৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবার তেল রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব
জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ট্যাঙ্কার বহরে হামলার ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর, অবশেষে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বোঝাই (লোডিং) ও বিক্রি ফের শুরু করেছে সৌদি আরামকো। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা এবং বাণিজ্য সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি জায়ান্ট— খোলাবাজার বা স্পট মার্কেটে ভারী অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায়—আরও বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজের ভেতরে তেল বোঝাইয়ের অপেক্ষায় নোঙর করে আছে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক এই প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে 'শিপ-টু-শিপ' বা এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগারকে 'আরব মিডিয়াম' এবং 'আরব হেভি' গ্রেডের তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

হরমুজ দিয়ে সৌদি রপ্তানি ফের শুরুর এই পদক্ষেপ, বাজারে ভারী গ্রেডের তেলের তীব্র সংকট কমাতে সহায়তা করবে। এ ধরনের ভারী অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড মূলত জাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রেসিডিউ ফুয়েল তৈরিতে এবং শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো উচ্চমানের জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রসপারিটি, আলজেরিয়া প্রসপারিটি ও সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি নামের তিনটি বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)—সৌদির জুয়ায়মাহ এবং রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই করেছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা– ভোর্টেক্সা ও কেপলার-এর উপাত্তে দেখা যায়, বন্দর দুটি থেকে সর্বশেষ তেল বোঝাই করার পর মাঝখানে প্রায় তিন সপ্তাহের একটি দীর্ঘ বিরতি ছিল। তবে ভিএলসিসি জাহাজগুলো ঠিক কোন গ্রেডের তেল বহন করছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ভিএলসিসি জাহাজগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'সিনোকোর'-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আরও অন্তত ছয়টি ভিএলসিসি সৌদি তেল বোঝাই করতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের জন্য সিনোকোরের জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরামকো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন সৌদি ট্যাঙ্কারও ব্যবহার করতে পারে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করা শিপিং তথ্যে দেখা গেছে, সৌদিভিত্তিক অপারেটর 'বাহরি'-র মালিকানাধীন সাতটি ভিএলসিসি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান উপকূলে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ ফুজাইরাহের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সিদি কেরির রুট ও লোহিত সাগরের চ্যালেঞ্জ

তবে হরমুজ দিয়ে রপ্তানি শুরু হলেও, সৌদি আরবের সার্বিক তেল রপ্তানি এখনো বেশ সীমিত। কারণ লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের টানা অবরোধের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরামকো তাদের প্রধান রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর বেশি নির্ভর করছিল। কিন্তু, সেখানেও বাধ সাধে ইরান-সমর্থিত হুথিদের অবরোধ।

বিকল্প হিসেবে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের প্রস্তাব দেয় সৌদি আরামকো। কিন্তু ইয়ানবু বন্দর অবরুদ্ধ হওয়ার আগে সেখান থেকে দৈনিক যে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো, সিদি কেরির দিয়ে প্রস্তাবিত তেল রপ্তানির পরিমাণ তার তুলনায় খুবই কম। তা ছাড়া বাড়তি শিপিং খরচ এবং ঘুরপথের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে এশীয় ক্রেতারা সেখান থেকে তেল কিনতে খুব একটা উৎসাহও দেখাচ্ছে না।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসে এশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৬,৭০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সিদি কেরির বন্দরে বোঝাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিগত তিন মাসে ছিল শূন্যের কোঠায়।

ভোর্টেক্সার চীন বাজার বিশ্লেষক এমা লি এ বিষয়ে বলেন, "এই উপাত্ত প্রমাণ করে যে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য সিদি কেরির বন্দরের প্রস্তাবটি হয়তো আশানুরূপ কাজ করছে না। কারণ সেখানকার ক্রেতারা—বিশেষ করে চীনা ক্রেতারা—দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং অতিরিক্ত পরিবহন খরচ নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন।"

অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

মিশরে টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদক তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি, মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন ও পাচারের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগও রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সারাহ খলিফার দাবি, মাদকবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে মাদকের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, জীবনে এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারকাজে ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তার শারীরিক হাবভাব এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের টিম ও মেকআপ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে যাওয়া এবং ঢুলুঢুলু চোখ দেখে অনেকেই তাকে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দাবি করছেন, যদিও ভক্তদের একাংশের মতে তিনি কেবলই উদযাপনের আনন্দে মেতে ছিলেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হানিয়া আমির হ্যালোউইন উৎসবের জন্য নিজের চুল সাজাতে ব্যস্ত। হেয়ার স্টাইলিস্টকে নিজের আসল চুল লুকিয়ে একটি উইগ পরিয়ে দিতে বলছেন তিনি। সাজগোজের পুরো সময়জুড়েই তাকে অত্যন্ত উৎফুল্ল এবং উদযাপন নিয়ে দারুণ উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কোন স্থানে এবং কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই মন্তব্যের ঘরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ দর্শকরা। কেউ কেউ তার তোতলামি ও ঝিমুনো ভাব লক্ষ করে কঠোর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এখন ধ্বংসের পথে এবং হানিয়া আমির মাদক, ইনজেকশন ও অ্যালকোহলের মতো খারাপ অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, কোনো পার্লারে বসে তিনি এতটাই মাতাল হয়ে আছেন যে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি হেয়ার স্টাইলিস্টের থেকেও নাকি আলাদা অনুভূতি পাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মদ কি নারীদেরও এভাবে গ্রাস করে নিল—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সেই নেটিজেন। পরিস্থিতি হালকা করার কোনো সুযোগ না দেখে আরও এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, তারকাদের মনে রাখা উচিত চারপাশে ক্যামেরা রয়েছে, কারণ ঘটনাটিকে বেশ বিশৃঙ্খল মনে হচ্ছে।

তবে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে হানিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বহু অনুরাগী ও সাধারণ দর্শক। এক নেটিজেন লেখেন, মনে হচ্ছে তিনি সদ্য ঘুম থেকে উঠে শুটিং বা দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন; এর মধ্যে মাদক বা মদ খাওয়ার মতো কিছু নেই যা দাবি করা হচ্ছে। অন্যাংশের মতে, সাধারণ একটা মেয়ে যখন নিজের চুল সাজাচ্ছে, তখন সবাই অযথা কেলেঙ্কারি খোঁজার চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই অভিনেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, সবাই হানিয়াকে প্রাণবন্ত ও চঞ্চল দেখতে পছন্দ করে, কিন্তু নেশাগ্রস্ত বা অন্য কিছুর প্রভাবে থাকা অবস্থায় নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এত জল্পনা-কল্পনা ও তর্কবিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত হানিয়া আমির কিংবা তার দলের পক্ষ থেকে এই ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জনপ্রিয় এই পাকিস্তানি তারকাকে বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইসলামাবাদে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত এই তরুণীর টিকটকে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম শামসো বিবি। তার বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

বিবির বাবা পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মেয়ে একটি ফোন কল পান। ফোনে তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়েছিল।

ফোন পাওয়ার পর বিবি তার ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে নিয়ে বের হন। তারা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে মোটরবাইকে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একটি গুলি বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে তার বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিবির বাবা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার মেয়ের আর্থিক লেনদেন ছিল। তার অভিযোগ, অর্থ ফেরতের দাবি নিয়ে বিবিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে পূর্বে ইসলামাবাদে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি।

নিহতের বাবার দেয়া তথ্যমতে, বিবি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিলেন। প্ল্যাটফর্মটিতে তার প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার ছিল।

শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তার আসন্ন সিনেমা ‘ইথা’ ঘিরে যেমন দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি ছবিটির জন্য অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইথা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রদ্ধা কাপুর প্রায় ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রী কিংবা ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। খবরটি সত্যি হলে, এটি শ্রদ্ধার আগের পারিশ্রমিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

‘স্ত্রী ২’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এবার ‘ইথা’য় তাকে দেখা যাবে একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে।

জানা গেছে, লক্ষ্মণ উটেকর পরিচালিত ‘ইথা’ প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বিঠাবাঈ নারায়ণগাঁওকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে। ছবিতে শ্রদ্ধাকে আগের গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের বাইরে ভিন্ন লুকে দেখা যাবে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শ্রদ্ধার লুক ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।

আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ইথা’র। সিনেমাটি শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পারিশ্রমিক ১৫ কোটি রুপিতে উন্নীত হওয়ার খবরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই থাকছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

২৯ বছর ধরে ছেলের মৃত্যুর রহস্যের বিচার দেখার অপেক্ষায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। সেই অপেক্ষার মধ্যে এলো নতুন খবর— সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ডন। খবরটি শোনার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নীলা চৌধুরী। কণ্ঠে ফিরে আসে দীর্ঘদিনের কষ্ট, ক্ষোভ আর বিচারের প্রত্যাশা।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডনকে আটক করা হয়। পরে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্টার নিউজকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বুকের মধ্যে সালমান শাহ ছিল, আছে, থাকবে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আজ আমার ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করা হলো।’

ডনের বিরুদ্ধে সালমান শাহকে নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দায়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন সময় ডন তার ছেলেকে বেয়াদব হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং তাকে নিয়ে নানা মিথ্যা কথা বলেছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন অনেক কিছু করেছে। আমাকে অপমান করেছে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলেছে। আমার ছেলেকে বেয়াদব বানিয়েছে।’

নিজের বাড়িতে সালমান শাহকে নিয়ে ডনের দেয়া একটি বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেন তিনি। নীলা চৌধুরীর দাবি, ডন তার ঘরে কখনো যাননি।

তিনি বলেন, ‘সে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে, যে আমার ছেলে আমাকে মারতে দেখেছে। সে তো আমার ঘরে কোনোদিন যায় নাই, আমার বিল্ডিংয়ের ওপর কোনোদিন ওঠেই নাই।’

ডনের গ্রেপ্তারের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিনের তদন্তের পর সত্য সামনে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে সেই সত্য তার ছেলে দেখে যেতে পারবে না— এটাই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর বিচার। আমার প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। আমার মনটা কাঁদছে। সবই প্রমাণ হবে, কিন্তু সালমান দেখতে পাবে না।’

সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার কথাও জানান তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ও বর্তমান সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বর্তমান সরকারের ওপর আমার নির্ভরশীলতা আছে। বিচার এখন হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নানা বাধার মধ্যেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার যারা আছেন, তারা অনেকে বাধাগ্রস্ত হয়ে হয়ত করতে পারেন নাই কিন্তু তারাও সাহায্য করছে, তারাও ভক্ত।’

সালমান শাহর ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তার মা। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের ভালোবাসা ও দাবির কারণেই বিষয়টি মানুষের মনে এখনও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমিও কৃতজ্ঞ। এই ভক্ত বাচ্চারা না থাকলে আজকেও তারা কাঁদছে।’

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি একটা না, ৪২ থেকে ৪৬টা মৃত্যুর বিচার চাই। আমার বাচ্চার সঙ্গে যারা আত্মহত্যা করছে, তারা মরে গেছে— আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব করুক। এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে সকলের বিচার হোক। সেটাই আমি চাই।’

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশবাসীর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।’