২০ অক্টোবর ২০২৬

খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের আরও ৪ সদস্যের কফিনের পাশে আজ রোববার জানাজায় অংশ নে তাঁর তিন ছেলে। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর অপর ছেলে মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়—তেহরানের বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করছেন মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি।

ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থন এবং ইসলামি বিপ্লবের চেতনার প্রদর্শন হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য এক সপ্তাহব্যাপী গণ-শোকযাত্রার আয়োজন করেছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁর মরদেহ প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতেও নেওয়া হবে।

এর আগে জ্যেষ্ঠ ইরানি নেতা ও বিদেশি কর্মকর্তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক দিন ভবনের ভেতরে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। এরপর শনিবার কাচে আবৃত অবস্থায় খোলা প্রাঙ্গণে তাঁর কফিন প্রদর্শন করা হয়। তাঁর কফিনের পাশাপাশি রাখা হয় তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে খামেনি ও তাঁর পরিবারের ওই সদস্যরা নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মোজতবা খামেনির এখনো কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাঁর কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি। মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে যায় এবং তাঁর এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বর্তমানে যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। তাঁদের ভাষ্য, এটি একটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইরানের বিজয়েরই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

আজ রোববার খামেনির কফিনের পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। এ সময় মাসউদ খামেনিকে কান্না করতে এবং চোখের পানি মুছতে দেখা যায় কেফিয়েহ দিয়ে। চেক চেক নকশার এই স্কার্ফটি ইরানে বিপ্লবী সংগ্রামের আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। জানাজার ইমাম দোয়া পাঠ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

হাজারো ইরানি খামেনির জানাজায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং কেউ কেউ বুক চাপড়াচ্ছে। অনেক মানুষ রাতভরও সেখানে অবস্থান করেন। ইরানের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামায় এই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়।

কর্তৃপক্ষের ঘোষণামতে, সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কুম শহরে, যা ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র।

সেখান থেকে বুধবার মরদেহ উড়িয়ে নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালায়। সেখানেও ধর্মীয় রীতি অনুসারে তাঁর জানাজা হবে। পরে বৃহস্পতিবার মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর মাশহাদে আরেকটি শোকযাত্রা শেষে মধ্যযুগীয় শিয়া ইমামদের একজনের সমাধির পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

আগামী কয়েক দিনের বৃহৎ শোকযাত্রাগুলোতে লাখো নয়, কোটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরিবহন, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।

ইসরায়েলের গণহত্যা

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে রোববার।

দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন।

এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।

গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।

সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।

সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর

শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০৩০ সালেই শেষ হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানেও আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

শনিবার মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ২০৩০ সালটি তাঁর মেয়াদের চূড়ান্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন উল্লেখ করে সিসি জানান, নতুন প্রজন্মের যোগ্য নেতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মিসরীয় সামরিক একাডেমি।

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসি ক্ষমতায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মিসরের বিভিন্ন কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী।

এছাড়া চিকিৎসা অবহেলা ও মানবেতর পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সহ একাধিক বিরোধী নেতার কারাগারে মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে এসব সংস্থার প্রতিবেদনে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল