১ নভেম্বর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব শিরোপা জিতেছেন মেসি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব শিরোপা জিতেছেন মেসি

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা এসেছে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মধ্য দিয়ে। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া পথচলার ২১ বছর পর ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন তিনি। এ দীর্ঘ সময়ে শুধু আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারই হননি শুধু, জিতেছেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সব আন্তর্জাতিক শিরোপাও।

বিশ্বকাপ জয়
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলও জেতেন মেসি।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির আরও কিছু অনন্য কীর্তি রয়েছে। তিনি ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং মোট ২১ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট ১২টি, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ তিনি বিশ্বকাপে মোট ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে সেবার শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপেও প্রায় একক নৈপূন্যে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে তুলে আনেন মেসি। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি তারা।

দুইবার কোপা আমেরিকা জয়
মেসির ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক শিরোপার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা জয় করে। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। সে সঙ্গে ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনাকে কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা উপহার দেন তিনি।

এরপর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। ফলে মেসির ট্রফির তালিকায় যোগ হয় দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা। তিনি কোপা আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৯ ম্যাচ খেলা ফুটবলারও। সাতটি আসরে অংশ নিয়ে করেছেন ১৪ গোল।

মেসির অবসর ঘোষণার পর যা বলছে আর্জেন্টিনা ফুটবল

ফাইনালিসিমা জয়
২০২২ সালে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে ফাইনালিসিমা জয়েও আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দেন মেসি। ওয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। মেসি ম্যাচে দুটি গোলে সহায়তা করেন।

অলিম্পিক স্বর্ণ ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ
মূল জাতীয় দলের বাইরে বয়সভিত্তিক পর্যায়েও আর্জেন্টিনার হয়ে সাফল্যের সাক্ষী মেসি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনাকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতান তিনি। একই আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জয় করেন।

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন মেসি। ফলে যুব পর্যায় থেকেই দেশের জার্সিতে তার সাফল্যের শুরু হয় তার।

আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা
জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যান- ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল। তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার।

২০০৫ সালে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক ধরে দেশের জার্সিতে গোলের পর গোল করেছেন তিনি। তার ১২৫ গোল আর্জেন্টিনার আর কোনো খেলোয়াড়ের কাছাকাছিও নেই। মেসির পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তিনি করেছেন ৫৬ গোল। দিয়েগো ম্যারাডোনার গোল ৩৪টি। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার হলেন হ্যাভিয়ের মাচেরানো, ১৪৭টি।

বিশ্বকাপের দুই গোল্ডেন বল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুইবার গোল্ডেন বল জয় করেন- ২০১৪ ও ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পর এবং ২০২২ সালে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পথে তিনি এই পুরস্কার জেতেন।

আরও পড়ুন

এক নজরে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১০ বছর আগেই অবসর নিয়েছিলেন মেসি, কী এমন ঘটেছিল, অবসর ভাঙলেনই বা কেন?

অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সোনালি অধ্যায় শুরু হয় ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকে। এরপর ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা, একই বছর বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা- টানা চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

এর আগে অবশ্য হতাশাও কম ছিল না। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ- চারটি বড় ফাইনালে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিলেন মেসি। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর একপর্যায়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফেরেন।

শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাবর্তনই হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন। যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, তিনিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ, দুই কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, অলিম্পিক সোনা ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ- আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক সম্মান জিতে বিদায় নিলেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার এক নজরে
ম্যাচ: ২০৭
গোল: ১২৫
বিশ্বকাপ: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
কোপা আমেরিকা: ২০২১ ও ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন
ফাইনালিসিমা: ২০২২ চ্যাম্পিয়ন
অলিম্পিক: ২০০৮ স্বর্ণ
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: ২০০৫ চ্যাম্পিয়ন
বিশ্বকাপ গোল: ২১
বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট: ১২
বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল: ২০১৪ ও ২০২২
বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ৬টি
আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১২৫
আর্জেন্টিনার সর্বাধিক ম্যাচ: ২০৭
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: ৬৮টি।

অর্থাৎ, মেসির বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।