১১ জুলাই ২০২৬

খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের আরও ৪ সদস্যের কফিনের পাশে আজ রোববার জানাজায় অংশ নে তাঁর তিন ছেলে। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর অপর ছেলে মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়—তেহরানের বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করছেন মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি।

ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থন এবং ইসলামি বিপ্লবের চেতনার প্রদর্শন হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য এক সপ্তাহব্যাপী গণ-শোকযাত্রার আয়োজন করেছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁর মরদেহ প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতেও নেওয়া হবে।

এর আগে জ্যেষ্ঠ ইরানি নেতা ও বিদেশি কর্মকর্তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক দিন ভবনের ভেতরে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। এরপর শনিবার কাচে আবৃত অবস্থায় খোলা প্রাঙ্গণে তাঁর কফিন প্রদর্শন করা হয়। তাঁর কফিনের পাশাপাশি রাখা হয় তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে খামেনি ও তাঁর পরিবারের ওই সদস্যরা নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মোজতবা খামেনির এখনো কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাঁর কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি। মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে যায় এবং তাঁর এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বর্তমানে যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। তাঁদের ভাষ্য, এটি একটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইরানের বিজয়েরই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

আজ রোববার খামেনির কফিনের পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। এ সময় মাসউদ খামেনিকে কান্না করতে এবং চোখের পানি মুছতে দেখা যায় কেফিয়েহ দিয়ে। চেক চেক নকশার এই স্কার্ফটি ইরানে বিপ্লবী সংগ্রামের আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। জানাজার ইমাম দোয়া পাঠ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

হাজারো ইরানি খামেনির জানাজায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং কেউ কেউ বুক চাপড়াচ্ছে। অনেক মানুষ রাতভরও সেখানে অবস্থান করেন। ইরানের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামায় এই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়।

কর্তৃপক্ষের ঘোষণামতে, সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কুম শহরে, যা ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র।

সেখান থেকে বুধবার মরদেহ উড়িয়ে নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালায়। সেখানেও ধর্মীয় রীতি অনুসারে তাঁর জানাজা হবে। পরে বৃহস্পতিবার মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর মাশহাদে আরেকটি শোকযাত্রা শেষে মধ্যযুগীয় শিয়া ইমামদের একজনের সমাধির পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

আগামী কয়েক দিনের বৃহৎ শোকযাত্রাগুলোতে লাখো নয়, কোটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরিবহন, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান, দাবি ইসরাইলের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান, দাবি ইসরাইলের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমনটাই দাবি করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছিল যে, তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যটি ট্রাম্পকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সংক্রান্ত ছিল।

তবে এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা ইরান কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে ওয়াশিংটন একাধিকবার দাবি করেছিল, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার কয়েকটি পরিকল্পনা করেছিল, যা তারা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়ে ট্রাম্পও ইরানের কাছ থেকে নিজের জীবনের প্রতি হুমকির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান তাকে তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

নিজ জন্মভূমি মাশহাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার মাজারে দাফনের আগে শেষ জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মাজারমুখী সড়কগুলো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এ হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এতেও খামেনির শোকযাত্রা থামেনি। ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতেই খামেনির লাশ ইরাকের নাজাফ শহরে নেওয়া হয়।

সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে শোকযাত্রা হয়।

নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে ইমাম হোসেনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রার মধ্যেই বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইরানে ফের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলা করে ইরানও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে ইরানে নেওয়া হয় খামেনির লাশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।-

তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, কী আলোচনা হলো?

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, কী আলোচনা হলো?

অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে উভয় পক্ষ সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার, নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখা এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া ঠেকানোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

এদিকে, ইরানের উপকূলীয় স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে বলে সামুদ্রিক নজরদারি তথ্য থেকে জানা গেছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইরান। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।

পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান

পাকিস্তানের করাচি উপকূলে ৫ জন ক্রু সদস্যসহ একটি কার্গো (মালবাহী) বিমান নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে বিমানটিতে নেভিগেশন ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের এভিয়েশন (বিমান চলাচল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর বুধবারেও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী। প্রায় ২০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো বিমানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে (১৬:২১ জিএমটি) বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সাথে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিমানটি করাচি-ভিত্তিক একটি বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন ‘কে-টু এয়ারওয়েজ’ দ্বারা পরিচালিত হতো। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে কে-টু এয়ারওয়েজ বিমানে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম (ফ্লাইট ট্র্যাক করার মাধ্যম) ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খাড়াভাবে নিচে নেমে আসার আগে বিমানটির উচ্চতায় তীব্র ওঠানামা রেকর্ড করা হয়েছিল।

পাকিস্তানে সর্বশেষ বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইটে। ওই ঘটনায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করাচি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ঠিক আগে বিধ্বস্ত হয়, যাতে বিমানে থাকা ৯৯ জন আরোহীর মধ্যে দুজন ছাড়া বাকি সবাই নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩২ কোটি টাকার ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩২ কোটি টাকার ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ ৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।

এমকিউ ৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এতে মাল্টি স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।

বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবেও এ দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।