৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির

সৌদি আরব ও ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারসহ বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পর্যটন, অবকাঠামো ও সংস্কৃতি খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

গত সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরকালে প্রথমবারের মতো ফ্রাঙ্কো-সৌদি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এসব চুক্তি সই করা হয়।

স্বাক্ষরিত নতুন এ চুক্তির লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দু’দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় সহজতর করা।

এচাড়া প্রাচীন মরূদ্যান শহর আলউলা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তিও সংশোধন ও সম্প্রসারণ করেছে দুই দেশ। নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রত্নতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ, পর্যটন, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং আলউলার জীবমণ্ডল সংরক্ষণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া প্যারিস অঞ্চলের সার্জি-পন্তোয়াজ শহরে কিদ্দিয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য ৬ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি থিম ও বিনোদন পার্ক, আবাসন, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরিতেও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।

দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরামেও বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে জেদ্দা ইসলামিক বন্দরের টার্মিনাল-৪ উন্নয়নে ৪৩৪ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের চুক্তি করেছে ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল।

রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন সরবরাহে ফরাসি প্রতিষ্ঠান আলস্টমকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ৭ নম্বর লাইনের ট্রেন সংযোজন কারখানা সৌদি আরবে স্থাপনে বিনিয়োগের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।

ফরাসি পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানি ওরানো ও সৌদি খনি কোম্পানি মাআদেন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা করেছে। ফরাসি এআই কোম্পানি মিস্ত্রাল এআই এবং সৌদি এআই কোম্পানি হিউমেইনও কম্পিউটিং সক্ষমতা, এআই মডেল তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো গড়তে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া সৌদি এনার্জির বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং রিয়াদ মেট্রো, আলউলার শারান হোটেল ও অন্যান্য প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে ফরাসি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিপিফ্রান্স অ্যাসুরেন্স এক্সপোর্ট।

সৌদি এয়ারলাইনসের জন্য চারটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন নিয়েও সৌদি গ্রুপ, সৌদি এক্সিম ব্যাংক ও ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল সিআইবি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

এদিকে ২০৩০ সালের রিয়াদ এক্সপো ও ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আয়োজন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আতু ফ্রান্স ও এক্সপো ২০৩০ রিয়াদ কোম্পানিও সমঝোতা করেছে।

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানো ও সহজ করতে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী ফাহাদ বিন আবদুল জলিল আল-সাইফ এবং ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলাঁ ল্যস্কুরও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এতে বিনিয়োগের সুযোগ, কৌশলগত প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে তথ্য বিনিময় এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ ও আল জাজিরা

অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

মিশরে টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদক তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি, মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন ও পাচারের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগও রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সারাহ খলিফার দাবি, মাদকবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে মাদকের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, জীবনে এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারকাজে ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তার শারীরিক হাবভাব এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের টিম ও মেকআপ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে যাওয়া এবং ঢুলুঢুলু চোখ দেখে অনেকেই তাকে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দাবি করছেন, যদিও ভক্তদের একাংশের মতে তিনি কেবলই উদযাপনের আনন্দে মেতে ছিলেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হানিয়া আমির হ্যালোউইন উৎসবের জন্য নিজের চুল সাজাতে ব্যস্ত। হেয়ার স্টাইলিস্টকে নিজের আসল চুল লুকিয়ে একটি উইগ পরিয়ে দিতে বলছেন তিনি। সাজগোজের পুরো সময়জুড়েই তাকে অত্যন্ত উৎফুল্ল এবং উদযাপন নিয়ে দারুণ উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কোন স্থানে এবং কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই মন্তব্যের ঘরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ দর্শকরা। কেউ কেউ তার তোতলামি ও ঝিমুনো ভাব লক্ষ করে কঠোর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এখন ধ্বংসের পথে এবং হানিয়া আমির মাদক, ইনজেকশন ও অ্যালকোহলের মতো খারাপ অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, কোনো পার্লারে বসে তিনি এতটাই মাতাল হয়ে আছেন যে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি হেয়ার স্টাইলিস্টের থেকেও নাকি আলাদা অনুভূতি পাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মদ কি নারীদেরও এভাবে গ্রাস করে নিল—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সেই নেটিজেন। পরিস্থিতি হালকা করার কোনো সুযোগ না দেখে আরও এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, তারকাদের মনে রাখা উচিত চারপাশে ক্যামেরা রয়েছে, কারণ ঘটনাটিকে বেশ বিশৃঙ্খল মনে হচ্ছে।

তবে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে হানিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বহু অনুরাগী ও সাধারণ দর্শক। এক নেটিজেন লেখেন, মনে হচ্ছে তিনি সদ্য ঘুম থেকে উঠে শুটিং বা দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন; এর মধ্যে মাদক বা মদ খাওয়ার মতো কিছু নেই যা দাবি করা হচ্ছে। অন্যাংশের মতে, সাধারণ একটা মেয়ে যখন নিজের চুল সাজাচ্ছে, তখন সবাই অযথা কেলেঙ্কারি খোঁজার চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই অভিনেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, সবাই হানিয়াকে প্রাণবন্ত ও চঞ্চল দেখতে পছন্দ করে, কিন্তু নেশাগ্রস্ত বা অন্য কিছুর প্রভাবে থাকা অবস্থায় নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এত জল্পনা-কল্পনা ও তর্কবিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত হানিয়া আমির কিংবা তার দলের পক্ষ থেকে এই ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জনপ্রিয় এই পাকিস্তানি তারকাকে বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইসলামাবাদে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত এই তরুণীর টিকটকে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম শামসো বিবি। তার বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

বিবির বাবা পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মেয়ে একটি ফোন কল পান। ফোনে তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়েছিল।

ফোন পাওয়ার পর বিবি তার ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে নিয়ে বের হন। তারা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে মোটরবাইকে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একটি গুলি বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে তার বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিবির বাবা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার মেয়ের আর্থিক লেনদেন ছিল। তার অভিযোগ, অর্থ ফেরতের দাবি নিয়ে বিবিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে পূর্বে ইসলামাবাদে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি।

নিহতের বাবার দেয়া তথ্যমতে, বিবি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিলেন। প্ল্যাটফর্মটিতে তার প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার ছিল।

শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শ্রদ্ধা কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, উত্তাল নেটদুনিয়া!

বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তার আসন্ন সিনেমা ‘ইথা’ ঘিরে যেমন দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি ছবিটির জন্য অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইথা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রদ্ধা কাপুর প্রায় ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রী কিংবা ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। খবরটি সত্যি হলে, এটি শ্রদ্ধার আগের পারিশ্রমিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

‘স্ত্রী ২’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এবার ‘ইথা’য় তাকে দেখা যাবে একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে।

জানা গেছে, লক্ষ্মণ উটেকর পরিচালিত ‘ইথা’ প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বিঠাবাঈ নারায়ণগাঁওকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে। ছবিতে শ্রদ্ধাকে আগের গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের বাইরে ভিন্ন লুকে দেখা যাবে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শ্রদ্ধার লুক ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।

আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ইথা’র। সিনেমাটি শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পারিশ্রমিক ১৫ কোটি রুপিতে উন্নীত হওয়ার খবরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই থাকছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
ডনের গ্রেপ্তারে আবেগাপ্লুত নীলা চৌধুরী, সালমান শাহর ন্যায়বিচারের আশা!

২৯ বছর ধরে ছেলের মৃত্যুর রহস্যের বিচার দেখার অপেক্ষায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। সেই অপেক্ষার মধ্যে এলো নতুন খবর— সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ডন। খবরটি শোনার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নীলা চৌধুরী। কণ্ঠে ফিরে আসে দীর্ঘদিনের কষ্ট, ক্ষোভ আর বিচারের প্রত্যাশা।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডনকে আটক করা হয়। পরে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্টার নিউজকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বুকের মধ্যে সালমান শাহ ছিল, আছে, থাকবে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আজ আমার ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করা হলো।’

ডনের বিরুদ্ধে সালমান শাহকে নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দায়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন সময় ডন তার ছেলেকে বেয়াদব হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং তাকে নিয়ে নানা মিথ্যা কথা বলেছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন অনেক কিছু করেছে। আমাকে অপমান করেছে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলেছে। আমার ছেলেকে বেয়াদব বানিয়েছে।’

নিজের বাড়িতে সালমান শাহকে নিয়ে ডনের দেয়া একটি বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেন তিনি। নীলা চৌধুরীর দাবি, ডন তার ঘরে কখনো যাননি।

তিনি বলেন, ‘সে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে, যে আমার ছেলে আমাকে মারতে দেখেছে। সে তো আমার ঘরে কোনোদিন যায় নাই, আমার বিল্ডিংয়ের ওপর কোনোদিন ওঠেই নাই।’

ডনের গ্রেপ্তারের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নীলা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিনের তদন্তের পর সত্য সামনে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে সেই সত্য তার ছেলে দেখে যেতে পারবে না— এটাই তার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর বিচার। আমার প্রতিক্রিয়ার কিছু নাই। আমার মনটা কাঁদছে। সবই প্রমাণ হবে, কিন্তু সালমান দেখতে পাবে না।’

সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার কথাও জানান তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে ও বর্তমান সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বর্তমান সরকারের ওপর আমার নির্ভরশীলতা আছে। বিচার এখন হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নানা বাধার মধ্যেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার যারা আছেন, তারা অনেকে বাধাগ্রস্ত হয়ে হয়ত করতে পারেন নাই কিন্তু তারাও সাহায্য করছে, তারাও ভক্ত।’

সালমান শাহর ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তার মা। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের ভালোবাসা ও দাবির কারণেই বিষয়টি মানুষের মনে এখনও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমিও কৃতজ্ঞ। এই ভক্ত বাচ্চারা না থাকলে আজকেও তারা কাঁদছে।’

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি একটা না, ৪২ থেকে ৪৬টা মৃত্যুর বিচার চাই। আমার বাচ্চার সঙ্গে যারা আত্মহত্যা করছে, তারা মরে গেছে— আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব করুক। এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে সকলের বিচার হোক। সেটাই আমি চাই।’

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশবাসীর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।’