২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।