৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন। রিয়াদে পৌঁছে সেখানে থাকা আরেকজন দালালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।

আরিফ হোসেনের মত এমন আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদে অবস্থিত একটি স্থানে থাকার জায়গা দেন দালাল। তবে রিয়াদে যে কাজের কথা দেওয়া হয়েছিল সেই কাজ পাননি তিনি। বেশ কিছুদিন বসে থাকার পরে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজে যোগ দেন আরিফ হোসেন।

কিন্তু এরপরই সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি। ফলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করলেও কিছুই আয় করতে পারেননি বলে জানান।

তিনি বলেন, নাডিকে কাজ দেয় নাই, এক মাস চইলা যায় কাজ দেয় নাই। পরে বাধ্য হইয়া মক্কায় যাই অন্য কাজ নিয়া। জুলাইয়ের চার তারিখে পুলিশ (সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ধরছিল, ১৬-১৭ দিন জেল খাটছি। এরপর ২২ জুলাই দেশে আসছি।

তবে শুধু আরিফ হোসেনই নন, এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন। দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে জানানো হয়। একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আর সবশেষ ২৩ থেকে ২৯ জুলাই এই অভিযানে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়; যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। যদিও সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিযুক্ত কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন বলছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ না করলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কের কিছু নেই। এক কাজের জন্য গিয়ে অন্য কাজ করার মতো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়। যারা এসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নিয়মিত অভিযানেরই অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

• অভিযান নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কারণ আছে কী?
গালফ নিউজের তথ্য বলছে, গত ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে, আবাসন আইন ভঙ্গের অপরাধে ৭ হাজার ১০৩, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযোগে ৩ হাজার ৬৫৪ জনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণের কাগজপত্রের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৪২৪ জন দেশ ছাড়ার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে চায়, পরিবহন করা বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একইসঙ্গে, ১০ লাখ রিয়েল বা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসম্মুখে নাম প্রকাশের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব। তবে, ওই সাড়ে ১২ হাজারের মধ্যে কত সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই অভিযানের তথ্য সর্বশেষ তথ্য হলেও গালফ নিউজের সংবাদ ঘেঁটে দেখা যায়, এই দফার অভিযান শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন। সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই মাসে দুই দফায় অভিযান চালায়।

এর মধ্যে ১৬ থেকে ২২ জুলাই এবং ২৩ থেকে ২৯ জুলাই সবশেষ অভিযানে দেশটির আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে, ৭ মে থেকে ১৩ মে এক সপ্তাহব্যাপী সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১১ হাজার ২৭২ অবৈধ প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল নিযুক্ত কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, গত সপ্তাহের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে চার হাজার বাংলাদেশি জেদ্দার তারহিলের সফর জেলে রয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার জন্য সেখানে রয়েছেন তারা।

এছাড়া আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে রয়েছেন। তবে, তাদের প্রত্যেকেই যে জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেটি নয়। এই গ্রেপ্তারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই সময়ের আগের প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে সালেকিন বলছেন, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হজ মৌসুমসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট মনিটরিং করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা একটা রেগুলার প্রসেসে চলতে থাকে। হজ্জের সময় এটা খুব কঠোরভাবে চেক করা হয়। হজ ছাড়া অন্যান্য সময় অন্যান্য দেশের পারস্পরিক বিষয়ের সাথে রিলেট করে অভিযান পরিচালনা হয়। নানা ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটি নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করলেও সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং সৌদি আরব বিষয়টি মনিটরিং করে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নিযুক্ত হওয়া, এক স্থানের কথা বলে অন্য স্থানে অবস্থান করা, যে মেয়াদে কাজের জন্য গিয়েছেন সেই সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া অথবা সড়কে বা ফুটপাতে হকার হিসেবে পণ্য বিক্রি করা এমন নানা কারণে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযানে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা একটা নরমাল প্রসিডিউর। এখানকার কিছু রুলস আছে। আপনি যেই কাজে আসছেন সেই কাজেই থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে আপনি আসছেন এক কাজে এসে আপনি এখানে বিজনেস করছেন।

‌‌‘‘এক জায়গার ইকামা নিয়ে আরেক জায়গায় কাজ করা যায় না। ধরুন, একজনের ইকামাতে জব লোকেশনটা রিয়াদ কিন্তু তিনি জেদ্দা বা মক্কায় আছেন এক্ষেত্রে রেসিডেন্স ভায়োলেশন হয়। অর্থাৎ যখন ইকামার সাথে আপনার ন্যাচার অফ ওয়ার্কের কনক্লুয়েন্সি বা চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে না তখন অভিযানে ধরছেন তারা।’’

সাধারণত এসব কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর যখন তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন উনার নামে যদি কোনো মামলা হয় বিশেষ করে আর্থিক মামলা হয় তখন ওনার ট্রাভেল ব্যানড করে রাখা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাভেল ব্যানের টাকা পরিশোধ করা না যায় ততক্ষণ উনি নিজ দেশে যেতে পারেন না, বলেন কনসুলার সালেকিন।

গত ২৮ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে হজ্জ ফেরত ফ্লাইট শিডিউল ছিল। সে সময় ফ্লাইট স্বল্পতায় যারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তারাও সেখানে অবস্থান করেছেন জুলাইয়ে অভিযানের ওই সময়ে।

সেইসব বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনটি বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োজিত কনসু্লার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আবাসন, চাকরি বা সৌদি আরবের বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করেছেন জুলাইয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এই কনসুলার।

সৌদি আরবের রুলস-রেগুলেশনস মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, তারা যদি সৌদি রুলস, রেগুলেশনস মেনে চলেন এবং যে যেখানে কাজে আছেন সেখানে ঠিকমতো কাজ করেন রুলস ভায়োলেশন না করেন, তাহলে ইনশাল্লাহ কোনো ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এখন বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সৌদি আরবের শ্রম বাজার বাংলাদেশি লেবার মার্কেটের ওপর অনেকটাই ডিপেন্ডেন্ড। এ কারণেই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করার মতো ঘটনার বিষয়ে আরো সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন জেদ্দা কনসুলেটের কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

• সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা কী?
সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব। বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন। যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষই সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এই সংখ্যা তার আগের বছরের ১৬ শতাংশ বেড়েছে গতবছর। অর্থাৎ সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে গিয়েছেন।

আর ২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে এক বছরে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কাতার, দেশটিতে গত বছর এক লাখ ৪৭২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর যেখানে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং কুয়েতে ৭২ হাজার ৭১৭ জনকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য সৌদি আরবে পাঠানো কর্মী সংস্থার তুলনায় অন্যান্য দেশে এই হার খুবই কম। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লাখ প্রবাসীর প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান বাংলাদেশে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আগের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বলে এই বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক খবরে বলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেটি দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন পরিশোধ, কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।

নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকা বলছে, এখন তাকামোল যাচাইকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নিয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের বিশেষ ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অধীনে খনি ও নির্মাণ খাতে নতুন করে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালে নতুন একটি কর্মসংস্থান চুক্তির আওতায় আরো তিন লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

মিশরে টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদক তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি, মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন ও পাচারের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগও রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সারাহ খলিফার দাবি, মাদকবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে মাদকের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, জীবনে এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারকাজে ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তার শারীরিক হাবভাব এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের টিম ও মেকআপ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে যাওয়া এবং ঢুলুঢুলু চোখ দেখে অনেকেই তাকে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দাবি করছেন, যদিও ভক্তদের একাংশের মতে তিনি কেবলই উদযাপনের আনন্দে মেতে ছিলেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হানিয়া আমির হ্যালোউইন উৎসবের জন্য নিজের চুল সাজাতে ব্যস্ত। হেয়ার স্টাইলিস্টকে নিজের আসল চুল লুকিয়ে একটি উইগ পরিয়ে দিতে বলছেন তিনি। সাজগোজের পুরো সময়জুড়েই তাকে অত্যন্ত উৎফুল্ল এবং উদযাপন নিয়ে দারুণ উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কোন স্থানে এবং কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই মন্তব্যের ঘরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ দর্শকরা। কেউ কেউ তার তোতলামি ও ঝিমুনো ভাব লক্ষ করে কঠোর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এখন ধ্বংসের পথে এবং হানিয়া আমির মাদক, ইনজেকশন ও অ্যালকোহলের মতো খারাপ অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, কোনো পার্লারে বসে তিনি এতটাই মাতাল হয়ে আছেন যে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি হেয়ার স্টাইলিস্টের থেকেও নাকি আলাদা অনুভূতি পাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মদ কি নারীদেরও এভাবে গ্রাস করে নিল—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সেই নেটিজেন। পরিস্থিতি হালকা করার কোনো সুযোগ না দেখে আরও এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, তারকাদের মনে রাখা উচিত চারপাশে ক্যামেরা রয়েছে, কারণ ঘটনাটিকে বেশ বিশৃঙ্খল মনে হচ্ছে।

তবে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে হানিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বহু অনুরাগী ও সাধারণ দর্শক। এক নেটিজেন লেখেন, মনে হচ্ছে তিনি সদ্য ঘুম থেকে উঠে শুটিং বা দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন; এর মধ্যে মাদক বা মদ খাওয়ার মতো কিছু নেই যা দাবি করা হচ্ছে। অন্যাংশের মতে, সাধারণ একটা মেয়ে যখন নিজের চুল সাজাচ্ছে, তখন সবাই অযথা কেলেঙ্কারি খোঁজার চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই অভিনেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, সবাই হানিয়াকে প্রাণবন্ত ও চঞ্চল দেখতে পছন্দ করে, কিন্তু নেশাগ্রস্ত বা অন্য কিছুর প্রভাবে থাকা অবস্থায় নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এত জল্পনা-কল্পনা ও তর্কবিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত হানিয়া আমির কিংবা তার দলের পক্ষ থেকে এই ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জনপ্রিয় এই পাকিস্তানি তারকাকে বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইসলামাবাদে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত এই তরুণীর টিকটকে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম শামসো বিবি। তার বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

বিবির বাবা পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মেয়ে একটি ফোন কল পান। ফোনে তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়েছিল।

ফোন পাওয়ার পর বিবি তার ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে নিয়ে বের হন। তারা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে মোটরবাইকে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একটি গুলি বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে তার বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিবির বাবা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার মেয়ের আর্থিক লেনদেন ছিল। তার অভিযোগ, অর্থ ফেরতের দাবি নিয়ে বিবিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে পূর্বে ইসলামাবাদে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি।

নিহতের বাবার দেয়া তথ্যমতে, বিবি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিলেন। প্ল্যাটফর্মটিতে তার প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার ছিল।

শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তার আসন্ন সিনেমা ‘ইথা’ ঘিরে যেমন দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি ছবিটির জন্য অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইথা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রদ্ধা কাপুর প্রায় ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রী কিংবা ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। খবরটি সত্যি হলে, এটি শ্রদ্ধার আগের পারিশ্রমিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

‘স্ত্রী ২’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এবার ‘ইথা’য় তাকে দেখা যাবে একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে।

জানা গেছে, লক্ষ্মণ উটেকর পরিচালিত ‘ইথা’ প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বিঠাবাঈ নারায়ণগাঁওকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে। ছবিতে শ্রদ্ধাকে আগের গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের বাইরে ভিন্ন লুকে দেখা যাবে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শ্রদ্ধার লুক ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।

আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ইথা’র। সিনেমাটি শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পারিশ্রমিক ১৫ কোটি রুপিতে উন্নীত হওয়ার খবরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই থাকছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

২৯ বছর ধরে ছেলের মৃত্যুর রহস্যের বিচার দেখার অপেক্ষায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। সেই অপেক্ষার মধ্যে এলো নতুন খবর— সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ডন। খবরটি শোনার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নীলা চৌধুরী। কণ্ঠে ফিরে আসে দীর্ঘদিনের কষ্ট, ক্ষোভ আর বিচারের প্রত্যাশা।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডনকে আটক করা হয়। পরে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্টার নিউজকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বুকের মধ্যে সালমান শাহ ছিল, আছে, থাকবে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আজ আমার ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করা হলো।’

ডনের বিরুদ্ধে সালমান শাহকে নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দায়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন সময় ডন তার ছেলেকে বেয়াদব হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং তাকে নিয়ে নানা মিথ্যা কথা বলেছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন অনেক কিছু করেছে। আমাকে অপমান করেছে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলেছে। আমার ছেলেকে বেয়াদব বানিয়েছে।’

নিজের বাড়িতে সালমান শাহকে নিয়ে ডনের দেয়া একটি বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেন তিনি। নীলা চৌধুরীর দাবি, ডন তার ঘরে কখনো যাননি।

তিনি বলেন, ‘সে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে, যে আমার ছেলে আমাকে মারতে দেখেছে। সে তো আমার ঘরে কোনোদিন যায় নাই, আমার বিল্ডিংয়ের ওপর কোনোদিন ওঠেই নাই।’

ডনের গ্রেপ্তারের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিনের তদন্তের পর সত্য সামনে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে সেই সত্য তার ছেলে দেখে যেতে পারবে না— এটাই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর বিচার। আমার প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। আমার মনটা কাঁদছে। সবই প্রমাণ হবে, কিন্তু সালমান দেখতে পাবে না।’

সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার কথাও জানান তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ও বর্তমান সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বর্তমান সরকারের ওপর আমার নির্ভরশীলতা আছে। বিচার এখন হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নানা বাধার মধ্যেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার যারা আছেন, তারা অনেকে বাধাগ্রস্ত হয়ে হয়ত করতে পারেন নাই কিন্তু তারাও সাহায্য করছে, তারাও ভক্ত।’

সালমান শাহর ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তার মা। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের ভালোবাসা ও দাবির কারণেই বিষয়টি মানুষের মনে এখনও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমিও কৃতজ্ঞ। এই ভক্ত বাচ্চারা না থাকলে আজকেও তারা কাঁদছে।’

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি একটা না, ৪২ থেকে ৪৬টা মৃত্যুর বিচার চাই। আমার বাচ্চার সঙ্গে যারা আত্মহত্যা করছে, তারা মরে গেছে— আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব করুক। এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে সকলের বিচার হোক। সেটাই আমি চাই।’

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশবাসীর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।’