১১ অক্টোবর ২০২৬

খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
খামেনির জানাজায় হাজির ৩ পুত্র, দেখা নেই মোজতবার

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের আরও ৪ সদস্যের কফিনের পাশে আজ রোববার জানাজায় অংশ নে তাঁর তিন ছেলে। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর অপর ছেলে মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়—তেহরানের বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করছেন মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি।

ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থন এবং ইসলামি বিপ্লবের চেতনার প্রদর্শন হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য এক সপ্তাহব্যাপী গণ-শোকযাত্রার আয়োজন করেছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁর মরদেহ প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতেও নেওয়া হবে।

এর আগে জ্যেষ্ঠ ইরানি নেতা ও বিদেশি কর্মকর্তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক দিন ভবনের ভেতরে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। এরপর শনিবার কাচে আবৃত অবস্থায় খোলা প্রাঙ্গণে তাঁর কফিন প্রদর্শন করা হয়। তাঁর কফিনের পাশাপাশি রাখা হয় তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে খামেনি ও তাঁর পরিবারের ওই সদস্যরা নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা মোজতবা খামেনির এখনো কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাঁর কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি। মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে যায় এবং তাঁর এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বর্তমানে যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। তাঁদের ভাষ্য, এটি একটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইরানের বিজয়েরই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

আজ রোববার খামেনির কফিনের পেছনে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। এ সময় মাসউদ খামেনিকে কান্না করতে এবং চোখের পানি মুছতে দেখা যায় কেফিয়েহ দিয়ে। চেক চেক নকশার এই স্কার্ফটি ইরানে বিপ্লবী সংগ্রামের আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। জানাজার ইমাম দোয়া পাঠ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

হাজারো ইরানি খামেনির জানাজায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং কেউ কেউ বুক চাপড়াচ্ছে। অনেক মানুষ রাতভরও সেখানে অবস্থান করেন। ইরানের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামায় এই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়।

কর্তৃপক্ষের ঘোষণামতে, সোমবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কুম শহরে, যা ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র।

সেখান থেকে বুধবার মরদেহ উড়িয়ে নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালায়। সেখানেও ধর্মীয় রীতি অনুসারে তাঁর জানাজা হবে। পরে বৃহস্পতিবার মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর মাশহাদে আরেকটি শোকযাত্রা শেষে মধ্যযুগীয় শিয়া ইমামদের একজনের সমাধির পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

আগামী কয়েক দিনের বৃহৎ শোকযাত্রাগুলোতে লাখো নয়, কোটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরিবহন, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।

সৌদির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে জিসিসি: সদস্য দেশগুলোর কঠোর যৌথ অবস্থান

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
সৌদির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে জিসিসি: সদস্য দেশগুলোর কঠোর যৌথ অবস্থান

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)।

সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে জাসেম আল-বুদাইউই বলেন, বেসামরিক এই স্থাপনায় বারবার হামলার ঘটনা এমন এক অপরাধমূলক প্রবণতার প্রতিফলন, যার লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করা এবং যাত্রী ও কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় নেওয়া সব পদক্ষেপের প্রতি জিসিসির সদস্যদেশগুলোর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলো সৌদি আরবের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হুথিরা বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার দাবি করেছিল। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন এবং একটি বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে শনিবারের হামলার দায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি। ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক জোট। সৌদি আরব এ জোটের সদস্য।

সৌদির আরবে তুর্কি সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা! যেসব কাজ করবেন তাঁরা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
সৌদির আরবে তুর্কি সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা! যেসব কাজ করবেন তাঁরা

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা।

এর আগে, সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব জানায়, তারা মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নিজেদের যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের জন্য ‘সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা’ পাঠানো হবে।

আঙ্কারার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত তুরস্কের দুই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় তুরস্ক গত বছর থেকেই সৌদি আরবে কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারা এবার আরও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী, জরুরি সাড়া দেওয়ার দল এবং তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধসক্ষম সেনা সদস্য সৌদি আরবে পাঠাবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী কারিগরি কাজে সহায়তার জন্য আঙ্কারা সীমিতসংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠাতে পারে। তবে এর বাইরে আরও সেনা মোতায়েন করতে হলে তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’

দ্বিতীয় এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবকে শুধু প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আঙ্কারা অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘কমান্ড ঘাঁটি প্রকল্পের জন্য কারিগরি দলগুলো পুরো সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে কাজ করেছে। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’

কর্মকর্তারা জানান, তুরস্কের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার পর সৌদি আরবে তুর্কি বিশেষ বাহিনীর সীমিতসংখ্যক সদস্য পাঠানো হতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে এই অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত আলাদা কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পর তুর্কি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও বিমান মোতায়েন করবে। তবে কতজন পাইলট এবং কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা জানানো হয়নি। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

তুরস্কের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। ইয়েমেনে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঙ্কারা এখনো মনে করে, আগামী কয়েক মাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হতে পারে।’

রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা

তুর্কি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশের নিরাপত্তায় সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে। সৌদি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে। তবে তুর্কি কমান্ড ইউনিটের নিজস্ব একটি আলাদা ঘাঁটিও থাকবে।

তুরস্কের সামরিক সদস্য ও কারিগরি প্রতিরক্ষা সহায়তা দলগুলো সৌদি আরবের একাধিক স্থানে পরিচালিত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। তুর্কি প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষাবিদ মুরাত ইয়েসিলতাশ বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আলোচ্যসূচিতে মক্কা চুক্তি বা সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের অনুমোদনের বিষয়টি তোলা হতে পারে।

তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সহায়তা সৌদি আরবের মাটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা অথবা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতা মোতায়েনের মধ্যেই সীমিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধরত সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কম। তিনি লিখেছেন, ‘এই পদ্ধতির মাধ্যমে তুরস্ক রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’

‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে হুতিদের ওপর জল-স্থল-আকাশপথে ধ্বংসাত্মক আঘাত

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে হুতিদের ওপর জল-স্থল-আকাশপথে ধ্বংসাত্মক আঘাত

ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৫০টির বেশি সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার। এসব হামলায় ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি যোদ্ধা ‘ হতাহত’ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের অভিযানের আওতায় হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আল-নুজাইলি আরো বলেন, স্থলবাহিনী হুথিদের প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো পুনর্দখল করেছে। পাশাপাশি অভিযানে অর্জিত সাফল্য ধরে রেখেছে তারা। নির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইয়েমেন সরকার গত রোববার ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।

তবে হামলা ও হুথি যোদ্ধাদের হতাহত হওয়ার বিষয়ে সরকারের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

গভীর হতে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে ইসরাইল গৃহযুদ্ধ বা এমনকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

সিআইএ-র বিশেষ শাখা ‘রেড সেল’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইথিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শীর্ষক এক গোপন মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সোমবার (০৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সিআইএ-র সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু জটিল সংকট একসঙ্গে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিস্থিতিকে চরম অস্থির করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, আকাশচুম্বী সামরিক ব্যয়, পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে সাধারণ জনগণের তীব্র ক্ষোভ।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক লড়াই ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আরও পড়ুন

টানা যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরাইলি সমাজের মধ্যকার পুরোনো বিভাজনগুলোকে আরও গভীর করেছে। গাজা, লেবানন ও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে বিপুলসংখ্যক সেনা ও রিজার্ভিস্ট মানসিক ট্রমা নিয়ে ফিরে আসছেন।

এর মধ্যে অতি-অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে ছাড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্দ্ধমান একাকীত্ব এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের জনসমর্থন কমে যাওয়াকে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিআইএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরের এসব চাপ ও ভেতরের অস্থিতিশীলতা একসঙ্গে মিলে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বকেই এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভিযানসংক্রান্ত নিবিড় সহযোগিতা বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য আগাম হামলা কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে আসা আক্রমণের জবাব দিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

তবুও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এখনও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে ইসরায়েল।

এদিকে ইসরায়েলি নিউজ ওয়েবসাইট ‘ওয়ালা’ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যারা মূলত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা, পাইলটিং, এবং লজিস্টিকস সহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কাজে নিয়োজিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে ইসরায়েলি বাহিনী এই আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলার কৌশল তৈরি করছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য সমাধান’ অর্জনের লক্ষ্যে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পেশ করেছিল ইরান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে জানান যে, ওয়াশিংটন ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নেয়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।