৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ আগস্ট এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণের বেশি করবে। একই সঙ্গে, মার্কিণ নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবে এই চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অল্প সময়ে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন (৩০ হাজার ৩০০ কোটি) ব্যারেল। এটি বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবে। এটি দেশটির মোট পরিচিত তেল মজুতের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি।

তবে ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।

কার হাতে যাচ্ছে তেলের নিয়ন্ত্রণ
হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের সঙ্গে একটি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক ভেনেজুয়েলার ধনকুবের আলেহান্দ্রো বেতানকুর্ট। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সাবেক মিত্র ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদনে মার্কিন কোম্পানি শেভরনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স। চুক্তিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটালের ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে।

যৌথ উদ্যোগটির দৈনিক প্রায় দুই লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচের দামে কেনার অধিকার পাবে।

এখনই কমছে না তেলের দাম
চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বরং বেড়েছে।

কোপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল বলেন, চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল প্রতি ব্যারেল ৮৩ থেকে ৮৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৮৮ ডলারের মধ্যে। এরপর ডব্লিউটিআই ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্রেন্টের দামও ৯৫ ডলারের ওপরে ওঠে।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলার তেল তুলতে লাগবে বহু বছর
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত থাকলেও তা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব নয়।

দেশটির তেল অবকাঠামোর বড় অংশ পুরোনো। পাইপলাইন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়।

এ ছাড়া ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতের জন্য বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।

রাউবালের মতে, চুক্তির কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলোও এরই মধ্যে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল এলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের দাম কমানোর মতো প্রভাব তৈরি হবে না।

হরমুজ প্রণালির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে ভেনেজুয়েলা?
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর ব্রেন্ট তেলের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ফ্রেডেরিক স্নাইডার বলেন, হরমুজ দিয়ে বাজারে আসা তেলের ঘাটতি ভেনেজুয়েলা পূরণ করতে পারবে না।

এর একটি কারণ হলো, ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা অনেক তেল তুলনামূলকভাবে হালকা। ফলে দুই ধরনের তেল একইভাবে বাজারে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

আসল লাভ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো।

চুক্তি ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে সক্রিয় বড় মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে শেভরন, ইতালির এনিই, ভারতের ওএনজিসি, কলম্বিয়ার জিওপার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের জিই ভারনোভা থাকার কথা রয়েছে।

আছে তেলের ভাণ্ডার, সঙ্গে ঝুঁকিও
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। এরপর বিনিয়োগের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।

ভেনেজুয়েলায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তাই দীর্ঘমেয়াদে তেল উৎপাদন বাড়লেও কতটা বাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে জ্বালানির কম দাম পাবেন— এমন সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

বরং চুক্তির তাৎক্ষণিক ও সবচেয়ে স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো।

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলা: শিশুসহ ৭ জন নিহত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, সোমবার আল-জাওফ প্রদেশের ‘সেন্ট্রাল কারেকটিভ ফ্যাসিলিটি’ নামে ওই কারাগারে হামলা চালানো হয়। হামলায় এক নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

হুথি নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ হামলার পরের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজনকে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায় বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে।

তবে সৌদি আরব এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল মাসিরাহ টিভি আরও কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী সরবরাহ ট্রাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অভিযোগ করে বলেন, আল-জাওফে সৌদি আরব ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, নজরদারি ড্রোন উড়াচ্ছে এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হামলার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে এবং এর পরিণতি সৌদি আরবকেই বহন করতে হবে।’

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোন ছিল বলে জানান ইয়াহিয়া সারি।

তার দাবি, ড্রোনটি আল-জাওফে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ ধরনের দ্বিতীয় এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগেরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)।

এনসিএম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে টানা বজ্রঝড় এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

জাজান এবং আসিরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ এবং সামতাহ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাজান শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জেও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ এবং বলকারন এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কুয়েতে শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলা চালাল ইরান

স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক করবে না বলে আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে সাহায্য করবে। তবে ওয়াশিংটনের সেই শর্ত শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব) মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি না করে, তবে পারমাণবিক সহায়তার এই চুক্তি কোনোভাবেই আলো দেখবে না।এর আগে গত মাসে দুই দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার এই নতুন শর্ত নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের সিদ্ধান্ত কখনোই বদলাবে না। ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক সাহায্য নেওয়া হলো দুটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিষয়। এর সঙ্গে ইসরাইলকে মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া একদম অনুচিত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
প্রতিকূল আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের

সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড এল্যার্ট’ জারি করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, ওই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন, জলমগ্ন এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধ থেকে দূরে থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

লাল সতর্কতা হলো দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা, যা চরম সতর্কতার প্রয়োজন এমন আবহাওয়ার উপস্থিতিতে জারি করা হয়ে থাকে। মক্কা প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থির আবহাওয়া এবং বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিসহ ভারী বর্ষণের পূর্ব সতর্কবার্তা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।