১১ আগস্ট ২০২৬

কাতারের সরকারি সেবার মান যাচাইয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ চালু!

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
কাতারের সরকারি সেবার মান যাচাইয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ চালু!

কাতারের সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিষেবা গ্রহীতাদের অভিজ্ঞতার মান যাচাই এবং সন্তুষ্টির মাত্রা পরিমাপের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ সমীক্ষার (Customer Satisfaction Survey) আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশটির 'জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ' (National Planning Council), 'বেসামরিক পরিষেবা ও সরকারি উন্নয়ন ব্যুরো'র (Civil Service and Government Development Bureau) সাথে যৌথ সমন্বয়ে এই সমীক্ষা চালুর ঘোষণা দেয়।

প্রদত্ত সরকারি পরিষেবার সার্বিক মূল্যায়ন এবং নাগরিকদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সেবা খাতকে আরও আধুনিকায়ন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সমীক্ষার লক্ষ্য ও ‘তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল’

জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়, সরকারি পরিষেবার গুণগত মান সম্পর্কে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের গঠনমূলক মতামত ও অভিজ্ঞতা শনাক্ত করাই এই জরিপের প্রধান লক্ষ্য। এই উদ্যোগটির সাফল্য কাতারের রূপকল্প বাস্তবায়নে ঘোষিত 'তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল' (Third National Development Strategy)-এর লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি বিশেষ অবদান রাখবে।

জনগণের অংশগ্রহণের সুফল ও গুরুত্ব:

  • পরিষেবার মানোন্নয়ন: রাষ্ট্রীয় পরিষেবাগুলোর মানধারায় ধারাবাহিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

  • গ্রাহক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধকরণ: সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দাদের দৈনন্দিন সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করা।

  • উদ্ভাবন ও দক্ষতা: সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিত্যনতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান:

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের এই সমীক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তাঁদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনগণের এই সুনির্দিষ্ট মতামত কাতার সরকারের প্রতিটি ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিষেবাকে আরও বিশ্বমানের করে তুলতে সরাসরি সাহায্য করবে।

প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংক পিএলসি এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের জন্য আর্থিক লেনদেন সহজীকরণ, ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বলেন, আজ প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে আমরা এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সর্বাগ্রে। তাঁদের জীবনের সার্বিক সুরক্ষা, কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং দেশে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ ডিজিটাল প্রবাস কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমি জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজে ভোগ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ জানান, সরকারের সময়-আবদ্ধ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এগিয়ে চলছে। প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন ও তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীর তালিকায় শীর্ষ ৫-এ বাংলাদেশ, অধিকাংশই পাচ্ছে না অনুমোদন!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীর তালিকায় শীর্ষ ৫-এ বাংলাদেশ, অধিকাংশই পাচ্ছে না অনুমোদন!

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি আশ্রয়ের আবেদন করা খুব কমসংখ্যকই অনুমোদন পেয়েছে।

রোববার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়।

সারাহ কুক বলেন, যাদের যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি জানান, যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং যারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা এই সহায়তা পাবেন না।

অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে যৌথ উদ্যোগ
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার বন্ধে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান। পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বাংলাদেশের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী তৈরি এবং বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দক্ষ কর্মী তৈরিতে আগ্রহ যুক্তরাজ্যের
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ কর্মী তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও সাশ্রয়ী শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে অভিবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন এবং মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশে যাওয়ার খরচ কমে নামবে ৩ লাখে! বড় আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
বিদেশে যাওয়ার খরচ কমে নামবে ৩ লাখে! বড় আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যেতে অভিবাসন ব্যয় ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার এ ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের থাকরাল গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত এবং দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক প্রবাসীকে জমিজমা বিক্রি করে ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম একদিকে যেমন তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অবলম্বনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই উইং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান। এগুলো হলো- হুন্ডি পরিহার করে সবসময় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল থাকা এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার-এর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান শামা ওবায়েদ।

বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের পরিবারের সম্মতি অনুসারে মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোরের নলডাঙ্গার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।

গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। তারা সবাই ওই কারখানায় কাজ করতেন।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবরে আত্রাই ও নলডাঙ্গা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামে আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: হেফাজতের ৯ দফা দাবি উত্থাপন

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
চট্টগ্রামে আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: হেফাজতের ৯ দফা দাবি উত্থাপন

চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঐতিহাসিক হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিয়ারতে অংশ নেন।

এর আগে বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

হাটহাজারী মাদ্রাসায় জিয়ারত ও প্রবীণ আলেমদের সাথে কুশল বিনিময়

রোববার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি মরহুম শাহ আহমেদ শফীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

কবর জিয়ারত শেষে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলীল আহমেদ কাসেমী প্রধানমন্ত্রীকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও আলেমদের সাথে মতবিনিময় ও কুশল বিনিময় করেন।

(উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমেদ শফী ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।)

বাবুনগরী মাদ্রাসায় হেফাজত আমিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

হাটহাজারী যাওয়ার আগে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত 'আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা'য় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ এই ইসলামী পণ্ডিতের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেন। এ সময় মাদ্রাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোবারকবাদ জানালে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের কাছে গিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ কুশল বিনিময় করেন।

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত নয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো—
১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং ভারতের মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ও টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

  • জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম

  • অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন

  • স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন

  • সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান

  • কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী

  • মাওলানা মহিউদ্দিন।

  • কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর এই চট্টগ্রাম সফর এবং দেশের শীর্ষ আলেম সমাজের সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।