৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) সরকারি প্রণোদনার বকেয়া বাবদ ৮,৫৬৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থের বোঝা বহন করছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ সময়মতো ফেরত না পাওয়ায়—ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব আমানত থেকে এই ভর্তুকির অর্থ মেটাতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরকারি নীতি অনুযায়ী, দেশে আসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর প্রবাসীদের ২.৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয় ব্যাংকগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হয়ে ব্যাংকগুলো এই অর্থ বিতরণ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ তাদের ফেরত পাওয়ার কথা। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩,৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় আসা এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ডলারে প্রণোদনার খরচ বেড়ে ৩ টাকায় পৌঁছানোয়—সরকারের কাছ থেকে এই অর্থ ফেরত পেতে প্রায় সাড়ে ৯ মাস বিলম্ব হচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা নথি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বকেয়া দাবির পরিমাণ ছিল ৮,১৮৫ কোটি টাকা। এরপর ২ আগস্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও, জুলাই মাসের নতুন ৮৭৯ কোটি টাকার দাবিসহ মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮,৫৬৫ কোটি টাকায়।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বকেয়া দাবি রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের—১,৫১৩ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (৮৫০ কোটি টাকা), সিটি ব্যাংক (৩৩৫ কোটি টাকা), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (২৫০ কোটি টাকা), পুবালী ব্যাংক (২৫০ কোটি টাকা) এবং সাউথইস্ট ব্যাংক (১৭০ কোটি টাকা)।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমানতকারীদের তহবিল থেকে প্রবাসীদের এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যাংকের মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কারণ, এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হলে ব্যাংকগুলো অন্তত ৯ শতাংশ হারে সুদ পেতে পারত।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের খরচ (আমানতের সুদ) এবং সরকারের অর্থ ফেরতে বিলম্বের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ব্যবধানের ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমছে। এটি আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয় সংগ্রহের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উৎসাহ কমিয়ে দিতে পারে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের অপর এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, "রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় তহবিল সংকটে রয়েছে, যার ফলে অর্থ ছাড় করতে দেরি হচ্ছে।" বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তহবিল পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বিতরণ করে। ফলে অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখন পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "এই বিলম্বের কারণে ব্যাংকগুলোকে বড় ধরনের অপোরচুনিটি কস্ট গুনতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত থেকে এই নগদ অর্থ পরিশোধ করছে—যার বার্ষিক খরচ ৭ থেকে ৮ শতাংশ। অথচ এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে না পারায় ৯ শতাংশ বা তার বেশি আয় হাতছাড়া হচ্ছে।"

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, "ব্যাংকগুলোর ওপর এর প্রভাব ত্রিমুখী। প্রথমত, ঋণের জন্য ব্যবহারযোগ্য তারল্য কমে যায়। দ্বিতীয়ত, আমানতের ওপর সুদের দায় অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও— আটকে থাকা তহবিল থেকে কোনো আয় আসে না। এবং তৃতীয়ত, আয় বাড়ায় এমন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ হারায় ব্যাংক।"

তিনি আরও বলেন, "বাজেট ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত রেমিট্যান্স বাড়ায় প্রণোদনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ও অর্থ ছাড় বাড়েনি।"

মাসরুর আরেফিন প্রস্তাব করেন, ব্যাংকগুলোকে তিন মাসের অগ্রিম তহবিল দেওয়ার আগের ব্যবস্থাটি আবার চালু করা উচিত। এ ছাড়া প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংকগুলোর দাবি নিষ্পত্তি করা, রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের খরচ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, "বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে বকেয়া অর্থ পরিশোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।"

টাকার অবমূল্যায়নে বেড়েছে প্রণোদনার খরচ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার এর আগে ব্যাংকগুলোকে অগ্রিম প্রণোদনার অর্থ প্রদান করত। তবে এখন অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় কোনো কোনো বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

একজন ব্যাংকার বলেন, দুই বছর আগের তুলনায় এখন রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক বাড়ায় প্রণোদনার দায়ও বেড়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রেমিট্যান্সের জন্য প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১১৭ টাকা এবং ব্যাংকগুলো প্রণোদনা হিসেবে প্রতি ডলারে অতিরিক্ত ২.৯৫ টাকা প্রদান করত। বর্তমানে রেমিট্যান্সের বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকায় দাঁড়ানোয় ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানত তহবিল থেকে প্রতি ডলারে ৩ টাকা করে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি বকেয়ায় বহুবিধ ঝুঁকি

ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলছেন, অর্থ পরিশোধের এই বিলম্ব দীর্ঘায়িত হলে তা বেশ কয়েকটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রবাসী আয় আকৃষ্ট করতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও প্রচারণা চালানোর আগ্রহ কমে যেতে পারে। একই সাথে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ও মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার খরচ বহন করাও ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

ছোট ও তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি পড়বে।

সরকারি পাওনার বড় একটি অংশ অনাদায়ি হিসেবে পড়ে থাকায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট-লাইবিলিটি ম্যানেজমেন্ট) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া প্রণোদনা প্রদানে বিলম্ব গ্রাহকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধ 'হুন্ডি' পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, চলতি হিসাবের ভারসাম্য এবং রিজার্ভে রেমিট্যান্সের যে ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, সোমবার আল-জাওফ প্রদেশের ‘সেন্ট্রাল কারেকটিভ ফ্যাসিলিটি’ নামে ওই কারাগারে হামলা চালানো হয়। হামলায় এক নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

হুথি নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ হামলার পরের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজনকে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায় বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে।

তবে সৌদি আরব এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল মাসিরাহ টিভি আরও কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী সরবরাহ ট্রাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করে বলেন, আল-জাওফে সৌদি আরব ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হামলার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে এবং এর পরিণতি সৌদি আরবকেই বহন করতে হবে।’

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোন ছিল বলে জানান ইয়াহিয়া সারি।

তার দাবি, ড্রোনটি আল-জাওফে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ ধরনের দ্বিতীয় এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগেরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)।

এনসিএম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে টানা বজ্রঝড় এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

জাজান এবং আসিরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ এবং সামতাহ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাজান শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জেও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ এবং বলকারন এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না।এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেওয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া একদম অনুচিত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড এল্যার্ট’ জারি করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

লাল সতর্কতা হলো দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়ে থাকে। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।