যপ্রার্থীর সেবা পাওয়ার বেলায় বিঘ্ন হতে পারে।

পরিবারের ছোট সদস্যরা যেন অযথা 999 নম্বরে ডায়াল না করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা পরিবারের কর্তার অবশ্য কর্তব্য। কারণ, এর ফলে কল সেন্টার যেমন ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তেমনিভাবে তা অন্য কারও সেবা পেতে বিলম্বের কারণ হতে পারে।

সাধারণ ঘটনা হলে একবারের পর দ্বিতীয়বার 999 নাম্বারে ফোন করার প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ, ঘটনার জরুরি অবস্থা অনুযায়ী ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টার অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়। ফলে দ্বিতীয়বার ফোন করে লাইনটি ব্যস্ত রাখা কাম্য নয়।

যারা শ্রবণ প্রতিবন্ধী, তাদের জন্য ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টারের বিশেষায়িত নম্বর 992। এর ফলে সাংকেতিক ভাষায় ভিডিও কলে সাহায্যপ্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টারের প্রশিক্ষিত সদস্যরা।

তাই, পরিবার বা আশপাশের কেউ প্রতিবন্ধী হলে তাকে 992 নম্বর সম্পর্কে অবহিত করে রাখা ভালো।

ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টারের অন্যান্য যোগাযোগ

জরুরি 999 নম্বরের পাশাপাশি ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টারের জন্য উল্লেখিত অন্যান্য যোগাযোগ হলো:

  • ফোন: ৪৪৫২ ৬৬৬৬
  • ফ্যাক্স: ৪৪৫২ ৬২০১

মনে রাখবেন: কাতারে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য সঠিক তথ্য এবং সঠিক অবস্থান জানানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৯৯৯-এ ফোন করার সময় শান্ত থেকে ঘটনার ধরন, অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে জানালে জরুরি সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতনের শিকার নারী রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তার হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কাটছেন। ওই নারী চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও চুল কাটা বন্ধ করেননি তারা। ভিডিওর শেষ দিকে ওই নারীর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

অন্যদিকে, ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে রাতে ওই নারী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ওই নারীকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তার কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে রাখেন।

স্থানীয়দের দাবি, এরপর ওই নারী ও যুবককে আটকে রাখা হয়। পরদিন রোববার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সূত্রে নির্যাতনে জড়িত হিসেবে সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের নাম এসেছে। সুমন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্যাতনের শিকার রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও দুটি কে বা কারা ধারণ করেছেন এবং কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্যাতনের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন।

মালদ্বীপে বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু, পলাতক ৩ রুমমেট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
মালদ্বীপে বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু, পলাতক ৩ রুমমেট

মালদ্বীপে মো. সজীব (২৭) নামের এক বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ কক্ষ থেকে উদ্ধারের সময় সেখানে থাকা তিন প্রবাসীকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে পরিবার।

তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। তাদের অনুপস্থিতি ঘিরে সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্বজনদের মধ্যে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত সজীব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মালদ্বীপ থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর পান বলে জানা গেছে।

সজীবের চাচাতো ভাই মো. সোহেল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীবকে তার কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মালদ্বীপের পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় সজীবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা তিন প্রবাসী সেখানে ছিলেন না। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সজীবের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মালদ্বীপের পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে সজীবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীব অবিবাহিত ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি স্বজনদের। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

সজীবের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সজীবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

মালয়েশিয়ায় ভিসা কোটা জালিয়াতি চক্র উন্মোচিত: ২৬৫ বাংলাদেশির পাসপোর্টসহ আটক ২০

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ভিসা কোটা জালিয়াতি চক্র উন্মোচিত: ২৬৫ বাংলাদেশির পাসপোর্টসহ আটক ২০

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ী, ছয় স্থানীয় নারী কর্মী ও ১২ বিদেশি গ্রাহকসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৬৫টিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৫২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টায় সেলাঙ্গর রাজ্যের আমপাংয়ের তামান দাতো আহমাদ রাজালি এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জেআইএম জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনসাধারণের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং নয়জন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ ১২ বিদেশি গ্রাহককে আটক করা হয়েছে। আটক বিদেশি গ্রাহকদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অভিবাসন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ‘মালিক এ থেকে মালিক বি’ পদ্ধতিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার করছিল। এ পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন করিয়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের মাধ্যমে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। পরে ওই কর্মীদের কোটা অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য সরবরাহ করা হতো।

তদন্তকারীদের ধারণা, এভাবে প্রতিজন বিদেশি কর্মীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত আয় করত চক্রটি। কোটা অনুমোদন পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সাথে অসংগতিপূর্ণ তথ্য জমা দিয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযানকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৬৫টি, ইন্দোনেশীয় নাগরিকদের ৬৩টি, পাকিস্তানি নাগরিকদের ১২টি এবং ভারতীয় নাগরিকদের ১২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা পাসপোর্টের সংখ্যা ৩৫২টি।

এ ছাড়া সরকারি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত হিসাবের তুলনায় কম মুনাফা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসাথে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয় ঘোষণা না করার অভিযোগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ড

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার, অবৈধভাবে কর্মী সরবরাহ এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। শুধু আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশি কর্মী নয়, বরং এসব কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, পরিচালনাকারী ও সুবিধাভোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

প্রবাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরে ফিরেও জীবন নিয়ে স্বস্তিতে নেই বিদেশফেরত নারী শ্রমিকরা। শূন্য হাতে দেশে ফেরার পরও তাদের নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর সন্দেহ, কটূক্তি আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী নারী কর্মীরা জানান, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আরেকটি বিপর্যয় নেমে আসছে জীবনে। সবাই দূরে থাকে, মিশতে চায় না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরূপ সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থেকেও বঞ্চিত থাকছেন তারা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কিন্তু ঠিক কতজন নারী কর্মী বিদেশফেরত হয়েছেনÑএর কোনো তালিকা নেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে।

এদিকে বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ শীর্ষক নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এসব নীতিমালা কেবল কাগজে-কলমে। সরকার থেকে কোনো খোঁজখবর রাখা হয় না।

বিদেশে গিয়ে ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন নরসিংদীর রনি বেগম। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরবে, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে—এমন আশায় কাজের ভিসায় গত জুলাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ না পাওয়া, নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হন। প্রায় দেড় মাস বন্দি থাকার পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হয় তাকে।

রনি বেগম বলেন, আমার স্বামী রিকশা চালায়। একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ ও স্বামীর কষ্ট দেখে বিদেশ যাওয়ার চিন্তা মাথায় আসে। ভালো কাজের আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে গেলেও তা সুখকর হয়নি। কিন্তু দেশে আসার পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা বিদেশযাত্রা ও ফিরে আসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলে প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থনের বদলে মুখোমুখি অপমান, অবিশ্বাস কিংবা সামাজিক দূরত্বের মুখে পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের যৌক্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং সুরক্ষিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসী নারী কর্মীকে বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে আরো বলা হয়, প্রত্যাগত নারী অভিবাসীকর্মীরা অভিবাসনজনিত যেসব সামাজিক সমস্যা, নেতিবাচক ধারণা ও মনোভাবের সম্মুখীন হন তা দূর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (বিএমইটি) তথ্যনুযায়ী, ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে বিদেশ গেছেন ৬১ হাজার ২৫৬ জন নারী শ্রমিক। ২০২৫ সালে গেছেন ৬২ হাজার ৩৫৫ জন ও ২০২৬ সালের অক্টোবর ১০ তারিখ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৬৯৭ জন বিদেশে পাড়ি জমান।

ওই সময়ে যেসব দেশে বাংলাদেশ থেকে বেশি নারী শ্রমিক গেছেন তার মধ্যে সৌদি আরবের সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ আড়াই বছরে সৌদি গেছেন এক লাখ ১৮ হাজার ২৮ জন নারী শ্রমিক, জর্ডান গেছেন ৩৭ হাজার ২৮৭ জন, কাতারে ৫,৮৯৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২,৪৮১ জন, লেবানন ১,১৩০ জন ও কুয়েতে গেছেন ১,১৩০ জন নারী শ্রমিক।

কতজন নারী শ্রমিক প্রত্যাগত হয়েছেন তা জানতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সিস্টেম অ্যানালিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যাগত নারী কর্মীদের তালিকা এন্ট্রি নেই তাদের কাছে।

সাতক্ষীরার সুমি বেগম। ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ভালো বেতনের প্রস্তাবে কাজের ভিসায় তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে একটি বাসায় কাজের জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সুখের বদলে জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ নির্যাতন। তিনি বলেন, একটা বাসায় কাজ করতাম। তারা আমাকে ঠিকমতো বেতন দেয়নি। শেষে যখন আট মাসের বেতন পুরোটাই আটকে ফেলেছে, তখন অনেক কান্নাকাটি করার পর আমি মুক্তি পাই।

সুমি বলেন, দেশে আসার পর আমাকে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিবেশীরা ভিন্নদৃষ্টিতে দেখে। অথচ আমার অপরাধ কী সেটাই তো আমি জানি না। সংসারের হাল ধরতেই তো আমি বিদেশে গেছি। এটাই কি আমার অপরাধ? সরকার যদি আমাদের সম্মান দিতে না পারে, তাহলে বিদেশে কেন নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছে?

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাহিরুন্নেসা বলেন, আমার স্বামীর দুর্ঘটনার পর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গৃহপরিচারিকার কাজে আমি সৌদি আরবে যাই। সেখানে আমাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করে অবশেষে দেশে ফিরতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর আত্মীয়স্বজনরা আমার থেকে দূরে থাকে। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানেও সেভাবে তারা আমাকে দাওয়াত দেয় না। মনোভাব এমন, আমি তাদের সঙ্গে মিশলে সম্মানহানি হবে। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিক যুদ্ধ করে বেঁচে আছি।

তাহিরুন্নেসা বলেন, ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলাম, নিঃস্ব হয়ে ফিরেছি। কিন্তু সরকারের কোনো চিন্তা নেই আমাদের জন্য। কোনো সহায়তাও মিলছে না। আমি অসুস্থ স্বামী ও চারজন সন্তান নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবÑসে চিন্তায় তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি।

সম্মানের সঙ্গে পুনর্বাসন জরুরি

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন বলতে শুধু আর্থিক সহায়তা বা প্রশিক্ষণ বোঝালে চলবে না। তাদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বিদেশ গেলেই যে তাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে, সে মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে তারা ভুক্তভোগী নারীকে দোষারোপ না করে পুনর্বাসনে সহযোগিতা করেন।

সরকারি উদ্যোগ নিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের নিয়ে সরকারি উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে প্রচার ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। এছাড়া ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন। কতজন প্রত্যাগত হয়েছেন, এর তালিকা অবশ্যই থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরেন, তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিশেষ করে যারা বিধবা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, তাদের কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায় এবং এজন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই ভালো কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সূত্র: আমার দেশ

ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৮ জন নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা রয়েছেন।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা। তাদের সংখ্যা ১৩৬। এরপর আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।

এ সময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৮১ জন।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।

কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে একটি বিধিমালার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় চারটি শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় মার্কের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো)-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যও গ্রহণ করেছে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেকো জানিয়েছিল, সংস্থাটির দেওয়া মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি আটটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে গ্রেকোর।

এছাড়া, গত বছরের জন্য দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের আওতায় মোট ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২২টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস